Dhaka ১২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

ধানের শীষ বনাম দাঁড়িপাল্লা: দিনাজপুরের ৬ আসনে কার পাল্লা ভারী?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৬৯ Time View

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক দামামা বেজে উঠেছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনটি একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে—আওয়ামী লীগবিহীন মাঠে মূল লড়াইটি হবে দুর্নীতি, অপশাসন ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং সুষ্ঠুভাবে বাঁচার দাবিতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে তরুণ সমাজ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের একটি বড় প্রভাব থাকবে। দিনাজপুরের ৬টি আসনে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন ৩৭ জন। এর মধ্যে একজন নারী প্রার্থীও রয়েছেন। বিএনপি অনেক আসনে নতুন ও তরুণ মুখ নিয়ে এলেও জামায়াত তাদের সুসংহত সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ‘তারেক রহমান ফ্যাক্টর’ সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে।

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) হিন্দু অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপির পরিচিত মুখ মনজুরুল হক চৌধুরীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত নেতা মো. মতিউর রহমান। জোটগত জটিলতা কাটিয়ে এখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) এই আসনে চৌধুরী পরিবারের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। বিএনপির মো. সাদিক রিয়াজ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকলেও জামায়াত প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আনাম এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জুলফিকার ‘স্ট্রাইকার’ ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

দিনাজপুর-৩ (সদর) বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে সাবেক মন্ত্রী মরহুম খুরশীদ জাহান হকের স্মৃতি এখনও অমলিন। তবে দলীয় কোন্দল এবং তরুণ নেতাদের অনীহা ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী মো. মাইনুল আলম এখানে মর্যাদার লড়াইয়ে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নেমেছেন।

দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) এখানে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা আকতারুজ্জামান মিঞার সঙ্গে মূল লড়াই হবে জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লার। তবে মাঠের বাইরের নানামুখী প্রভাব এই আসনের লড়াইকে কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলেছে।

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) পুরো উত্তরের নজর এখন এই আসনের দিকে। দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি জেড এম রেজওয়ানুল হককে বাদ দিয়ে বিএনপি এখানে মনোনয়ন দিয়েছে তরুণ ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানকে। রেজওয়ানুল হকের পৈত্রিক ভিটায় বিএনপির একাংশের বিদ্রোহ ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানের জন্য বড় পরীক্ষা। এই আসনে জামায়াত এনসিপি’র প্রার্থী মো. আব্দুল আহাদকে ছাড় দিয়েছে। ধানের শীষ বনাম এনসিপি’র এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা দেখার অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট) এই আসনে সরাসরি লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের প্রবীণ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম। বিগত সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের দেশে আগমন নিয়ে সৃষ্ট শঙ্কা কেটে গিয়ে এখন নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর দিনাজপুরের ভোটের চিত্র আমূল বদলে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা অজানা ভয় কাজ করলেও, ৫ই আগস্ট-পরবর্তী পরিবর্তিত জনমত এবং তরুণ ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে আগামীর নেতৃত্ব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের পুরস্কার বিতরণ

ধানের শীষ বনাম দাঁড়িপাল্লা: দিনাজপুরের ৬ আসনে কার পাল্লা ভারী?

Update Time : ০৯:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক দামামা বেজে উঠেছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনটি একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে—আওয়ামী লীগবিহীন মাঠে মূল লড়াইটি হবে দুর্নীতি, অপশাসন ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং সুষ্ঠুভাবে বাঁচার দাবিতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে তরুণ সমাজ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের একটি বড় প্রভাব থাকবে। দিনাজপুরের ৬টি আসনে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন ৩৭ জন। এর মধ্যে একজন নারী প্রার্থীও রয়েছেন। বিএনপি অনেক আসনে নতুন ও তরুণ মুখ নিয়ে এলেও জামায়াত তাদের সুসংহত সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ‘তারেক রহমান ফ্যাক্টর’ সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে।

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) হিন্দু অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপির পরিচিত মুখ মনজুরুল হক চৌধুরীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত নেতা মো. মতিউর রহমান। জোটগত জটিলতা কাটিয়ে এখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) এই আসনে চৌধুরী পরিবারের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। বিএনপির মো. সাদিক রিয়াজ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকলেও জামায়াত প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আনাম এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জুলফিকার ‘স্ট্রাইকার’ ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

দিনাজপুর-৩ (সদর) বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে সাবেক মন্ত্রী মরহুম খুরশীদ জাহান হকের স্মৃতি এখনও অমলিন। তবে দলীয় কোন্দল এবং তরুণ নেতাদের অনীহা ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী মো. মাইনুল আলম এখানে মর্যাদার লড়াইয়ে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নেমেছেন।

দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) এখানে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা আকতারুজ্জামান মিঞার সঙ্গে মূল লড়াই হবে জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লার। তবে মাঠের বাইরের নানামুখী প্রভাব এই আসনের লড়াইকে কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলেছে।

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) পুরো উত্তরের নজর এখন এই আসনের দিকে। দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি জেড এম রেজওয়ানুল হককে বাদ দিয়ে বিএনপি এখানে মনোনয়ন দিয়েছে তরুণ ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানকে। রেজওয়ানুল হকের পৈত্রিক ভিটায় বিএনপির একাংশের বিদ্রোহ ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানের জন্য বড় পরীক্ষা। এই আসনে জামায়াত এনসিপি’র প্রার্থী মো. আব্দুল আহাদকে ছাড় দিয়েছে। ধানের শীষ বনাম এনসিপি’র এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা দেখার অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট) এই আসনে সরাসরি লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের প্রবীণ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম। বিগত সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের দেশে আগমন নিয়ে সৃষ্ট শঙ্কা কেটে গিয়ে এখন নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর দিনাজপুরের ভোটের চিত্র আমূল বদলে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা অজানা ভয় কাজ করলেও, ৫ই আগস্ট-পরবর্তী পরিবর্তিত জনমত এবং তরুণ ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে আগামীর নেতৃত্ব।