Dhaka ০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবার কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ নওগাঁ কারা হেফাজতে বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার সাঘাটায় ‘চর’ পাইলট প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত বীরমুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও ‎দাফনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন সুন্দরগঞ্জে ট্রাক-অটোভ্যান সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ১

সাঘাটার পদুমশহরে ধনঞ্জয়ের জমি প্রতিবেশিরা বিআরএস রেকর্ড করে বেদখলের অভিযোগ!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৯২ Time View

সাঘাটা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নের ডিমলা পদুমশহর (দাসপাড়া) গ্রামের মৃত্যু ধনঞ্জয়ের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভুয়া দলিল দিয়ে বিআরএস রেকর্ড করে জোরপূর্বক দখল করে খাচ্ছে পার্শ্ববর্তী একটি পরিবার। অথচ ধনঞ্জয়ের স্ত্রী পুত্র মানবেতর জীবনযাপন করছে। সঠিক বিচারের আশায় ধনঞ্জয়ের পুত্র খোকন চন্দ্র কোট কাচারি ও থানা থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান মেম্বারের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সবাই সত্য ঘটনা জেনেও না জানার ভান করে বসে আছে।

একটি অটোভ্যান চালিয়ে নিজের সংসার ও অসুস্থ মা’কে ভরণ পোষণ, ওষুধপত্র কিনে দিতে হিমশিম খাচ্ছে ধনঞ্জয়ের একমাত্র পুত্র খোকন। মামলা চালানোর মত সামর্থ তার নেই। অথচ তার ৪৭.৫ শতক জমি স্থানীয় প্রভাবশালিরা দখল করে খাচ্ছে। জমিতে গেলেই ওই প্রভাবশালীরা খুন জখমের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয় খোকনকে। এসব সমাজের লোকজন দেখেও দেখে না।

জানা গেছে, ১৯৪৫ সালে ১৬ জানুয়ারি রাধা সুন্দরী দ্যাশ্যার নিকট থেকে দলিল মুলে ধনঞ্জয় সহ আরো ৫ জন ৪ একর ১১ শতক জমি ক্রয় করে চাষাবাদ করে খাচ্ছিল।

১৯৭৫ সালে ধনঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তি পাশ্ববর্তী দেবেন্দ্রের স্ত্রী হেমন্ত কুমার বালা ও দেবেন্দ্রনাথ গংরা তিনটি দলিল মুলে দাবি করে। যেখানে জমি বিক্রেতা বুদারাম দাস। কথিত বুদারাম দাসের জমি কিনে তারা ধনঞ্জয়ের জমি দখলে নিতে চায়। তবে তারা ওই দলিল দেখিয়ে বিআরএস রেকর্ড ধরতে পারেনি।

অপরদিকে ধনঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী পুত্র থাকলেও আরেকজন দাবি করেন ধনঞ্জয়ের কোন স্ত্রী বা পুত্র না থাকায় তার সম্পত্তি পরিত্যক্ত হয় এবং তার কথিত ভাগিনা অমুল্য চন্দ্র দাস পায়। আর সেই অমুল্য চন্দ্র দাসের কাছে থেকে জমি দলিল করে নিয়ে আতাউর রহমান ও নুরুল ইসলাম গং। সেই দলিল দিয়ে তারা ধনঞ্জয়ের জমি বিআরএস রেকর্ড করে নিয়েছে তারা।

অথচ ধনঞ্জয়ের স্ত্রী শেফালী রানী এখনো জীবিত। তার পুত্র খোকন জীবিত।

স্থানীয়রা জানান, ধনঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী শেফালী রানী দাস তার একমাত্র পুত্র খোকন (৭)
কে নিয়ে সংসার করতে ছিল। এসময় দেবেন্দ্রনাথ ধনঞ্জয়ের স্ত্রী ও পুত্রকে বাড়ি থেকে বের করে ট্রেনে তুলে দেয়। অসহায় শেফালী রানী রংপুরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে। ছেলে খোকন বড় হলে ১৯৯৫ সালে শেফালী রানী দাস তার স্বামীর পৈত্রিক ভিটেতে চলে আসে। সে সময় বিআরএস রেকর্ড শুরু হলে তার পিতার দলিলের কিছু সম্পত্তি খোকনের নামে রেকর্ড হয়।

ধনঞ্জয়ের বাকি ৪৭ শতক জমি পরিত্যক্ত দেখিয়ে তার ভাগ্নে অমুল্য চন্দ্র দাসের থেকে দলিল করে নিয়ে আতাউর রহমান ও নুরুল ইসলামেরা বিআরএস রেকর্ড করে নেয়।

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত গড়ালে সেখানে বিজ্ঞ আদালত ২০২৩ সালে অমূল্য চন্দ্রের দলিল বাতিল দেখিয়ে ধনঞ্জয়ের ওয়ারিশ খোকনের নামে রয়েছে বলে মতামত দেন।

কিন্তু বিআরএস রেকর্ড তাদের নামে থাকায় তারা বলে রেকর্ড কেটে জমিতে আসতে হবে। তাছাড়া জমিতে গেলে খুন জখম করিবে।

তাদের ভয়ে ধনঞ্জয়ের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে খোকন চন্দ্র দাস জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

সাঘাটার পদুমশহরে ধনঞ্জয়ের জমি প্রতিবেশিরা বিআরএস রেকর্ড করে বেদখলের অভিযোগ!

Update Time : ০৬:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সাঘাটা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নের ডিমলা পদুমশহর (দাসপাড়া) গ্রামের মৃত্যু ধনঞ্জয়ের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভুয়া দলিল দিয়ে বিআরএস রেকর্ড করে জোরপূর্বক দখল করে খাচ্ছে পার্শ্ববর্তী একটি পরিবার। অথচ ধনঞ্জয়ের স্ত্রী পুত্র মানবেতর জীবনযাপন করছে। সঠিক বিচারের আশায় ধনঞ্জয়ের পুত্র খোকন চন্দ্র কোট কাচারি ও থানা থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান মেম্বারের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সবাই সত্য ঘটনা জেনেও না জানার ভান করে বসে আছে।

একটি অটোভ্যান চালিয়ে নিজের সংসার ও অসুস্থ মা’কে ভরণ পোষণ, ওষুধপত্র কিনে দিতে হিমশিম খাচ্ছে ধনঞ্জয়ের একমাত্র পুত্র খোকন। মামলা চালানোর মত সামর্থ তার নেই। অথচ তার ৪৭.৫ শতক জমি স্থানীয় প্রভাবশালিরা দখল করে খাচ্ছে। জমিতে গেলেই ওই প্রভাবশালীরা খুন জখমের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয় খোকনকে। এসব সমাজের লোকজন দেখেও দেখে না।

জানা গেছে, ১৯৪৫ সালে ১৬ জানুয়ারি রাধা সুন্দরী দ্যাশ্যার নিকট থেকে দলিল মুলে ধনঞ্জয় সহ আরো ৫ জন ৪ একর ১১ শতক জমি ক্রয় করে চাষাবাদ করে খাচ্ছিল।

১৯৭৫ সালে ধনঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তি পাশ্ববর্তী দেবেন্দ্রের স্ত্রী হেমন্ত কুমার বালা ও দেবেন্দ্রনাথ গংরা তিনটি দলিল মুলে দাবি করে। যেখানে জমি বিক্রেতা বুদারাম দাস। কথিত বুদারাম দাসের জমি কিনে তারা ধনঞ্জয়ের জমি দখলে নিতে চায়। তবে তারা ওই দলিল দেখিয়ে বিআরএস রেকর্ড ধরতে পারেনি।

অপরদিকে ধনঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী পুত্র থাকলেও আরেকজন দাবি করেন ধনঞ্জয়ের কোন স্ত্রী বা পুত্র না থাকায় তার সম্পত্তি পরিত্যক্ত হয় এবং তার কথিত ভাগিনা অমুল্য চন্দ্র দাস পায়। আর সেই অমুল্য চন্দ্র দাসের কাছে থেকে জমি দলিল করে নিয়ে আতাউর রহমান ও নুরুল ইসলাম গং। সেই দলিল দিয়ে তারা ধনঞ্জয়ের জমি বিআরএস রেকর্ড করে নিয়েছে তারা।

অথচ ধনঞ্জয়ের স্ত্রী শেফালী রানী এখনো জীবিত। তার পুত্র খোকন জীবিত।

স্থানীয়রা জানান, ধনঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী শেফালী রানী দাস তার একমাত্র পুত্র খোকন (৭)
কে নিয়ে সংসার করতে ছিল। এসময় দেবেন্দ্রনাথ ধনঞ্জয়ের স্ত্রী ও পুত্রকে বাড়ি থেকে বের করে ট্রেনে তুলে দেয়। অসহায় শেফালী রানী রংপুরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে। ছেলে খোকন বড় হলে ১৯৯৫ সালে শেফালী রানী দাস তার স্বামীর পৈত্রিক ভিটেতে চলে আসে। সে সময় বিআরএস রেকর্ড শুরু হলে তার পিতার দলিলের কিছু সম্পত্তি খোকনের নামে রেকর্ড হয়।

ধনঞ্জয়ের বাকি ৪৭ শতক জমি পরিত্যক্ত দেখিয়ে তার ভাগ্নে অমুল্য চন্দ্র দাসের থেকে দলিল করে নিয়ে আতাউর রহমান ও নুরুল ইসলামেরা বিআরএস রেকর্ড করে নেয়।

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত গড়ালে সেখানে বিজ্ঞ আদালত ২০২৩ সালে অমূল্য চন্দ্রের দলিল বাতিল দেখিয়ে ধনঞ্জয়ের ওয়ারিশ খোকনের নামে রয়েছে বলে মতামত দেন।

কিন্তু বিআরএস রেকর্ড তাদের নামে থাকায় তারা বলে রেকর্ড কেটে জমিতে আসতে হবে। তাছাড়া জমিতে গেলে খুন জখম করিবে।

তাদের ভয়ে ধনঞ্জয়ের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে খোকন চন্দ্র দাস জানান।