Dhaka ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১ আধুনিকায়নের ফাঁদে ৬ বছর তালাবদ্ধ মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল: ধুঁকছেন শ্রমিক, দিশেহারা আখচাষি অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ, দ্রুত চালুর দাবি দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে গাইবান্ধায় অভিযোগ গ্রহণ শুরু, ১১ মে দুদকের গণশুনানি গাইবান্ধায় ছাত্র ইউনিয়নের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত রংপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা ১০ বছরেও মেলেনি সুফল: স্লুইস গেট যেন কৃষকের গলার কাঁটা নৈশভোজে হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প গোবিন্দগঞ্জে ট্রাক চাপায় এবং সাঘাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু হাম পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় হামে ১১ শিশুর মৃত্যু স্ত্রীর তালাকের পর অভিমানে পেট্রোল ঢেলে স্বামীর আত্মহত্যা

মুখে আছে, বইয়ে নেই : গাইবান্ধার চার নৃ-গোষ্ঠির ভাষা সংকটে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৩৯ Time View

বরেন্দ্র ভূমির মাটিতে সন্ধ্যা নামে ধীরে ধীরে। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডোবার আগে রাজাবিরাট কিংবা তল্লাপাড়ার কোনো সাঁওতালপাড়ায় ঢুকলে ভেসে আসে আলাদা এক সুর- মায়ের মুখে সন্তানের সঙ্গে কথোপকথন, উঠানে বসে বয়োজ্যেষ্ঠদের গল্প কিংবা গির্জার প্রার্থনার আগে নীরব প্রস্তুতি। কিন্তু সেই সুর ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। ভাষা মুখে আছে- কাগজে নেই; বই নেই, নিজস্ব ভাষায় স্কুল পাঠক্রম নেই, নেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। ফলে গাইবান্ধার চার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মাতৃভাষা আজ টিকে থাকার লড়াইয়ে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে প্রাচীনকাল থেকে বসবাস করছেন সাঁওতাল, ওরাওঁ, মাহালী ও মালপাহাড়ি সম্প্রদায়ের মানুষ। সংখ্যা ছয় থেকে সাত হাজারের মতো। রাজাবিরাট, জয়পুর, মাদারপুর, তুলট, তল্লাপাড়া- এমন বহু গ্রামেই তাঁদের বসতি। সমতলের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় বসবাস করলেও তাঁদের নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি, উৎসব ও ধর্মীয় ঐতিহ্য এখনো আলাদা বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত। কিন্তু সেই বৈচিত্র্যই আজ ঝুঁকির মুখে।

সাঁওতালদের ‘সারি’ বা সাঁওতালি ভাষা, ওরাওঁদের ‘কুরুক’ ও ‘সাদরি’- এ অঞ্চলে প্রচলিত প্রধান মাতৃভাষা। এসব ভাষার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চর্চাকেন্দ্র নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজস্ব বর্ণমালা অনুপস্থিত বা প্রচলিত নয়। ফলে ভাষাগুলো কেবল মুখে মুখেই টিকে আছে। বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে মাতৃভাষা থেকে।

ফুলপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী রূপসী মার্ডি জানায়, বাড়িতে তারা সাঁওতালি ভাষায় কথা বলে, কিন্তু স্কুলে বাংলা ছাড়া উপায় নেই। আদরী সরেন বা স্বপ্না হাসদারাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানায়। বাংলা বা ইংরেজি হরফে কিছু ধর্মীয় বই থাকলেও নিজেদের ভাষার নিজস্ব হরফে পাঠ্যপুস্তক নেই বললেই চলে। মোতালেবনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রশান্ত মুর্মু, আকাশ কিসকুদের কথায়ও উঠে আসে একই বাস্তবতা- “বাড়িতে মাতৃভাষা, বাইরে বাংলা।”

তল্লাপাড়ার সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট প্রি-সেমিনারি মিশন স্কুলের শিক্ষিকা দিপালী কিস্কু বলেন, “কথ্যভাষা হিসেবে সাঁওতালি বা ওরাওঁ ভাষা আছে, কিন্তু তা লিখিত রূপ না পেলে টিকে থাকবে না।” ধর্ম ও শিক্ষা বিষয়ে মহিপুর সার্কেলের ডিস্ট্রিক্ট পাস্টর জেমস সরেনের কণ্ঠে শোনা যায় শঙ্কা- “আমি বলতে পারছি, কিন্তু আমার সন্তানরা হয়ত আর পারবে না।”

ঔপনিবেশিক আমল থেকেই মিশনারিদের প্রভাবে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটে। প্রকৃতিপূজারী জীবনধারা থেকে অনেকে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন, অনেকে সনাতন ধর্মে আছেন। শিক্ষার হার বেড়েছে, সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন বহু তরুণ-তরুণী। মিশনারি ও সমাজসেবক এমিলি হেমব্রম জানান, গোবিন্দগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট ও দিনাজপুর অঞ্চলে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ এখন শিক্ষিত ও কর্মজীবী। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে ও সামাজিক পরিসরে তাঁদের বাংলা বা ইংরেজিতে কথা বলতে হয়। ফলে মাতৃভাষা সীমিত হয়ে পড়ছে পারিবারিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে।

দইহাড়া গ্রামের আবিনা টপ্পো বলেন, “মাতৃভাষা এখন শুধু ঘরের মধ্যে। বাইরে গেলে সবাই বাংলা বলে।” ওরাওঁ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু সুশীল টপ্পো জানান, ‘কুরুক’ ও ‘সাদরি’ ভাষায় সম্প্রতি কিছু বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। “নিজস্ব বর্ণমালায় বই ও পাঠদানের ব্যবস্থা না হলে ভাষা রক্ষা সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।

আদিবাসী নেতা ডা. ফিলিমন বাস্কে মনে করেন, আধুনিকতার প্রভাবে পোশাক-আচরণ বদলেছে, জীবনযাত্রার মান বেড়েছে; কিন্তু ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত দুর্বল হয়েছে। আদিবাসী অধিকারকর্মী সুচিত্রা মুর্মু অভিযোগ করেন, “স্বীকৃতি, বর্ণমালা, বই ও শিক্ষক না থাকায় আমাদের সন্তানরা বাংলা শিক্ষায় বড়ো হয়ে বাঙালি পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। এতে আমাদের নিজস্ব পরিচয় ক্ষয়ে যাচ্ছে।”

গোবিন্দগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির উন্নয়নে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘অবলম্বন’-এর নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সূচকে অগ্রগতি দৃশ্যমান। এখন প্রয়োজন মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা, নিজস্ব ভাষায় বই প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র গড়ে তোলা। সরকারি উদ্যোগ ছাড়া তা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু হলে শিশুদের শেখার গতি বাড়ে, ঝরে পড়ার হার কমে এবং আত্মপরিচয়ের বোধ জোরদার হয়। কিন্তু গাইবান্ধার এই চার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ক্ষেত্রে তা এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের লাল মাটিতে তাই সন্ধ্যার সেই সাঁওতালি সুর আজও ভেসে আসে, কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। বইয়ের পাতায় জায়গা না পেলে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না মিললে, হয়ত আগামী প্রজন্মের কণ্ঠে আর শোনা যাবে না ‘সারি’, ‘কুরুক’ কিংবা ‘সাদরি’র সুর। ভাষা হারালে হারাবে ইতিহাস, স্মৃতি আর একটি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়। সেই হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ- রাষ্ট্রের, সমাজের এবং সম্প্রদায়ের নিজস্ব সচেতনতার।

প্রতিবেদক: কায়সার রহমান রোমেল, সাংবাদিক, লেখক, গ্রাফিক্স ডিজাইনার
মোবাইল ফোন: ০১৭১৪-৯১৯৯৯৯

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১

মুখে আছে, বইয়ে নেই : গাইবান্ধার চার নৃ-গোষ্ঠির ভাষা সংকটে

Update Time : ১১:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরেন্দ্র ভূমির মাটিতে সন্ধ্যা নামে ধীরে ধীরে। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডোবার আগে রাজাবিরাট কিংবা তল্লাপাড়ার কোনো সাঁওতালপাড়ায় ঢুকলে ভেসে আসে আলাদা এক সুর- মায়ের মুখে সন্তানের সঙ্গে কথোপকথন, উঠানে বসে বয়োজ্যেষ্ঠদের গল্প কিংবা গির্জার প্রার্থনার আগে নীরব প্রস্তুতি। কিন্তু সেই সুর ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। ভাষা মুখে আছে- কাগজে নেই; বই নেই, নিজস্ব ভাষায় স্কুল পাঠক্রম নেই, নেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। ফলে গাইবান্ধার চার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মাতৃভাষা আজ টিকে থাকার লড়াইয়ে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে প্রাচীনকাল থেকে বসবাস করছেন সাঁওতাল, ওরাওঁ, মাহালী ও মালপাহাড়ি সম্প্রদায়ের মানুষ। সংখ্যা ছয় থেকে সাত হাজারের মতো। রাজাবিরাট, জয়পুর, মাদারপুর, তুলট, তল্লাপাড়া- এমন বহু গ্রামেই তাঁদের বসতি। সমতলের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় বসবাস করলেও তাঁদের নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি, উৎসব ও ধর্মীয় ঐতিহ্য এখনো আলাদা বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত। কিন্তু সেই বৈচিত্র্যই আজ ঝুঁকির মুখে।

সাঁওতালদের ‘সারি’ বা সাঁওতালি ভাষা, ওরাওঁদের ‘কুরুক’ ও ‘সাদরি’- এ অঞ্চলে প্রচলিত প্রধান মাতৃভাষা। এসব ভাষার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চর্চাকেন্দ্র নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজস্ব বর্ণমালা অনুপস্থিত বা প্রচলিত নয়। ফলে ভাষাগুলো কেবল মুখে মুখেই টিকে আছে। বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে মাতৃভাষা থেকে।

ফুলপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী রূপসী মার্ডি জানায়, বাড়িতে তারা সাঁওতালি ভাষায় কথা বলে, কিন্তু স্কুলে বাংলা ছাড়া উপায় নেই। আদরী সরেন বা স্বপ্না হাসদারাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানায়। বাংলা বা ইংরেজি হরফে কিছু ধর্মীয় বই থাকলেও নিজেদের ভাষার নিজস্ব হরফে পাঠ্যপুস্তক নেই বললেই চলে। মোতালেবনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রশান্ত মুর্মু, আকাশ কিসকুদের কথায়ও উঠে আসে একই বাস্তবতা- “বাড়িতে মাতৃভাষা, বাইরে বাংলা।”

তল্লাপাড়ার সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট প্রি-সেমিনারি মিশন স্কুলের শিক্ষিকা দিপালী কিস্কু বলেন, “কথ্যভাষা হিসেবে সাঁওতালি বা ওরাওঁ ভাষা আছে, কিন্তু তা লিখিত রূপ না পেলে টিকে থাকবে না।” ধর্ম ও শিক্ষা বিষয়ে মহিপুর সার্কেলের ডিস্ট্রিক্ট পাস্টর জেমস সরেনের কণ্ঠে শোনা যায় শঙ্কা- “আমি বলতে পারছি, কিন্তু আমার সন্তানরা হয়ত আর পারবে না।”

ঔপনিবেশিক আমল থেকেই মিশনারিদের প্রভাবে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটে। প্রকৃতিপূজারী জীবনধারা থেকে অনেকে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন, অনেকে সনাতন ধর্মে আছেন। শিক্ষার হার বেড়েছে, সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন বহু তরুণ-তরুণী। মিশনারি ও সমাজসেবক এমিলি হেমব্রম জানান, গোবিন্দগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট ও দিনাজপুর অঞ্চলে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ এখন শিক্ষিত ও কর্মজীবী। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে ও সামাজিক পরিসরে তাঁদের বাংলা বা ইংরেজিতে কথা বলতে হয়। ফলে মাতৃভাষা সীমিত হয়ে পড়ছে পারিবারিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে।

দইহাড়া গ্রামের আবিনা টপ্পো বলেন, “মাতৃভাষা এখন শুধু ঘরের মধ্যে। বাইরে গেলে সবাই বাংলা বলে।” ওরাওঁ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু সুশীল টপ্পো জানান, ‘কুরুক’ ও ‘সাদরি’ ভাষায় সম্প্রতি কিছু বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। “নিজস্ব বর্ণমালায় বই ও পাঠদানের ব্যবস্থা না হলে ভাষা রক্ষা সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।

আদিবাসী নেতা ডা. ফিলিমন বাস্কে মনে করেন, আধুনিকতার প্রভাবে পোশাক-আচরণ বদলেছে, জীবনযাত্রার মান বেড়েছে; কিন্তু ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত দুর্বল হয়েছে। আদিবাসী অধিকারকর্মী সুচিত্রা মুর্মু অভিযোগ করেন, “স্বীকৃতি, বর্ণমালা, বই ও শিক্ষক না থাকায় আমাদের সন্তানরা বাংলা শিক্ষায় বড়ো হয়ে বাঙালি পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। এতে আমাদের নিজস্ব পরিচয় ক্ষয়ে যাচ্ছে।”

গোবিন্দগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির উন্নয়নে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘অবলম্বন’-এর নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সূচকে অগ্রগতি দৃশ্যমান। এখন প্রয়োজন মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা, নিজস্ব ভাষায় বই প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র গড়ে তোলা। সরকারি উদ্যোগ ছাড়া তা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু হলে শিশুদের শেখার গতি বাড়ে, ঝরে পড়ার হার কমে এবং আত্মপরিচয়ের বোধ জোরদার হয়। কিন্তু গাইবান্ধার এই চার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ক্ষেত্রে তা এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের লাল মাটিতে তাই সন্ধ্যার সেই সাঁওতালি সুর আজও ভেসে আসে, কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। বইয়ের পাতায় জায়গা না পেলে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না মিললে, হয়ত আগামী প্রজন্মের কণ্ঠে আর শোনা যাবে না ‘সারি’, ‘কুরুক’ কিংবা ‘সাদরি’র সুর। ভাষা হারালে হারাবে ইতিহাস, স্মৃতি আর একটি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়। সেই হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ- রাষ্ট্রের, সমাজের এবং সম্প্রদায়ের নিজস্ব সচেতনতার।

প্রতিবেদক: কায়সার রহমান রোমেল, সাংবাদিক, লেখক, গ্রাফিক্স ডিজাইনার
মোবাইল ফোন: ০১৭১৪-৯১৯৯৯৯