Dhaka ০৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চিলমারীতে শিশু আয়শার হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি গাইবান্ধায় অজ্ঞাত নারীসহ দুজনের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক মাহমুদুল গণি রিজনের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি আত্রাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু নবাবগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ইরানের ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ: সামনে এল ৫ বড় শর্ত সরকারি নিবন্ধন পেলো জিইউকে-সীড্স প্রকল্পের ৬টি সিবিও  কুলাউড়া সীমান্তে ৯ লাখ টাকার ভারতীয় সিগারেট জব্দ গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১

গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৭ Time View

প্রতিনিধি গাইবান্ধা :

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জসহ জেলার সাতটি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি ও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বোরো ধান ও ভুট্টাসহ চলতি মৌসুমের প্রায় ৩৫৬ হেক্টর জমির ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর, মহিমাগঞ্জ, সাপমারা এবং কামারদহ ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে এই প্রলয়ংকরী কালবৈশাখী বয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় এসব এলাকায় অসংখ্য ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়। এছাড়া অসংখ্য বড় গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা ভেঙে জনজীবনে সাময়িক স্থবিরতা নেমে আসে। এদিকে সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও  সাদুল্যাপুর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রবল ঝড় ও বাতাসে মাঠের ফসল মাটিতে নুয়ে পড়ে এবং উপড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় মোট ২১২ হেক্টর জমির বোরো ধান, ৫৪ দশমিক ৫০ হেক্টর জমির ভুট্টা, ৮১ হেক্টর জমির শাকসবজি, ৮ হেক্টর জমির আউশ ধানের বীজতলা এবং ৫ হেক্টর জমির কলাবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠে বোরো ধান যখন পেকে সোনালি রং ধারণ করেছে এবং আর কিছুদিন পরই ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা, ঠিক সে সময়ই এই দুর্যোগ কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বাতাসে ধানের শীষ নুয়ে পড়ায় এবং শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সারা বছরের খোরাকি জোগাড় ও ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা।

এদিকে ঝড়ের তাণ্ডব থামার পরপরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল এবং বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারিভাবে দ্রুত সব ধরনের আর্থিক ও পুনর্বাসন সহায়তা পান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চিলমারীতে শিশু আয়শার হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ

গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

Update Time : ০৪:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রতিনিধি গাইবান্ধা :

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জসহ জেলার সাতটি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি ও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বোরো ধান ও ভুট্টাসহ চলতি মৌসুমের প্রায় ৩৫৬ হেক্টর জমির ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর, মহিমাগঞ্জ, সাপমারা এবং কামারদহ ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে এই প্রলয়ংকরী কালবৈশাখী বয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় এসব এলাকায় অসংখ্য ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়। এছাড়া অসংখ্য বড় গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা ভেঙে জনজীবনে সাময়িক স্থবিরতা নেমে আসে। এদিকে সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও  সাদুল্যাপুর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রবল ঝড় ও বাতাসে মাঠের ফসল মাটিতে নুয়ে পড়ে এবং উপড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় মোট ২১২ হেক্টর জমির বোরো ধান, ৫৪ দশমিক ৫০ হেক্টর জমির ভুট্টা, ৮১ হেক্টর জমির শাকসবজি, ৮ হেক্টর জমির আউশ ধানের বীজতলা এবং ৫ হেক্টর জমির কলাবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠে বোরো ধান যখন পেকে সোনালি রং ধারণ করেছে এবং আর কিছুদিন পরই ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা, ঠিক সে সময়ই এই দুর্যোগ কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বাতাসে ধানের শীষ নুয়ে পড়ায় এবং শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সারা বছরের খোরাকি জোগাড় ও ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা।

এদিকে ঝড়ের তাণ্ডব থামার পরপরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল এবং বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারিভাবে দ্রুত সব ধরনের আর্থিক ও পুনর্বাসন সহায়তা পান।