Dhaka ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১ আধুনিকায়নের ফাঁদে ৬ বছর তালাবদ্ধ মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল: ধুঁকছেন শ্রমিক, দিশেহারা আখচাষি অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ, দ্রুত চালুর দাবি দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে গাইবান্ধায় অভিযোগ গ্রহণ শুরু, ১১ মে দুদকের গণশুনানি গাইবান্ধায় ছাত্র ইউনিয়নের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত রংপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা ১০ বছরেও মেলেনি সুফল: স্লুইস গেট যেন কৃষকের গলার কাঁটা নৈশভোজে হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প গোবিন্দগঞ্জে ট্রাক চাপায় এবং সাঘাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু হাম পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় হামে ১১ শিশুর মৃত্যু স্ত্রীর তালাকের পর অভিমানে পেট্রোল ঢেলে স্বামীর আত্মহত্যা

মৌলভীবাজারে শেষ হলো মনিপুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লাই হারাওবা উৎসব 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৫ Time View

মৌলভীবাজার সংবাদাতা: মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের হাজার বছরের কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ‘লাই হারাওবা’ উৎসব শেষ হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ৩দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষ হয় এক আবেগঘন পরিবেশে।

বৈশাখের তপ্ত দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই উৎসব প্রাঙ্গণ প্রাণ ফিরে পায়। গ্রামীণ পথ ধরে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসতে থাকেন হাজারো সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। কিশোরী ও তরুণীদের খোঁপায় ময়ূরের পেখম, পরনে রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর শিশুদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা যেন এক জীবন্ত শিল্পকর্মে রূপ নেয়। মেলার চারধারে বসা খেলনা, প্রসাধনী ও মুখরোচক খাবারের দোকানগুলো উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ‘লাই হারাওবা জগোই’। মাইবি বা নারী পুরোহিতদের নেতৃত্বে নারী, কিশোরী ও শিশুরা নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন সৃষ্টিতত্ত্ব, প্রকৃতি ও মানবজীবনের বিবর্তন। আয়োজকদের মতে, ‘লাই’ অর্থ দেবতা এবং ‘হারাওবা’ মানে আনন্দ অর্থাৎ এটি দেবতাদের আনন্দোৎসব। সুর, তাল ও মুদ্রার নিখুঁত সমন্বয়ে এই নৃত্য কেবল পরিবেশনা নয়, বরং এক পবিত্র প্রার্থনায় রূপ নেয়, যা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে তুলে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই উৎসব মণিপুরি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মেরুদণ্ড হিসেবে টিকে আছে। উৎসব স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ) বলেন, “এটি শুধু একটি উৎসব নয়, আমাদের অস্তিত্বের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছি।”

ইউনেসকো বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসব বর্তমানে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব লাভ করেছে। আধুনিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও ঐতিহ্য কীভাবে স্বমহিমায় টিকে থাকতে পারে, ‘লাই হারাওবা’ তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ফুটে উঠেছে। ধর্ম, প্রকৃতি ও বিশ্বাসের এই মেলবন্ধনে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে এই উৎসব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১

মৌলভীবাজারে শেষ হলো মনিপুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লাই হারাওবা উৎসব 

Update Time : ০১:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার সংবাদাতা: মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের হাজার বছরের কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ‘লাই হারাওবা’ উৎসব শেষ হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ৩দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষ হয় এক আবেগঘন পরিবেশে।

বৈশাখের তপ্ত দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই উৎসব প্রাঙ্গণ প্রাণ ফিরে পায়। গ্রামীণ পথ ধরে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসতে থাকেন হাজারো সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। কিশোরী ও তরুণীদের খোঁপায় ময়ূরের পেখম, পরনে রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর শিশুদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা যেন এক জীবন্ত শিল্পকর্মে রূপ নেয়। মেলার চারধারে বসা খেলনা, প্রসাধনী ও মুখরোচক খাবারের দোকানগুলো উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ‘লাই হারাওবা জগোই’। মাইবি বা নারী পুরোহিতদের নেতৃত্বে নারী, কিশোরী ও শিশুরা নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন সৃষ্টিতত্ত্ব, প্রকৃতি ও মানবজীবনের বিবর্তন। আয়োজকদের মতে, ‘লাই’ অর্থ দেবতা এবং ‘হারাওবা’ মানে আনন্দ অর্থাৎ এটি দেবতাদের আনন্দোৎসব। সুর, তাল ও মুদ্রার নিখুঁত সমন্বয়ে এই নৃত্য কেবল পরিবেশনা নয়, বরং এক পবিত্র প্রার্থনায় রূপ নেয়, যা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে তুলে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই উৎসব মণিপুরি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মেরুদণ্ড হিসেবে টিকে আছে। উৎসব স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ) বলেন, “এটি শুধু একটি উৎসব নয়, আমাদের অস্তিত্বের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছি।”

ইউনেসকো বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসব বর্তমানে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব লাভ করেছে। আধুনিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও ঐতিহ্য কীভাবে স্বমহিমায় টিকে থাকতে পারে, ‘লাই হারাওবা’ তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ফুটে উঠেছে। ধর্ম, প্রকৃতি ও বিশ্বাসের এই মেলবন্ধনে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে এই উৎসব।