Dhaka ০১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, থানায় মামলা দায়ের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে চার্জারভ্যান চালক নিহত পথরোধ করে ছিনতাই, দুই ডাকাত গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দামে নতুন চাপের আশঙ্কা ঠাকুরগাঁওয়ে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা অনিশ্চয়তার অবসান: নওগাঁয় এমপি ধলুর অর্থায়নে পাকা ঘর পেল দুই অসহায় পরিবার ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ারের মনোনয়ন সংগ্রহ মেধা ও স্বপ্নের পাশে গাইবান্ধায় শিক্ষাবৃত্তি ও কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কথা জানালেন উপহাইকমিশনার গাইবান্ধায় ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১৩ মাসের শিশু উদ্ধার, বাবাসহ গ্রেফতার ৪

ঘোড়াঘাটে ৩০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভরসা কেবল একজন ফার্মাসিস্ট!

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। চিকিৎসক সংকট, জরাজীর্ণ ভবন আর ময়লা-আবর্জনার স্তুপে মুখ থুবড়ে পড়েছে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘোড়াঘাট পৌর সদরের এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বর্তমানে যেন একটি পরিত্যক্ত আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা, আর ভেতরে কুকুর-বেড়ালের অবাধ বিচরণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। অথচ একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেখানে অন্তত একজন এমবিবিএস ডাক্তার থাকার কথা, সেখানে দীর্ঘ দিন ধরে কোনো চিকিৎসকের দেখা নেই। বর্তমানে জরাজীর্ণ একটি ঘরে একজন মাত্র ফার্মাসিস্ট দিয়ে কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেন্দ্রটি।

নামমাত্র কিছু প্রাথমিক সেবা দেওয়া হলেও রোগীদের জন্য কোনো আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ওষুধ এখানে পাওয়া যায় না। বিগত সরকারের আমলে একাধিক জনপ্রতিনিধি এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন লক্ষ করা যায়নি। এলাকার প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দার চিকিৎসাসেবার ভরসা এই কেন্দ্রটি অকেজো হয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষ।

সামান্য জ্বরে বা প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনেও রোগীদের এখন ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। যাতায়াত খরচ আর সময়ের অপচয়ে অনেক সময় গরিব রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখানে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক। যাতে সাধারণ মানুষকে সামান্য চিকিৎসার জন্য মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতে না হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। তবে জনস্বার্থে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, থানায় মামলা দায়ের

ঘোড়াঘাটে ৩০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভরসা কেবল একজন ফার্মাসিস্ট!

Update Time : ০৩:২০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। চিকিৎসক সংকট, জরাজীর্ণ ভবন আর ময়লা-আবর্জনার স্তুপে মুখ থুবড়ে পড়েছে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘোড়াঘাট পৌর সদরের এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বর্তমানে যেন একটি পরিত্যক্ত আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা, আর ভেতরে কুকুর-বেড়ালের অবাধ বিচরণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। অথচ একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেখানে অন্তত একজন এমবিবিএস ডাক্তার থাকার কথা, সেখানে দীর্ঘ দিন ধরে কোনো চিকিৎসকের দেখা নেই। বর্তমানে জরাজীর্ণ একটি ঘরে একজন মাত্র ফার্মাসিস্ট দিয়ে কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেন্দ্রটি।

নামমাত্র কিছু প্রাথমিক সেবা দেওয়া হলেও রোগীদের জন্য কোনো আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ওষুধ এখানে পাওয়া যায় না। বিগত সরকারের আমলে একাধিক জনপ্রতিনিধি এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন লক্ষ করা যায়নি। এলাকার প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দার চিকিৎসাসেবার ভরসা এই কেন্দ্রটি অকেজো হয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষ।

সামান্য জ্বরে বা প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনেও রোগীদের এখন ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। যাতায়াত খরচ আর সময়ের অপচয়ে অনেক সময় গরিব রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখানে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক। যাতে সাধারণ মানুষকে সামান্য চিকিৎসার জন্য মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতে না হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। তবে জনস্বার্থে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।