Dhaka ০৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাগের জলে জেগেছে সোনালি সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৭ Time View
নওগাঁ প্রতিনিধি:  অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি থাকায় চলতি মৌসুমে নওগাঁয় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে ভালো হয়েছে পাটের আঁশের গুণগত মানও। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মানসম্মত পাটের চাহিদা বেড়েছে বাজারে। আর চাহিদা থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা।
জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে মান ও জাতভেদে প্রতি মণ শুকনা পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মণপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ৬০০ টাকা। কোথাও কোথাও ভালো মানের পাটের দাম আরও বাড়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
উৎপাদন ভালো, জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট নেই এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর পাট চাষে স্বস্তি ফিরেছে নওগাঁর কৃষকদের মধ্যে। তাদের প্রত্যাশা, বাজারে বর্তমান এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে পাট চাষ আবারও লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হবে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে নওগাঁয় পাটের আবাদ ও উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন। ২০২২-২০২৩ মৌসুমে ৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে আবাদ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৬০ হেক্টরে। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয় ১২ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। এরপর ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৯ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন পাট। চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে। এ পরিমাণ জমি থেকে সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন পাট।
ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জমি থেকে পাট কেটে জাগ দিয়েছেন। জাগ থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর তা ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করছেন তারা। মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় পাট বিক্রি করে সন্তোষ প্রকাশ করছেন চাষিরা।
জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ শুকনা পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে মান ও জাতভেদে জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে প্রতি মণ পাটের দাম উঠছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে জমি চাষ, বীজ, সার, পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোসহ গড়ে খরচ হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ করছেন কৃষকরা।
জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে করে পাট নিয়ে হাটে আসছেন কৃষকরা। কারও ভ্যানে, কারও নছিমনে আবার কেউ অন্যান্য যানবাহনে করে নিয়ে আসছেন দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট।
হাটের বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শুকনা পাট। ব্যবসায়ীরা পাটের আঁশের রং, মান, আর্দ্রতা ও জাত দেখে দরদাম করছেন। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় অনেক কৃষকই একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দরদাম করে পাট বিক্রি করছেন। মান ও জাতভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এতে বাজারে পাট নিয়ে আসা কৃষকদের মধ্যেও দেখা গেছে সন্তোষের ছাপ।
নওগাঁ সদর উপজেলার খলিশাকুড়ি এলাকার পাটচাষি দুলাল হোসেন বলেন, সতীহাটে পাট বিক্রি করতে এসেছেন তিনি। এবার ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট জাগ দেওয়ার আগেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা অগ্রিম ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে ১০ মণ পাটের বুকিং দিয়েছিলেন। অবশিষ্ট পাট এখন ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। গত বছর যে দামে পাট বিক্রি করেছেন, এবার তার চেয়ে মণপ্রতি ৭০০ টাকা বেশি পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈণম গ্রামের পাটচাষি অতিশ কুমার বলেন, এবার পাটের বাজারদর বেশ ভালো। পাট কাটার পর পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজ বেশ শ্রমসাধ্য। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে জলাশয়গুলোতে পানি থাকায় জাগ দেওয়ার জন্য বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পানির কারণে সহজেই পাট জাগ দিতে পেরেছেন। এতে পাটের আঁশের রংও ভালো হয়েছে। ভালো রং ও মানের কারণে বাজারে চাহিদাও রয়েছে। কিছুদিন ঘরে রেখে বিক্রি করতে পারলে মণপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
একই এলাকার পাটচাষি অনুপ কুমার বলেন, বর্তমানে পাটের দাম ভালো। এবার পানির সংকটও হয়নি। বাজারে প্রকারভেদে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত পাট বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু পাট বিক্রি করেছেন। আরও কিছু পাট রেখে দিয়েছেন। কয়েকদিন পর সেগুলো বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।
কৃষি বিভাগ বলছে, পাটকে আবারও কৃষকের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের পাট চাষে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ পরিমাণ জমি থেকে ৮ হাজার ৯১০ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ পাটকে আবারও ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে সুপরিচিত করতে কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করছে। প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৮০০ জন পাটচাষিকে বিনামূল্যে বীজ, সারসহ পরিবহন খরচ এবং আনুষঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পাট শুধু আঁশ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পাটজাত পণ্য তৈরিতেও পাটের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষক পর্যায়ে পাটের চাহিদা ও দাম দুটিই বাড়বে। কয়েক বছর ধরে আবাদ ও উৎপাদন কমলেও এবার ভালো ফলন ও বাজারদর তাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। পর্যাপ্ত পানি, অনুকূল আবহাওয়া এবং ভালো বাজারদর অব্যাহত থাকলে আগামীতে পাটের আবাদে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জাগের জলে জেগেছে সোনালি সম্ভাবনা

Update Time : ০৩:২৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি:  অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি থাকায় চলতি মৌসুমে নওগাঁয় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে ভালো হয়েছে পাটের আঁশের গুণগত মানও। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মানসম্মত পাটের চাহিদা বেড়েছে বাজারে। আর চাহিদা থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা।
জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে মান ও জাতভেদে প্রতি মণ শুকনা পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মণপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ৬০০ টাকা। কোথাও কোথাও ভালো মানের পাটের দাম আরও বাড়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
উৎপাদন ভালো, জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট নেই এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর পাট চাষে স্বস্তি ফিরেছে নওগাঁর কৃষকদের মধ্যে। তাদের প্রত্যাশা, বাজারে বর্তমান এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে পাট চাষ আবারও লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হবে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে নওগাঁয় পাটের আবাদ ও উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন। ২০২২-২০২৩ মৌসুমে ৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে আবাদ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৬০ হেক্টরে। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয় ১২ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। এরপর ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৯ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন পাট। চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে। এ পরিমাণ জমি থেকে সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন পাট।
ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জমি থেকে পাট কেটে জাগ দিয়েছেন। জাগ থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর তা ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করছেন তারা। মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় পাট বিক্রি করে সন্তোষ প্রকাশ করছেন চাষিরা।
জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ শুকনা পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে মান ও জাতভেদে জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে প্রতি মণ পাটের দাম উঠছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে জমি চাষ, বীজ, সার, পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোসহ গড়ে খরচ হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ করছেন কৃষকরা।
জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে করে পাট নিয়ে হাটে আসছেন কৃষকরা। কারও ভ্যানে, কারও নছিমনে আবার কেউ অন্যান্য যানবাহনে করে নিয়ে আসছেন দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট।
হাটের বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শুকনা পাট। ব্যবসায়ীরা পাটের আঁশের রং, মান, আর্দ্রতা ও জাত দেখে দরদাম করছেন। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় অনেক কৃষকই একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দরদাম করে পাট বিক্রি করছেন। মান ও জাতভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এতে বাজারে পাট নিয়ে আসা কৃষকদের মধ্যেও দেখা গেছে সন্তোষের ছাপ।
নওগাঁ সদর উপজেলার খলিশাকুড়ি এলাকার পাটচাষি দুলাল হোসেন বলেন, সতীহাটে পাট বিক্রি করতে এসেছেন তিনি। এবার ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট জাগ দেওয়ার আগেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা অগ্রিম ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে ১০ মণ পাটের বুকিং দিয়েছিলেন। অবশিষ্ট পাট এখন ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। গত বছর যে দামে পাট বিক্রি করেছেন, এবার তার চেয়ে মণপ্রতি ৭০০ টাকা বেশি পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈণম গ্রামের পাটচাষি অতিশ কুমার বলেন, এবার পাটের বাজারদর বেশ ভালো। পাট কাটার পর পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজ বেশ শ্রমসাধ্য। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে জলাশয়গুলোতে পানি থাকায় জাগ দেওয়ার জন্য বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পানির কারণে সহজেই পাট জাগ দিতে পেরেছেন। এতে পাটের আঁশের রংও ভালো হয়েছে। ভালো রং ও মানের কারণে বাজারে চাহিদাও রয়েছে। কিছুদিন ঘরে রেখে বিক্রি করতে পারলে মণপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
একই এলাকার পাটচাষি অনুপ কুমার বলেন, বর্তমানে পাটের দাম ভালো। এবার পানির সংকটও হয়নি। বাজারে প্রকারভেদে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত পাট বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু পাট বিক্রি করেছেন। আরও কিছু পাট রেখে দিয়েছেন। কয়েকদিন পর সেগুলো বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।
কৃষি বিভাগ বলছে, পাটকে আবারও কৃষকের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের পাট চাষে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ পরিমাণ জমি থেকে ৮ হাজার ৯১০ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ পাটকে আবারও ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে সুপরিচিত করতে কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করছে। প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৮০০ জন পাটচাষিকে বিনামূল্যে বীজ, সারসহ পরিবহন খরচ এবং আনুষঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পাট শুধু আঁশ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পাটজাত পণ্য তৈরিতেও পাটের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষক পর্যায়ে পাটের চাহিদা ও দাম দুটিই বাড়বে। কয়েক বছর ধরে আবাদ ও উৎপাদন কমলেও এবার ভালো ফলন ও বাজারদর তাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। পর্যাপ্ত পানি, অনুকূল আবহাওয়া এবং ভালো বাজারদর অব্যাহত থাকলে আগামীতে পাটের আবাদে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।