Dhaka ০২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধার বিনোদন ও সংস্কৃতি: ঘাঘটের জলে ভাসা স্মৃতি, নতুন সময়ের ডাক দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র, আওয়ামী সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিল  ডিবি পুলিশ পরিচয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে দুই যুবক গ্রেপ্তার সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে পালিত হলো তথ্য অধিকার দিবস দুইদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নওগাঁয় বাস চলাচল স্বাভাবিক জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সাধারণ বিতর্ক শেষ, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইল বাংলাদেশ সুন্দরগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ মামলা: আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩, পুলিশের নথিতে অসঙ্গতিতে ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যার নির্দেশ আদালতের প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা বাস-অটোরিকশা দ্বন্দ্ব: নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনেও বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সাধারণ বিতর্ক শেষ, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইল বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শেষ হয়েছে।

২২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ বিতর্কে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা যুদ্ধ ও সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক সংকট, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক বৈষম্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার কার্যকারিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যু তুলে ধরেছেন।

এবারের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”—অর্থাৎ “আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ”। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবারের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত এবারের সাধারণ বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। গাজা, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্বনেতারা নিজ নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান উঠে আসে।

বিশ্বশান্তিতে যুক্তি, কূটনীতি ও মানবতার আহ্বান বাংলাদেশের

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ দেন। বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

বিশ্বশান্তির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

তিনি নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতিও বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনি জনগণের  আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতিও বাংলাদেশের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল রোহিঙ্গা সংকট। তিনি বলেন, নয় বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এর ফলে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অর্থায়নে জোর

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশি বহনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

তিনি আসন্ন COP31-এ Climate Justice, Climate Finance এবং Adaptation Support-এর ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্ন ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা ও খরার প্রভাব মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন।

উন্নয়ন ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে ‘3-R’ কৌশল

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য সরকারের 3-R Strategy—Recovery, Restoration and Reconstruction বা পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি Manufacturing Hub হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেন। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের Start-up উদ্যোগে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের কথাও তাঁর ভাষণে উঠে আসে।

নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে সরকারের আর্থসামাজিক রূপান্তর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি এমন একটি দেশ গড়ার প্রত্যাশার কথা বলেন, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রতিটি শিশু তার পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি “Bangladesh First: Bangladesh for All” হিসেবে তুলে ধরেন।

বৈশ্বিক সংকটে কার্যকর জাতিসংঘের দাবি

এবারের General Debate-এ বিভিন্ন দেশের বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে জাতিসংঘের ভূমিকা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান এবং Women, Peace and Security এজেন্ডায় নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণের কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তুলে ধরা হয়।

তবে General Debate-এ বিশ্বনেতাদের বক্তব্যকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এটি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অবস্থান, উদ্বেগ ও অগ্রাধিকার বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রধান বার্ষিক পরিসর।

উচ্চপর্যায়ের General Debate শেষ হলেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শেষ হয়নি। গত ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া নিয়মিত অধিবেশন ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে বিভিন্ন কমিটি ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশন গৃহীত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধার বিনোদন ও সংস্কৃতি: ঘাঘটের জলে ভাসা স্মৃতি, নতুন সময়ের ডাক

জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সাধারণ বিতর্ক শেষ, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইল বাংলাদেশ

Update Time : ১০:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শেষ হয়েছে।

২২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ বিতর্কে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা যুদ্ধ ও সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক সংকট, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক বৈষম্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার কার্যকারিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যু তুলে ধরেছেন।

এবারের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”—অর্থাৎ “আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ”। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবারের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত এবারের সাধারণ বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। গাজা, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্বনেতারা নিজ নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান উঠে আসে।

বিশ্বশান্তিতে যুক্তি, কূটনীতি ও মানবতার আহ্বান বাংলাদেশের

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ দেন। বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

বিশ্বশান্তির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

তিনি নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতিও বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনি জনগণের  আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতিও বাংলাদেশের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল রোহিঙ্গা সংকট। তিনি বলেন, নয় বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এর ফলে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অর্থায়নে জোর

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশি বহনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

তিনি আসন্ন COP31-এ Climate Justice, Climate Finance এবং Adaptation Support-এর ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্ন ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা ও খরার প্রভাব মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন।

উন্নয়ন ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে ‘3-R’ কৌশল

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য সরকারের 3-R Strategy—Recovery, Restoration and Reconstruction বা পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি Manufacturing Hub হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেন। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের Start-up উদ্যোগে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের কথাও তাঁর ভাষণে উঠে আসে।

নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে সরকারের আর্থসামাজিক রূপান্তর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি এমন একটি দেশ গড়ার প্রত্যাশার কথা বলেন, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রতিটি শিশু তার পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি “Bangladesh First: Bangladesh for All” হিসেবে তুলে ধরেন।

বৈশ্বিক সংকটে কার্যকর জাতিসংঘের দাবি

এবারের General Debate-এ বিভিন্ন দেশের বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে জাতিসংঘের ভূমিকা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান এবং Women, Peace and Security এজেন্ডায় নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণের কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তুলে ধরা হয়।

তবে General Debate-এ বিশ্বনেতাদের বক্তব্যকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এটি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অবস্থান, উদ্বেগ ও অগ্রাধিকার বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রধান বার্ষিক পরিসর।

উচ্চপর্যায়ের General Debate শেষ হলেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শেষ হয়নি। গত ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া নিয়মিত অধিবেশন ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে বিভিন্ন কমিটি ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশন গৃহীত হবে।