
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন শিশু সন্তান ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার এক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এই নৃশংসতা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী ফুরকান মিয়া নিজেই স্বজনদের ফোন করে খুনের খবর জানিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতরা হলেন-ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩৮), তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ও ফারিয়া (২) এবং ফুরকানের শ্যালক রসুল মিয়া (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়া বছরখানেক আগে রাউতকোনা গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়ি ভাড়া নেন। শনিবার সকালে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করেছেন এবং এখন পালিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ সারিবদ্ধভাবে পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল এবং বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত নথির সূত্র ধরে জানা যায়, ফুরকান ইতিপূর্বে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ এনে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “উদ্ধারকৃত অভিযোগের কপি ও পারিপার্শ্বিক আলামত গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফুরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Reporter Name 













