Dhaka ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
হালান্দকে রুখতে আনচেলত্তির বিশেষ ছক চিলমারীতে ১০ দিনে ৩ মোটরসাইকেল চুরি সুন্দরগঞ্জে এনসিপির কমিটি গঠন, নেতৃত্বে জিকো-আশানুর-আজিজুর  চাঁদা না দেওয়ায় শিক্ষককে মারধর, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন রাজশাহীসহ ৬ বিভাগে ৩ দিন অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দ্বিতীয় যমুনা (ব্রহ্মপুত্র) সেতু:  বালাসীঘাট হতে পারে বাংলাদেশের নতুন উন্নয়নের সেতুবন্ধ অস্ত্রের মুখে টাকা ছিনতাই: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মূল আসামী সেলিম গ্রেপ্তার সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পরিপত্র জারি চিকিৎসায় বাড়িভিটাও শেষ, তবুও সুস্থ হয়নি মেয়ে : সাহায্যের আবেদন বাবার তপ্ত চরে স্বস্তির পরশ: নজর কাড়ছে ‘শীতল ছায়া’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণসহ ৫ দফা দাবি সাবেক সমন্বয়ক-সংগঠকদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৩২ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণসহ ৫ দফা দাবি ও প্রস্তাবনা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছা) সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠকরা।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক নাজমুস সালেহী।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবি ও প্রস্তাবগুলি হচ্ছে—

১. রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রকৃত নেতৃত্বের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনের সংগঠক, সমন্বয়ক, নেতৃত্বদানকারী ও সফল বাস্তবায়নকারীদের অবদান তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিভাজনকে পুঁজি করে যারা ইতিহাস বিকৃত করছে কিংবা প্রকৃত নেতৃত্বকে আড়াল করার চেষ্টা করছে, তাদের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত ও সম্মুখসারির সহযোদ্ধাদের একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও কঠোরভাবে যাচাইকৃত রাষ্ট্রীয় গেজেট প্রকাশ করতে হবে। ইতোপূর্বে প্রকাশিত গেজেটে প্রকৃত অনেক যোদ্ধার নাম বাদ পড়া এবং অযোগ্য ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে। তাই নিরপেক্ষ যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন করা জরুরি। সংশোধিত গেজেটভুক্ত আহত যোদ্ধাদের যোগ্যতা অনুযায়ী পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই গেজেটভুক্ত ব্যক্তিরাই কেবল রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।

৩. দেশের বিভিন্ন জাতীয় ট্র্যাজেডি ও বহুল আলোচিত অবিচারের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতা, তনু হত্যাকাণ্ড, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডসহ সব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও পরিচালনা পর্ষদকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে এখনো স্বৈরাচারী প্রভাববলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তাদের ছায়াসঙ্গীদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, যেখানে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বলয়কে অনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেখানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।

৫. বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর কাঠামোগত সংস্কার এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বান্ধব উচ্চশিক্ষা নীতি প্রণয়ন করতে হবে। দেশে ১১৬টিরও বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা নেই। একই সঙ্গে ইউজিসির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বও অত্যন্ত সীমিত। আমরা দাবি জানাই, ইউজিসিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বান্ধব করে গড়ে তোলা হোক, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগ্য প্রাইভেট শিক্ষকদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হোক এবং গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুদান ও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারার আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। কিন্তু প্রায় ২৩ মাস পরও সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। নবগঠিত সরকারের হাতে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশসমূহ বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনার জন্য এখনও প্রায় ৯০ দিন সময় রয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জনগণের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং প্রস্তাবিত অধ্যাদেশসমূহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হালান্দকে রুখতে আনচেলত্তির বিশেষ ছক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণসহ ৫ দফা দাবি সাবেক সমন্বয়ক-সংগঠকদের

Update Time : ০১:৩৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণসহ ৫ দফা দাবি ও প্রস্তাবনা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছা) সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠকরা।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক নাজমুস সালেহী।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবি ও প্রস্তাবগুলি হচ্ছে—

১. রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রকৃত নেতৃত্বের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনের সংগঠক, সমন্বয়ক, নেতৃত্বদানকারী ও সফল বাস্তবায়নকারীদের অবদান তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিভাজনকে পুঁজি করে যারা ইতিহাস বিকৃত করছে কিংবা প্রকৃত নেতৃত্বকে আড়াল করার চেষ্টা করছে, তাদের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত ও সম্মুখসারির সহযোদ্ধাদের একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও কঠোরভাবে যাচাইকৃত রাষ্ট্রীয় গেজেট প্রকাশ করতে হবে। ইতোপূর্বে প্রকাশিত গেজেটে প্রকৃত অনেক যোদ্ধার নাম বাদ পড়া এবং অযোগ্য ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে। তাই নিরপেক্ষ যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন করা জরুরি। সংশোধিত গেজেটভুক্ত আহত যোদ্ধাদের যোগ্যতা অনুযায়ী পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই গেজেটভুক্ত ব্যক্তিরাই কেবল রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।

৩. দেশের বিভিন্ন জাতীয় ট্র্যাজেডি ও বহুল আলোচিত অবিচারের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতা, তনু হত্যাকাণ্ড, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডসহ সব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও পরিচালনা পর্ষদকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে এখনো স্বৈরাচারী প্রভাববলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তাদের ছায়াসঙ্গীদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, যেখানে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বলয়কে অনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেখানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।

৫. বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর কাঠামোগত সংস্কার এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বান্ধব উচ্চশিক্ষা নীতি প্রণয়ন করতে হবে। দেশে ১১৬টিরও বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা নেই। একই সঙ্গে ইউজিসির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বও অত্যন্ত সীমিত। আমরা দাবি জানাই, ইউজিসিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বান্ধব করে গড়ে তোলা হোক, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগ্য প্রাইভেট শিক্ষকদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হোক এবং গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুদান ও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারার আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। কিন্তু প্রায় ২৩ মাস পরও সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। নবগঠিত সরকারের হাতে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশসমূহ বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনার জন্য এখনও প্রায় ৯০ দিন সময় রয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জনগণের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং প্রস্তাবিত অধ্যাদেশসমূহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।