
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এপ্রিলে গৃহস্থালিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ বৃহস্পতিবার নতুন এই দাম ঘোষণা করেছে সংস্থাটি, যা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিইআরসি সূত্র জানায়, গত মাসে (মার্চে) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। এর আগে, ফেব্রুয়ারির শুরুতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে আমদানি শুল্ক কমানোয় তা সমন্বয় করে ১ হাজার ৩৪১ টাকা করা হয়েছিল।
নতুন ঘোষণায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে থাকা সাড়ে ৫ কেজি থেকে শুরু করে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এই প্রতি কেজির হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
গৃহস্থালির পাশাপাশি পরিবহনে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটো গ্যাসের দামও এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। অটো গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৮২৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিইআরসি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে এর প্রতিফলন দেখা যায় না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। তাদের দাবি, বাজারে কখনোই নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হয় না। বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়েও ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করে থাকেন।
২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান ‘আরামকো’ প্রতি মাসে এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে, যা ‘সৌদি কার্গো মূল্য’ বা ‘সিপি’ নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য হিসেবে ধরে এবং আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে ডলারের গড় দাম হিসাব করে প্রতি মাসে দেশের বাজারের জন্য এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।

Reporter Name 
























