
স্টাফ রিপোর্টার, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে লাভলী বেগম (৩৮) নামের এক বিধবা নারীর রোপণ করা কাঁচা আমন ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা। ভুক্তভোগী লাভলী বেগম উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারায় গ্রামের মৃত ফয়জার রহমানের স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লাভলী বেগম ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর (দলিল নং- ৭০০১) সোনারায় মৌজায় ১৭ দশমিক ৫ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ওই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রতিবেশী মৃত ইছিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারী ও আবুল কালামের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।
এ নিয়ে লাভলী বেগম গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি পিটিশন মামলা (নং ৩৫২/২০২৬) দায়ের করেন। একই জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতেও একটি মামলা (নং ৪৪৩/২০২৬) চলমান রয়েছে।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নালিশি জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জমির দখল বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে এবং উভয় পক্ষকে প্রমাণাদিসহ লিখিত বক্তব্য দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়।
লাভলী বেগমের অভিযোগ, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও গত সোমবার সকালে আব্দুল বারী ও আবুল কালাম ভাড়াটে লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ তার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে আবাদ করা কাঁচা আমন ধান কেটে নিয়ে যান, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ধান কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা লাঠি ও কাস্তে উঁচিয়ে তাকে ধাওয়া করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল বারী বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জমিটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। ধান পেকে যাওয়ায় আমরা তা কেটেছি। লাভলী বেগমই মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছেন এবং আমাদের জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।’
সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Reporter Name 















