Dhaka ০৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা সুন্দরগঞ্জে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নওগাঁয় বাসের বক্সের ঢাকনার আঘাতে অটোরিকশার ১ যাত্রী নিহত, আহত ২ শিশু   সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বকাপে জিতবে কোন দল? গোবিন্দগঞ্জে এক মানসিক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পুড়ছে দেশ, জুনে ২-৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বাবা: ৫৪ বছর পর বাংলাদেশে জন্মভিটার সন্ধান পেল পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা ছেলে

কেউ কথা রাখেনি সিন্দুবালার !

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩
  • ১৮০৪ Time View


তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর:
বৃদ্ধা সিন্দুবালা সরকার। সাত বছর আগে মারা গেছেন স্বামী। অন্যের বাড়িতে শ্রম দিয়ে কোনোমতে চলে তার জীবন-জীবিকা। পেটের ভাত আর রোগ ব্যাধির ওষুধপত্র যোগাতে নিজের থাকার ঘরটি মেরামত কিংবা সংস্কার করার সামর্থ্য হয়ে উঠেনি। একারণে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ছিন্ন ঘরে বসবাস। কুয়াশা-বৃষ্টি-বাতাসের আতঙ্কে ভাঙা ঘরে নির্ঘুম রাত কাটে তার। এ থেকে রেহাই পেতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের জন্য ঘুরেছেন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে-দ্বারে। সবাই প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও তার কপালে জোটেনি সেই কাঙ্খিত ঘর।
এইবৃদ্ধা সিন্দুবালার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজিত (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের। স্বামী মৃত মনিন্দ্রনাথ সরকারের স্ত্রী।
সম্প্রতি আমাদের প্রতিবেদক জানান, মাত্র কয়েক শতক জমিতে রেখে সিন্দুবালার স্বামী মারা গেছেন। এছাড়া নেই কোনো সহায়-সম্বল। ইতোমধ্যে বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়লেও জীবিকার তাগিদে ছুটতে হচ্ছে কৃষকের মাঠে বা অন্যের দুয়ারে। বেঁচে থাকার তাগিদে কখনো কৃষকের ফসলি জমিতে শ্রম বিক্রি, আবার কখনো অন্যের বাড়িতে করতে হয় ঝিয়ের কাজ। এভাবে জীবিকা নির্বাহ করে চলছেন সিন্দুবালা। এরই মধ্যে ওইসব কাজের জন্যও কদর কমেছে তার। কারণ একটাই, বার্ধক্য বয়স ও নানা অসুস্থতার কারণে এলাকার মানুষ তাকে এখন কাজের জন্য তেমনটা ডাকেন না। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে সিন্দুবালাকে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ওই বিধবার একমাত্র শোবার ঘরটিও জরাজীর্ণ অবস্থা। ছিদ্র টিনের চালায় লাগানো হয়েছে পলিথিন ও ট্রিপল। দিনের বেলায় বেড়ার ফুটো দিয়ে দেখা যায় সুর্য্যের আলো। রাতে চালার উপরে দিয়ে নজরকাড়ে আসমানের তারা। জোড়াতালি এ ভাঙা ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে চলছেন সিন্দুবালা। এক মুঠো অন্নের যোগানে সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাতে ঠিকভাবে ঘুমাবেন কিন্ত চোখে আসে না ঘুম। শীতের কুশায় আর বৃষ্টি-বাতাসে আতঙ্কে একাকী নির্ঘুম রাত কাটে তার। বর্ষাকালে আকাশের মেঘ দেখলে দৌঁড় দিতে হয় অন্যের বাড়িতে। আর শীতকালে কনকনে বাতাস আর কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র। নানা প্রতিকুলতার মধ্যে ঝুঁকিপুর্ণ এ ঘরে বসবাসের কারণে বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে সিন্দুবালার শরীরে। এসব রোগ নিরাময়ে নিয়মিত ওষুধ খাবেন, এমন সামর্থও নেই তার। একেবারই জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে কোনোমতে বেঁচে রয়েছে ওই ভাঙা ঘরটিতে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরেই একাকী বসাবাস করে চলছেন।
বিধবা সিন্দুবালা বলেন, আমার ভাঙা ঘরে থাকতে ভয় লাগে। আপাতত ভাতিজার ঘরে থাকি। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা ঘর পাবার জন্যে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন কাজ হয়নি। জমি আছে ঘর নেই- এ প্রকল্পের আওতায় আমাকে যদি একটি পাকা ঘর দিতেন তাহলে হয়তো শেষ বয়সে শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম।
সিন্দবালার ভাতিজা চঞ্চল সরকার বলেন, স্বামী হারিয়ে সিন্দুবালা এখন খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তার কোন সন্তানাদি নেই। একটি মাত্র ঘর তাও আবার ভাঙাচুরা। একদম বসবাস অনুপযোগি। তাই আমি একটি টিনসেড ঘর নির্মাণ করেছি, সেই ঘরে তাকে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ (কাওছাড়া মন্ডল) আজকের জনগণ প্রতিনিধিকে বলেন, সিন্দুবালার ঘর না থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নেওয়া হবে। সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোকসানা বেগম বলেন, সিন্দুবালার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

কেউ কথা রাখেনি সিন্দুবালার !

Update Time : ০৭:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩


তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর:
বৃদ্ধা সিন্দুবালা সরকার। সাত বছর আগে মারা গেছেন স্বামী। অন্যের বাড়িতে শ্রম দিয়ে কোনোমতে চলে তার জীবন-জীবিকা। পেটের ভাত আর রোগ ব্যাধির ওষুধপত্র যোগাতে নিজের থাকার ঘরটি মেরামত কিংবা সংস্কার করার সামর্থ্য হয়ে উঠেনি। একারণে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ছিন্ন ঘরে বসবাস। কুয়াশা-বৃষ্টি-বাতাসের আতঙ্কে ভাঙা ঘরে নির্ঘুম রাত কাটে তার। এ থেকে রেহাই পেতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের জন্য ঘুরেছেন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে-দ্বারে। সবাই প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও তার কপালে জোটেনি সেই কাঙ্খিত ঘর।
এইবৃদ্ধা সিন্দুবালার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজিত (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের। স্বামী মৃত মনিন্দ্রনাথ সরকারের স্ত্রী।
সম্প্রতি আমাদের প্রতিবেদক জানান, মাত্র কয়েক শতক জমিতে রেখে সিন্দুবালার স্বামী মারা গেছেন। এছাড়া নেই কোনো সহায়-সম্বল। ইতোমধ্যে বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়লেও জীবিকার তাগিদে ছুটতে হচ্ছে কৃষকের মাঠে বা অন্যের দুয়ারে। বেঁচে থাকার তাগিদে কখনো কৃষকের ফসলি জমিতে শ্রম বিক্রি, আবার কখনো অন্যের বাড়িতে করতে হয় ঝিয়ের কাজ। এভাবে জীবিকা নির্বাহ করে চলছেন সিন্দুবালা। এরই মধ্যে ওইসব কাজের জন্যও কদর কমেছে তার। কারণ একটাই, বার্ধক্য বয়স ও নানা অসুস্থতার কারণে এলাকার মানুষ তাকে এখন কাজের জন্য তেমনটা ডাকেন না। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে সিন্দুবালাকে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ওই বিধবার একমাত্র শোবার ঘরটিও জরাজীর্ণ অবস্থা। ছিদ্র টিনের চালায় লাগানো হয়েছে পলিথিন ও ট্রিপল। দিনের বেলায় বেড়ার ফুটো দিয়ে দেখা যায় সুর্য্যের আলো। রাতে চালার উপরে দিয়ে নজরকাড়ে আসমানের তারা। জোড়াতালি এ ভাঙা ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে চলছেন সিন্দুবালা। এক মুঠো অন্নের যোগানে সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাতে ঠিকভাবে ঘুমাবেন কিন্ত চোখে আসে না ঘুম। শীতের কুশায় আর বৃষ্টি-বাতাসে আতঙ্কে একাকী নির্ঘুম রাত কাটে তার। বর্ষাকালে আকাশের মেঘ দেখলে দৌঁড় দিতে হয় অন্যের বাড়িতে। আর শীতকালে কনকনে বাতাস আর কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র। নানা প্রতিকুলতার মধ্যে ঝুঁকিপুর্ণ এ ঘরে বসবাসের কারণে বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে সিন্দুবালার শরীরে। এসব রোগ নিরাময়ে নিয়মিত ওষুধ খাবেন, এমন সামর্থও নেই তার। একেবারই জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে কোনোমতে বেঁচে রয়েছে ওই ভাঙা ঘরটিতে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরেই একাকী বসাবাস করে চলছেন।
বিধবা সিন্দুবালা বলেন, আমার ভাঙা ঘরে থাকতে ভয় লাগে। আপাতত ভাতিজার ঘরে থাকি। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা ঘর পাবার জন্যে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন কাজ হয়নি। জমি আছে ঘর নেই- এ প্রকল্পের আওতায় আমাকে যদি একটি পাকা ঘর দিতেন তাহলে হয়তো শেষ বয়সে শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম।
সিন্দবালার ভাতিজা চঞ্চল সরকার বলেন, স্বামী হারিয়ে সিন্দুবালা এখন খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তার কোন সন্তানাদি নেই। একটি মাত্র ঘর তাও আবার ভাঙাচুরা। একদম বসবাস অনুপযোগি। তাই আমি একটি টিনসেড ঘর নির্মাণ করেছি, সেই ঘরে তাকে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ (কাওছাড়া মন্ডল) আজকের জনগণ প্রতিনিধিকে বলেন, সিন্দুবালার ঘর না থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নেওয়া হবে। সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোকসানা বেগম বলেন, সিন্দুবালার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা করা হবে।