Dhaka ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ আব্বাসউদ্দীনের জন্মবার্ষিকীতে ভাওয়াইয়া আসর: ও মোর কালারে কালা পঞ্চগড়ের আকাশে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘ সরতেই ধরা দিল হিমালয়ের রূপালি মুকুট ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে ১১ ও হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু দিনাজপুরকে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা জিডি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, অপপ্রচারের অভিযোগ খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, অভিযুক্ত প্রশিক্ষক পলাতক তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫৪ Time View
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে ৮লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল জলিল নামে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। তবে চাকরি না হওয়ায় ২লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ৬লাখ টাকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন একই দলের এক কর্মী।
এমদাদুল হক পিন্টু নামের ওই কর্মীর অভিযোগ, তার স্ত্রীকে দলিল লেখক সমিতির মুহরী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। তাই ঘটনার প্রতিকার পেতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
আবেদনের অনুলিপি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী এমদাদুল হক পিন্টু উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের ফেটগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য।
আর অভিযোগ ওঠা আব্দুল জলিল মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি। এবং তিনি কুসুম্বা ইউনিয়নের বড়পই গ্রামের মৃত নওসাদ আলী মিস্ত্রির ছেলে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ জুন যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল এমদাদুল হক পিন্টুর স্ত্রীকে প্রসাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চাকরি দিতে ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত চান এমদাদুল হক পিন্টু। কিন্তু টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করতে থাকে। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দদের অবহিত করলে ২লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি ৬লাখ টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করা হচ্ছে।
এমদাদুল হক পিন্টু অভিযোগ করে বলেন, চাকরির আশায় চাষের জমি কট ও স্ত্রীর সোনার গহনা বন্ধক রেখে টাকা সংগ্রহ করেছিলাম। এতগুলো টাকা তাকে দিয়ে প্রতারিত হয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি, যা নিজ দলের নেতার কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এখন টাকা ফেরত না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছি। প্রতি মাসে ঋণের সুদও দিতে হচ্ছে।
তিনি ক্ষোভ নিয়ে বলেন, আমি ২০বছর ধরে বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। আমাদের আন্দোলন সংগ্রামে ফ্যাসিস্টের বিদায় হলেও নিজ দলের নেতার দ্বারা প্রতারিত হচ্ছি। তাই যুবদলের একজন কর্মী হিসেবে দাবি জানাই, আমার সাথে প্রতারণা করে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল জলিল। তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমরা রাজনৈতিক কর্মী। আর রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের এগুলো একটা অংশ। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি চক্র মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তবে এগুলো থাকবে না ভাই। দুই একদিনের মধ্যে সে নিজেই সরি বলে মাফ চেয়ে নেবে বলেও জানালেন যুবদলের এই নেতা।
জানতে চাইলে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু। তিনি মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগের অনুলিপি কেন্দ্রীয় অফিসে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিমাংসা হয়নি। যদি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়, তাহলে উভয়ের জন্য ভালো। কারণ একজন কর্মী তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। তাই যুবদলের সভাপতি জলিলের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরও আমি বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করবো।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ 

Update Time : ০১:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে ৮লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল জলিল নামে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। তবে চাকরি না হওয়ায় ২লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ৬লাখ টাকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন একই দলের এক কর্মী।
এমদাদুল হক পিন্টু নামের ওই কর্মীর অভিযোগ, তার স্ত্রীকে দলিল লেখক সমিতির মুহরী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। তাই ঘটনার প্রতিকার পেতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
আবেদনের অনুলিপি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী এমদাদুল হক পিন্টু উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের ফেটগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য।
আর অভিযোগ ওঠা আব্দুল জলিল মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি। এবং তিনি কুসুম্বা ইউনিয়নের বড়পই গ্রামের মৃত নওসাদ আলী মিস্ত্রির ছেলে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ জুন যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল এমদাদুল হক পিন্টুর স্ত্রীকে প্রসাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চাকরি দিতে ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত চান এমদাদুল হক পিন্টু। কিন্তু টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করতে থাকে। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দদের অবহিত করলে ২লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি ৬লাখ টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করা হচ্ছে।
এমদাদুল হক পিন্টু অভিযোগ করে বলেন, চাকরির আশায় চাষের জমি কট ও স্ত্রীর সোনার গহনা বন্ধক রেখে টাকা সংগ্রহ করেছিলাম। এতগুলো টাকা তাকে দিয়ে প্রতারিত হয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি, যা নিজ দলের নেতার কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এখন টাকা ফেরত না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছি। প্রতি মাসে ঋণের সুদও দিতে হচ্ছে।
তিনি ক্ষোভ নিয়ে বলেন, আমি ২০বছর ধরে বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। আমাদের আন্দোলন সংগ্রামে ফ্যাসিস্টের বিদায় হলেও নিজ দলের নেতার দ্বারা প্রতারিত হচ্ছি। তাই যুবদলের একজন কর্মী হিসেবে দাবি জানাই, আমার সাথে প্রতারণা করে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল জলিল। তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমরা রাজনৈতিক কর্মী। আর রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের এগুলো একটা অংশ। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি চক্র মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তবে এগুলো থাকবে না ভাই। দুই একদিনের মধ্যে সে নিজেই সরি বলে মাফ চেয়ে নেবে বলেও জানালেন যুবদলের এই নেতা।
জানতে চাইলে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু। তিনি মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগের অনুলিপি কেন্দ্রীয় অফিসে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিমাংসা হয়নি। যদি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়, তাহলে উভয়ের জন্য ভালো। কারণ একজন কর্মী তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। তাই যুবদলের সভাপতি জলিলের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরও আমি বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করবো।