Dhaka ০৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পলাশবাড়িতে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, এলাকায় থমথমে অবস্থা অবশেষে সত্যি হলো গুঞ্জন, শাকিবের সেই নীতিই মেনেছিলেন বুবলী বিশ্বকাপ ফুটবল সরাসরি দেখাবে বিটিভি বিশেষ অসহায় নারীর জমিসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ, থানায় মেলেনি প্রতিকার গাইবান্ধায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের পুরস্কার বিতরণ গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা

রাণীনগরে সালিশ বৈঠকে দ্বন্দ্বের জের, দুইপক্ষের সংর্ঘষে আহত ১৫

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৬০ Time View
নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁর রাণীনগরে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে দ্বন্দ্বের জের ধরে দুইপক্ষের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে  উপজেলার পারইল ইউনিয়নের ভান্ডারগ্রাম নওপুকুরিয়া গ্রামে এই সংর্ঘষের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটার পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের এছাহক ফকিরের ছেলে আদম ফকির (২৫) বিদেশ থেকে গত ১৫দিন আগে দেশে আসেন। তার ১ম স্ত্রী থাকার পরেও জনৈক ৪০-৪৫ বছর বয়সি এক নারীকে ২য় বিয়ে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোড়াফেরা করে দুইদিন আগে ওই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে যান। এ ঘটনায় ওই মেয়ে পক্ষের লোকজন শুক্রবার রাতে এছাহক ফকিরের খলিয়ানে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। ওই বৈঠকে মেয়ে পক্ষের লোকজন কাজী বংশের লোকজনকে সহায়তা করার জন্য ডেকে নেয়। এতে ১ম পক্ষের স্ত্রীর স্বজনরাও উপস্থিত ছিল।
বৈঠকে ১ম স্ত্রীর বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্র না থাকায় ১ম স্ত্রীর পক্ষের লোকজন ২০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে কাবিন রেজিস্ট্রির দাবি জানায়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে ১২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বৈঠকেই কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়। এর পরই কাজী বংশের লোকজন এবং এছাহক ফকিরের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কা-ধাক্কি হয়। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার কাজীর ছেলে রুহুল আমিন কাজী (৩০) এছাহক ফকিরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এছাহক ফকির ও তার লোকজন রুহুলকে মারধর করে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
এতে কুদ্দুস কাজী (২৮), জাহাঙ্গীর কাজী (৩৬), নুর ইসলাম কাজী (৩৮), হেলাল কাজী (৪২), রেজাউল ইসলাম রাব্বানী কাজী (৩৮), ফাহিম কাজী (২৬), শিহাব কাজী (১৫), আসমা খাতুন (৪০) ও দিলবর কাজী (৪৫) আহত হয়।
অপর দিকে এছাহক ফকির পক্ষের এছাহক ফকির (৫৫), ইসরাফিল ফকির (৩৫), জাহিদুল ফকির (৪২), রিপন ফকির (১৮), আব্দুল মজিদ ফকির (৩২) ও জিয়াউর ফকির (৪০) আহত হয়েছেন।
নওপুকুরিয়া গ্রামের ফারেস কাজী দাবি করেন, সালিশ বৈঠকে কাজী বংশের লোকজন এবং এছাহক ফকিরের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ ঘটনার জের ধরে রুহুল আমিন কাজী- এছাহক ফকিরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এছাহক ফকির ও তার লোকজন রুহুল কাজীকে মারধর করে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পরলে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এছাহক ফকির বলেন, শুক্রবার রাতে সালিশ বৈঠকে কাজী পরিবারের লোকজনের সাথে দ্বন্দ্ব হয়েছে। আমরা আগে মারধর করিনি দাবি করে তিনি বলেন, রাতে সালিশ বৈঠকে দ্বন্দ্বের জের ধরে শনিবার হঠাৎ করেই তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থীতি শান্ত করা হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পলাশবাড়িতে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, এলাকায় থমথমে অবস্থা

রাণীনগরে সালিশ বৈঠকে দ্বন্দ্বের জের, দুইপক্ষের সংর্ঘষে আহত ১৫

Update Time : ১১:২২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁর রাণীনগরে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে দ্বন্দ্বের জের ধরে দুইপক্ষের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে  উপজেলার পারইল ইউনিয়নের ভান্ডারগ্রাম নওপুকুরিয়া গ্রামে এই সংর্ঘষের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটার পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের এছাহক ফকিরের ছেলে আদম ফকির (২৫) বিদেশ থেকে গত ১৫দিন আগে দেশে আসেন। তার ১ম স্ত্রী থাকার পরেও জনৈক ৪০-৪৫ বছর বয়সি এক নারীকে ২য় বিয়ে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোড়াফেরা করে দুইদিন আগে ওই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে যান। এ ঘটনায় ওই মেয়ে পক্ষের লোকজন শুক্রবার রাতে এছাহক ফকিরের খলিয়ানে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। ওই বৈঠকে মেয়ে পক্ষের লোকজন কাজী বংশের লোকজনকে সহায়তা করার জন্য ডেকে নেয়। এতে ১ম পক্ষের স্ত্রীর স্বজনরাও উপস্থিত ছিল।
বৈঠকে ১ম স্ত্রীর বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্র না থাকায় ১ম স্ত্রীর পক্ষের লোকজন ২০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে কাবিন রেজিস্ট্রির দাবি জানায়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে ১২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বৈঠকেই কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়। এর পরই কাজী বংশের লোকজন এবং এছাহক ফকিরের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কা-ধাক্কি হয়। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার কাজীর ছেলে রুহুল আমিন কাজী (৩০) এছাহক ফকিরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এছাহক ফকির ও তার লোকজন রুহুলকে মারধর করে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
এতে কুদ্দুস কাজী (২৮), জাহাঙ্গীর কাজী (৩৬), নুর ইসলাম কাজী (৩৮), হেলাল কাজী (৪২), রেজাউল ইসলাম রাব্বানী কাজী (৩৮), ফাহিম কাজী (২৬), শিহাব কাজী (১৫), আসমা খাতুন (৪০) ও দিলবর কাজী (৪৫) আহত হয়।
অপর দিকে এছাহক ফকির পক্ষের এছাহক ফকির (৫৫), ইসরাফিল ফকির (৩৫), জাহিদুল ফকির (৪২), রিপন ফকির (১৮), আব্দুল মজিদ ফকির (৩২) ও জিয়াউর ফকির (৪০) আহত হয়েছেন।
নওপুকুরিয়া গ্রামের ফারেস কাজী দাবি করেন, সালিশ বৈঠকে কাজী বংশের লোকজন এবং এছাহক ফকিরের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ ঘটনার জের ধরে রুহুল আমিন কাজী- এছাহক ফকিরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এছাহক ফকির ও তার লোকজন রুহুল কাজীকে মারধর করে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পরলে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এছাহক ফকির বলেন, শুক্রবার রাতে সালিশ বৈঠকে কাজী পরিবারের লোকজনের সাথে দ্বন্দ্ব হয়েছে। আমরা আগে মারধর করিনি দাবি করে তিনি বলেন, রাতে সালিশ বৈঠকে দ্বন্দ্বের জের ধরে শনিবার হঠাৎ করেই তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থীতি শান্ত করা হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।