Dhaka ০৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১ আধুনিকায়নের ফাঁদে ৬ বছর তালাবদ্ধ মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল: ধুঁকছেন শ্রমিক, দিশেহারা আখচাষি অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ, দ্রুত চালুর দাবি দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে গাইবান্ধায় অভিযোগ গ্রহণ শুরু, ১১ মে দুদকের গণশুনানি গাইবান্ধায় ছাত্র ইউনিয়নের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত রংপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা ১০ বছরেও মেলেনি সুফল: স্লুইস গেট যেন কৃষকের গলার কাঁটা নৈশভোজে হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প গোবিন্দগঞ্জে ট্রাক চাপায় এবং সাঘাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু হাম পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় হামে ১১ শিশুর মৃত্যু স্ত্রীর তালাকের পর অভিমানে পেট্রোল ঢেলে স্বামীর আত্মহত্যা

গাইবান্ধায় তিন বছরেও চালু হয়নি পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৮ Time View

পলাশবাড়ী প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় নির্মিত মডেল মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেখানে নিয়মিত নামাজ শুরু হয়নি। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে আছে। ফলে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো দূরের কথা, জুমার নামাজও নিয়মিতভাবে আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পলাশবাড়ী উপজেলা হলরুমে আয়োজিত পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সদ্য যোগদান করা গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার উপস্থিতিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘খবরবাড়ি টুয়েন্টিফোর ডটকম’-এর সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মিলটন বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মসজিদটি কার্যত অচল পড়ে আছে, যা এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদকে নির্দেশ দেন। কেন এখনও নামাজ চালু হয়নি, তার ব্যাখ্যা দিতে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। কিন্তু নির্দেশনার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা কেন এতদিনেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেল না?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, “ইতোমধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, বারবার এ ধরনের আশ্বাসে তারা আর আস্থা রাখতে পারছেন না। দ্রুত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত নামাজ চালুর মাধ্যমে মসজিদটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায়, বহু প্রত্যাশিত এই স্থাপনাটি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১

গাইবান্ধায় তিন বছরেও চালু হয়নি পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ

Update Time : ১১:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পলাশবাড়ী প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় নির্মিত মডেল মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেখানে নিয়মিত নামাজ শুরু হয়নি। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে আছে। ফলে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো দূরের কথা, জুমার নামাজও নিয়মিতভাবে আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পলাশবাড়ী উপজেলা হলরুমে আয়োজিত পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সদ্য যোগদান করা গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার উপস্থিতিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘খবরবাড়ি টুয়েন্টিফোর ডটকম’-এর সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মিলটন বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মসজিদটি কার্যত অচল পড়ে আছে, যা এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদকে নির্দেশ দেন। কেন এখনও নামাজ চালু হয়নি, তার ব্যাখ্যা দিতে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। কিন্তু নির্দেশনার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা কেন এতদিনেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেল না?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, “ইতোমধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, বারবার এ ধরনের আশ্বাসে তারা আর আস্থা রাখতে পারছেন না। দ্রুত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত নামাজ চালুর মাধ্যমে মসজিদটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায়, বহু প্রত্যাশিত এই স্থাপনাটি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।