Dhaka ০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি নওগাঁয় দেশি অস্ত্রসহ সাত ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ পলাশবাড়ীতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে দোকানঘর পুড়ে ছাই ফুলছড়িতে রেগুলেটর নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ঠাকুরবাড়ি মেলা যেন অনাবিল এক মিলনক্ষেত্র উত্তরের যে বিদ্যালয়ে ২ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নেন ৫ শিক্ষক মৌলভীবাজারে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কৃষকের কপালে ভাঁজ রাণীনগরে বৈরী আবহাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান কাটা শুরু গোবিন্দগঞ্জে এসআই শিবলী কায়েসের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, থানায় জিডি ঘোড়াঘাটে টেন্ডারের এক বছর পরও থমকে আছে সড়ক সংস্কার: দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

উত্তরের যে বিদ্যালয়ে ২ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নেন ৫ শিক্ষক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩ Time View

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা পাঁচ জন। অথচ পুরো স্কুলজুড়ে শিক্ষার্থীর দেখা মিলল মাত্র দু’জনের। পাঁচজন শিক্ষক মিলে সেই দুই শিক্ষার্থীকেই পাঠদান করছেন।

অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পি.এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, পরিপাটি ক্লাসরুম আর সারি সারি চেয়ার-টেবিল। স্কুলটিতে কাগজে কলমে ৫৪ জন ছাত্র ছাত্রী থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীর কোলাহল নেই। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি কক্ষই প্রায় শূন্য।

প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন এক নারী শিক্ষক। একটি কক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর ক্লাস নিচ্ছেন একজন পুরুষ শিক্ষক। বাকি শিক্ষকরা অফিস কক্ষে বসে অলস সময় পার করছেন।

বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা মতে, ঐ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪ জন। এর মধ্যে প্রাক প্রাথমিকে ১৪ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৭ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৬ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন।

জানা গেছে, প্রথম শিফট অর্থাৎ সকালে দু/একজন ছাত্র-ছাত্রী আসলেও ২য় শিফট অর্থাৎ অপরাহ্নর বেশির ভাগ সময়ে কেউ আসে না। শিক্ষকরা দুপুরের পর স্কুল বন্ধ করে চলে যান।

ছাত্র-ছাত্রীরা কেন স্কুলে আসে না, তার কোনো খোঁজ খবরই রাখেন না শিক্ষকরা। অথচ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নেওয়া বিধান রয়েছে। হোম ভিজিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সব তথ্য বিদ্যালয়ে থাকার কথা। এ রকম কোন তথ্যই স্কুলে নাই। কাগজে কলমে বিদ্যালয়ে ৫৪ জন ছাত্র-ছাত্রী দেখানো হলেও বাস্তবে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জন।

এ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে গেলে প্রধান শিক্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের পিছু নেন, ফলে প্রধান শিক্ষকের সামনে কেউ কোন কিছু বলতে চাননি। প্রধান শিক্ষক চলে যাওয়ার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, স্কুলের সাথেই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি। তিনি খুব প্রভাবশালী তাই কেউ স্কুলটির বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। স্কুলে আসলেও ঠিক মতো পড়াশোনা করান না। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। পাশের এলাকায় কিন্ডারগার্টেন তথা বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠায় অভিভাবকরা সেখানে ঝুঁকছেন। শিক্ষকদের অবহেলার কারণে বিদ্যালয়টিতে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, আশপাশের এলাকায় কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠায় আগের তুলনায় শিক্ষার্থী কমে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে। বাড়ি বাড়ি গিয়েও অভিভাবকদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। ক্লাসে উপস্থিতি বাড়াতে কাজ চলমান আছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিম উদ্দিন জানান, গত ২৬ এপ্রিল ওই স্কুলের শিক্ষকদের সহকারি শিক্ষা অফিসার শাহিনুর ইসলাম শোকজ করেছেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বিষয়ে তাদের আবারো শোকজ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

উত্তরের যে বিদ্যালয়ে ২ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নেন ৫ শিক্ষক

Update Time : ০২:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা পাঁচ জন। অথচ পুরো স্কুলজুড়ে শিক্ষার্থীর দেখা মিলল মাত্র দু’জনের। পাঁচজন শিক্ষক মিলে সেই দুই শিক্ষার্থীকেই পাঠদান করছেন।

অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পি.এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, পরিপাটি ক্লাসরুম আর সারি সারি চেয়ার-টেবিল। স্কুলটিতে কাগজে কলমে ৫৪ জন ছাত্র ছাত্রী থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীর কোলাহল নেই। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি কক্ষই প্রায় শূন্য।

প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন এক নারী শিক্ষক। একটি কক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর ক্লাস নিচ্ছেন একজন পুরুষ শিক্ষক। বাকি শিক্ষকরা অফিস কক্ষে বসে অলস সময় পার করছেন।

বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা মতে, ঐ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪ জন। এর মধ্যে প্রাক প্রাথমিকে ১৪ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৭ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৬ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন।

জানা গেছে, প্রথম শিফট অর্থাৎ সকালে দু/একজন ছাত্র-ছাত্রী আসলেও ২য় শিফট অর্থাৎ অপরাহ্নর বেশির ভাগ সময়ে কেউ আসে না। শিক্ষকরা দুপুরের পর স্কুল বন্ধ করে চলে যান।

ছাত্র-ছাত্রীরা কেন স্কুলে আসে না, তার কোনো খোঁজ খবরই রাখেন না শিক্ষকরা। অথচ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নেওয়া বিধান রয়েছে। হোম ভিজিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সব তথ্য বিদ্যালয়ে থাকার কথা। এ রকম কোন তথ্যই স্কুলে নাই। কাগজে কলমে বিদ্যালয়ে ৫৪ জন ছাত্র-ছাত্রী দেখানো হলেও বাস্তবে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জন।

এ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে গেলে প্রধান শিক্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের পিছু নেন, ফলে প্রধান শিক্ষকের সামনে কেউ কোন কিছু বলতে চাননি। প্রধান শিক্ষক চলে যাওয়ার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, স্কুলের সাথেই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি। তিনি খুব প্রভাবশালী তাই কেউ স্কুলটির বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। স্কুলে আসলেও ঠিক মতো পড়াশোনা করান না। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। পাশের এলাকায় কিন্ডারগার্টেন তথা বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠায় অভিভাবকরা সেখানে ঝুঁকছেন। শিক্ষকদের অবহেলার কারণে বিদ্যালয়টিতে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, আশপাশের এলাকায় কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠায় আগের তুলনায় শিক্ষার্থী কমে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে। বাড়ি বাড়ি গিয়েও অভিভাবকদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। ক্লাসে উপস্থিতি বাড়াতে কাজ চলমান আছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিম উদ্দিন জানান, গত ২৬ এপ্রিল ওই স্কুলের শিক্ষকদের সহকারি শিক্ষা অফিসার শাহিনুর ইসলাম শোকজ করেছেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বিষয়ে তাদের আবারো শোকজ করা হবে।