Dhaka ০৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা অনিশ্চয়তার অবসান: নওগাঁয় এমপি ধলুর অর্থায়নে পাকা ঘর পেল দুই অসহায় পরিবার ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ারের মনোনয়ন সংগ্রহ মেধা ও স্বপ্নের পাশে গাইবান্ধায় শিক্ষাবৃত্তি ও কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কথা জানালেন উপহাইকমিশনার গাইবান্ধায় ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১৩ মাসের শিশু উদ্ধার, বাবাসহ গ্রেফতার ৪ মেসির শেষ ম্যাচ নিয়ে কী বললেন দি মারিয়া? ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির সাংগঠনিক সভা  জ্বালানি তেলের দামে বড় ধাক্কা, লিটারে বাড়ল ২০ টাকা লোকালয়ে শিয়ালের হানা, শিশু-নারীসহ আহত ৯ জন

হৈ-হুল্লোড় আর টাকার দাপট নয়, জহর লাল দত্তের ভরসা ‘নীরব’ জনসংযোগ: মৌলভীবাজারে এক ভিন্নধর্মী ভোটের লড়াই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৪২ Time View

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে চলছে প্রচারণার তুমুল ব্যস্ততা। একদিকে বিএনপি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের মতো বড় দলগুলোর হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিশাল শোডাউন, অন্যদিকে মাইকিং আর স্লোগানে মুখর রাজপথ। নির্বাচনের এই কোলাহল আর উত্তেজনার ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে এক নিঃশব্দ অথচ দৃঢ় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বর্ষীয়ান নেতা জহর লাল দত্ত।

শহরের আকাশ যখন বড় দলগুলোর পোস্টার-ব্যানারে ঢাকা, তখন জহর লাল দত্তের নামটা খুব একটা উচ্চস্বরে শোনা যাচ্ছে না। নেই কোনো বিশাল কর্মী বাহিনী, নেই গাড়িবহরের ধুলো উড়ানো দাপট কিংবা কোটি টাকার জৌলুস। তবুও তিনি থেমে নেই। নীরবে-নিভৃতে, নিজের আদর্শকে সম্বল করে চালিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যতিক্রমী প্রচারণা।

জহর লাল দত্তের প্রচারণার কৌশল একেবারেই আলাদা। গতানুগতিক বিশাল জনসভার বদলে তাকে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যেতে। কখনো হন্তদন্ত হয়ে ছুটছেন হাসপাতালের করিডরে, রোগী ও স্বজনদের কুশল বিনিময়ের ফাঁকে বিনীতভাবে চাইছেন ভোট। আবার কখনো রাস্তার ধারের ছোট্ট চায়ের দোকানে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আড্ডায় তুলে ধরছেন কাস্তে প্রতীকের কথা।

বিশাল মঞ্চের বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন বাড়ির আঙিনা। ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে ছোট ছোট ‘উঠোন বৈঠক’ করছেন

বর্তমান সময়ের বিষোদগারপূর্ণ রাজনীতির ভিড়ে জহর লাল দত্ত স্থাপন করেছেন এক বিরল দৃষ্টান্ত। প্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট প্রার্থীদের নিয়ে তার মুখে নেই কোনো সমালোচনা বা কটু কথা। কারো দোষ না খুঁজে, শুধু নিজের সততা আর আদর্শকে পুঁজি করে তিনি মানুষের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চাইছেন।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ভোটের মাঠে হয়তো টাকার জোরে জহর বাবু লড়াই করতে পারবেন না, কিন্তু তার মতো সজ্জন ও বিনয়ী মানুষই সমাজের এবং রাজনীতির আসল অলংকার।

প্রচারণায় আড়ম্বর না থাকলেও জহর লাল দত্তের রয়েছে দীর্ঘ ৪০ বছরের এক সরব সংগ্রামের ইতিহাস। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, হাওর রক্ষা আন্দোলন এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদা রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার এই পরীক্ষিত নেতা টাকার দাপটের কাছে হার না মেনে অকুতোভয় চিত্তে লড়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, জহর লাল দত্ত তার এই নীরব ও সাদামাটা প্রচারণার মাধ্যমে মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে এক স্নিগ্ধ ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

হৈ-হুল্লোড় আর টাকার দাপট নয়, জহর লাল দত্তের ভরসা ‘নীরব’ জনসংযোগ: মৌলভীবাজারে এক ভিন্নধর্মী ভোটের লড়াই

Update Time : ০৭:১০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে চলছে প্রচারণার তুমুল ব্যস্ততা। একদিকে বিএনপি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের মতো বড় দলগুলোর হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিশাল শোডাউন, অন্যদিকে মাইকিং আর স্লোগানে মুখর রাজপথ। নির্বাচনের এই কোলাহল আর উত্তেজনার ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে এক নিঃশব্দ অথচ দৃঢ় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বর্ষীয়ান নেতা জহর লাল দত্ত।

শহরের আকাশ যখন বড় দলগুলোর পোস্টার-ব্যানারে ঢাকা, তখন জহর লাল দত্তের নামটা খুব একটা উচ্চস্বরে শোনা যাচ্ছে না। নেই কোনো বিশাল কর্মী বাহিনী, নেই গাড়িবহরের ধুলো উড়ানো দাপট কিংবা কোটি টাকার জৌলুস। তবুও তিনি থেমে নেই। নীরবে-নিভৃতে, নিজের আদর্শকে সম্বল করে চালিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যতিক্রমী প্রচারণা।

জহর লাল দত্তের প্রচারণার কৌশল একেবারেই আলাদা। গতানুগতিক বিশাল জনসভার বদলে তাকে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যেতে। কখনো হন্তদন্ত হয়ে ছুটছেন হাসপাতালের করিডরে, রোগী ও স্বজনদের কুশল বিনিময়ের ফাঁকে বিনীতভাবে চাইছেন ভোট। আবার কখনো রাস্তার ধারের ছোট্ট চায়ের দোকানে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আড্ডায় তুলে ধরছেন কাস্তে প্রতীকের কথা।

বিশাল মঞ্চের বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন বাড়ির আঙিনা। ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে ছোট ছোট ‘উঠোন বৈঠক’ করছেন

বর্তমান সময়ের বিষোদগারপূর্ণ রাজনীতির ভিড়ে জহর লাল দত্ত স্থাপন করেছেন এক বিরল দৃষ্টান্ত। প্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট প্রার্থীদের নিয়ে তার মুখে নেই কোনো সমালোচনা বা কটু কথা। কারো দোষ না খুঁজে, শুধু নিজের সততা আর আদর্শকে পুঁজি করে তিনি মানুষের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চাইছেন।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ভোটের মাঠে হয়তো টাকার জোরে জহর বাবু লড়াই করতে পারবেন না, কিন্তু তার মতো সজ্জন ও বিনয়ী মানুষই সমাজের এবং রাজনীতির আসল অলংকার।

প্রচারণায় আড়ম্বর না থাকলেও জহর লাল দত্তের রয়েছে দীর্ঘ ৪০ বছরের এক সরব সংগ্রামের ইতিহাস। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, হাওর রক্ষা আন্দোলন এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদা রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার এই পরীক্ষিত নেতা টাকার দাপটের কাছে হার না মেনে অকুতোভয় চিত্তে লড়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, জহর লাল দত্ত তার এই নীরব ও সাদামাটা প্রচারণার মাধ্যমে মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে এক স্নিগ্ধ ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।