Dhaka ১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা সুন্দরগঞ্জে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নওগাঁয় বাসের বক্সের ঢাকনার আঘাতে অটোরিকশার ১ যাত্রী নিহত, আহত ২ শিশু   সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বকাপে জিতবে কোন দল? গোবিন্দগঞ্জে এক মানসিক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পুড়ছে দেশ, জুনে ২-৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বাবা: ৫৪ বছর পর বাংলাদেশে জন্মভিটার সন্ধান পেল পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা ছেলে

গাইবান্ধায় বিনোদনের নতুন ঠিকানা: হলদে সূর্যমুখীর টানে ছুটছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৬৪ Time View

তাসলিমুল হাসান সিয়াম:

বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলদে ফুলের সমারোহ। বাতাসে দোল খাওয়া সূর্যমুখীর হাসিতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার একটি সূর্যমুখী ক্ষেত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এটি এখন পরিণত হয়েছে জেলার অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর সড়ক ঘেঁষে টাকিমারি বিলের অবস্থান। সেখানেই ‘গ্রিন ভ্যালি’ নামক রেস্তোরাঁর পাশে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এই সূর্যমুখী ক্ষেত। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন, ছাত্রছাত্রী ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটে আসছেন বিনোদনপ্রেমীরা। কেউ মেতে উঠছেন সেলফি তোলায়, কেউবা আবার ব্যস্ত শহরের কোলাহল ছেড়ে পড়ন্ত বিকেলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং ক্ষেতের সুরক্ষায় বর্তমানে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করেছেন বাগানের মালিক নুরে আলম সিদ্দিক। তিনি জানান, “প্রতিদিন দর্শনার্থীর ভিড় বাড়তে থাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ক্ষেতের পরিচর্যার স্বার্থেই প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করতে হয়েছে। বর্তমানে জনপ্রতি ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই সামান্য আয়ের টাকাই ক্ষেতের রক্ষণাবেক্ষণ, সেচ ও নিরাপত্তায় কাজে লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি এতে বাড়তি আয়েরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

সূর্যমুখী বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা গৃহিণী আফরোজা আলম বলেন, “গত দু-তিন দিন ধরে ফেসবুকে দেখছি অনেকেই সূর্যমুখী ফুলের ছবি পোস্ট করছেন। তাদের কাছ থেকে ঠিকানা জেনে স্বামী-সন্তানসহ এখানে এসেছি। জায়গাটি সত্যিই চমৎকার। পাশেই একটি সুন্দর রেস্তোরাঁ রয়েছে, তাই ছবি তোলা শেষে প্রকৃতির মাঝে বসেই আজ ইফতার করব।”

বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে আসা তরুণ ফটোগ্রাফার মেহেদী হাসানের কণ্ঠেও ছিল মুগ্ধতা। তিনি বলেন, “গাইবান্ধায় সেভাবে ঘোরার মতো কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। তাই ক্ষণস্থায়ী হলেও এই সূর্যমুখীর বাগান আমাদের দারুণ তৃপ্তি দিচ্ছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী শিরিন আক্তার বলেন, “কৃষকের এমন সৌন্দর্যচর্চা শুধু তাদের বাড়তি আয়ের পথই খুলে দেয়নি, বরং গ্রামীণ পর্যটনের এক নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। সরকারি বা স্থানীয়ভাবে যদি এসব ক্ষেত ঘিরে পর্যটন উপযোগী আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এটি একটি চমৎকার দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

গাইবান্ধায় বিনোদনের নতুন ঠিকানা: হলদে সূর্যমুখীর টানে ছুটছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা

Update Time : ০৩:৫৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তাসলিমুল হাসান সিয়াম:

বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলদে ফুলের সমারোহ। বাতাসে দোল খাওয়া সূর্যমুখীর হাসিতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার একটি সূর্যমুখী ক্ষেত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এটি এখন পরিণত হয়েছে জেলার অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর সড়ক ঘেঁষে টাকিমারি বিলের অবস্থান। সেখানেই ‘গ্রিন ভ্যালি’ নামক রেস্তোরাঁর পাশে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এই সূর্যমুখী ক্ষেত। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন, ছাত্রছাত্রী ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটে আসছেন বিনোদনপ্রেমীরা। কেউ মেতে উঠছেন সেলফি তোলায়, কেউবা আবার ব্যস্ত শহরের কোলাহল ছেড়ে পড়ন্ত বিকেলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং ক্ষেতের সুরক্ষায় বর্তমানে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করেছেন বাগানের মালিক নুরে আলম সিদ্দিক। তিনি জানান, “প্রতিদিন দর্শনার্থীর ভিড় বাড়তে থাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ক্ষেতের পরিচর্যার স্বার্থেই প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করতে হয়েছে। বর্তমানে জনপ্রতি ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই সামান্য আয়ের টাকাই ক্ষেতের রক্ষণাবেক্ষণ, সেচ ও নিরাপত্তায় কাজে লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি এতে বাড়তি আয়েরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

সূর্যমুখী বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা গৃহিণী আফরোজা আলম বলেন, “গত দু-তিন দিন ধরে ফেসবুকে দেখছি অনেকেই সূর্যমুখী ফুলের ছবি পোস্ট করছেন। তাদের কাছ থেকে ঠিকানা জেনে স্বামী-সন্তানসহ এখানে এসেছি। জায়গাটি সত্যিই চমৎকার। পাশেই একটি সুন্দর রেস্তোরাঁ রয়েছে, তাই ছবি তোলা শেষে প্রকৃতির মাঝে বসেই আজ ইফতার করব।”

বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে আসা তরুণ ফটোগ্রাফার মেহেদী হাসানের কণ্ঠেও ছিল মুগ্ধতা। তিনি বলেন, “গাইবান্ধায় সেভাবে ঘোরার মতো কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। তাই ক্ষণস্থায়ী হলেও এই সূর্যমুখীর বাগান আমাদের দারুণ তৃপ্তি দিচ্ছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী শিরিন আক্তার বলেন, “কৃষকের এমন সৌন্দর্যচর্চা শুধু তাদের বাড়তি আয়ের পথই খুলে দেয়নি, বরং গ্রামীণ পর্যটনের এক নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। সরকারি বা স্থানীয়ভাবে যদি এসব ক্ষেত ঘিরে পর্যটন উপযোগী আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এটি একটি চমৎকার দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।”