Dhaka ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পলাশবাড়ীতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে দোকানঘর পুড়ে ছাই ফুলছড়িতে রেগুলেটর নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ঠাকুরবাড়ি মেলা যেন অনাবিল এক মিলনক্ষেত্র উত্তরের যে বিদ্যালয়ে ২ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নেন ৫ শিক্ষক মৌলভীবাজারে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কৃষকের কপালে ভাঁজ রাণীনগরে বৈরী আবহাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান কাটা শুরু গোবিন্দগঞ্জে এসআই শিবলী কায়েসের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, থানায় জিডি ঘোড়াঘাটে টেন্ডারের এক বছর পরও থমকে আছে সড়ক সংস্কার: দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ দা নিয়ে পুলিশের উপর হামলা আসামীর স্ত্রীর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

মৌলভীবাজারে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কৃষকের কপালে ভাঁজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ Time View

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরোধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে পানির নিচে।

বিশেষ করে গোগালি ছড়া বাঁধ ভাঙনে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর,গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন এবং জয়চন্ডী ইউনিয়নের দানাপুর, কামারকান্দি লামাগাঁও গ্রামে ১শ হেক্টর আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজতলা,শতাধিক পুকুর ভড়া মাছ তলিয়ে গেছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন সদর ও জয়চন্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের কেওলার হাওর এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গত রাত থেকে দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করে। এতে কেওলার হাওরে প্রায় ৫০০ হেক্টর বোরোধান নিমজ্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে মুন্সিবাজার ও শমশেরনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও ধানক্ষেত ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে ৭০ হেক্টর এবং আংশিকভাবে ৩৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। তবে সবজি ক্ষেতের ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে ভয়াবহ রূপে নতুন ভাবে বিপথগামী করে তুলতে পারে।

কেওলার হাওরের কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় আগাম বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আধাপাকা ধান কাটার আগেই ডুবে যাওয়ায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, এখন সেই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় সবজি ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭০ হেক্টর জমির বোরোধান সম্পূর্ণ এবং ৩৫০ হেক্টর আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পলাশবাড়ীতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে দোকানঘর পুড়ে ছাই

মৌলভীবাজারে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কৃষকের কপালে ভাঁজ

Update Time : ১০:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরোধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে পানির নিচে।

বিশেষ করে গোগালি ছড়া বাঁধ ভাঙনে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর,গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন এবং জয়চন্ডী ইউনিয়নের দানাপুর, কামারকান্দি লামাগাঁও গ্রামে ১শ হেক্টর আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজতলা,শতাধিক পুকুর ভড়া মাছ তলিয়ে গেছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন সদর ও জয়চন্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের কেওলার হাওর এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গত রাত থেকে দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করে। এতে কেওলার হাওরে প্রায় ৫০০ হেক্টর বোরোধান নিমজ্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে মুন্সিবাজার ও শমশেরনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও ধানক্ষেত ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে ৭০ হেক্টর এবং আংশিকভাবে ৩৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। তবে সবজি ক্ষেতের ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে ভয়াবহ রূপে নতুন ভাবে বিপথগামী করে তুলতে পারে।

কেওলার হাওরের কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় আগাম বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আধাপাকা ধান কাটার আগেই ডুবে যাওয়ায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, এখন সেই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় সবজি ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭০ হেক্টর জমির বোরোধান সম্পূর্ণ এবং ৩৫০ হেক্টর আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।