
নওগাঁ প্রতিনিধি:
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে টানটান উত্তেজনা আর উন্মাদনা। দেশের অন্যান্য জেলার মতো নওগাঁতেও প্রিয় দলকে ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিরচেনা আবহ ছাপিয়ে এবার নওগাঁর পোরশা উপজেলায় দেখা গেল সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্ববোধের এক ব্যতিক্রমী চিত্র।
উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামের ফুটবলপ্রেমী তরুণ ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন প্রায় ৪০০ ফুট দীর্ঘ বিশাল এক ব্রাজিলের পতাকা। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—পতাকা তৈরির কাজে শুধু ব্রাজিল সমর্থকরাই নন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকরাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে গ্রামের ছোট-বড় সবাই মিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চাঁদা তুলে সাড়ে আট হাজার টাকার একটি তহবিল গঠন করেন। সেই অর্থ দিয়েই তৈরি করা হয় বিশাল আকৃতির এই পতাকাটি। গ্রামের আমিনুল ইসলাম বাচ্চু মাস্টারের বাড়ি থেকে শুরু করে রাশেদা মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজ-হলুদের এই পতাকা। বিশ্বকাপ ঘিরে এমন আয়োজনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে স্থানীয় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যেন বাড়তি মাত্রা পেয়েছে।
এই আয়োজনটির মূল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর সম্প্রীতির বার্তায়। সাধারণত বিশ্বকাপ এলেই যেখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও কথার লড়াই চোখে পড়ে, সেখানে কাচারীপাড়ার তরুণরা দেখালেন এক অনন্য উদাহরণ। পতাকা তৈরি ও টাঙানোর কাজে একসাথে দিনরাত শ্রম দিয়েছেন ব্রাজিল সমর্থক আল আমিন, নাকিব ও শামীম। আবার সমান উৎসাহে তাদের সাথে হাত মিলিয়েছেন আর্জেন্টিনা সমর্থক মঞ্জিল ও মাসরুলও।
উদ্যোক্তরা জানান “বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সর্বোচ্চ সম্মান ও অগ্রাধিকার দিয়েই তার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে ব্রাজিলের এই পতাকা। ফুটবল আনন্দের, বিভেদের নয়। আমরা খেলার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।”
এক আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, “এখানে যারা কাজ করেছি, সবাই ব্রাজিলের সমর্থক নই। আমাদের মধ্যে কট্টর আর্জেন্টিনার ভক্তও আছে। কিন্তু বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ আর মিলনমেলা। সেই আনন্দকে সবাই মিলে একসাথে উদযাপন করতেই আমরা এই উদ্যোগে শামিল হয়েছি।”
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের প্রশংসা করেছেন পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন:”বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রেখে এবং প্রচলিত আইন মেনে কেউ যদি নিজের পছন্দের দলের পতাকা টাঙায়, তাতে কোনো বাধা নেই। খেলাকে ঘিরে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ অবশ্যই ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয়।”
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রিয় দলকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, হাঙ্গামা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কাচারীপাড়া গ্রামের তরুণদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ফুটবল যে শুধু মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং মানুষে মানুষে বন্ধন তৈরিরও এক শক্তিশালী মাধ্যম—সেটিই যেন নতুন করে প্রমাণ করল এই গ্রামের যুবসমাজ।

Reporter Name 











