Dhaka ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নটর ডেম ও সেন্ট যোসেফে পলাশবাড়ী গ্রীন ফিল্ড স্কুলের ৭ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রেস ব্রিফিং ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু ১২ নভেম্বর: প্রথম ধাপে ভোট ৮০ উপজেলার ইউনিয়নে গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ?

রৌমারীতে ট্রিপল মার্ডার: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • ৫১৫ Time View

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ভাই ও একজন ভাতিজাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাঁসি ও থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং থানা ঘেরাও করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার ভুন্দুরচর ও ফুলবাড়ি এলাকা ঘুরে স্থানীয়রা রৌমারী বাজারের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করেন এবং পরে রৌমারী থানা ঘেরাও করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

বক্তারা জানান, গত ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে রৌমারী সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভুন্দরচর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে শাহজামাল, সোলেমান ও বিবাদী পক্ষ ফজলে করিম, ফজলে রহিম এবং রব্বানিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই দিন শাহজামালের জমিতে গরু ঢুকে ধানের চারা খাওয়ায় গরুটিকে আটকে রাখে তারা। এরপর প্রতিপক্ষের লোকজন রাতেই হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে অন্তত ৫-৬ জন নারী-পুরুষ আহত হন।

পরদিন (২০ জুলাই) আহত নুরজাহান বেগম থানায় অভিযোগ দিতে গেলে রৌমারী থানার ওসি অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনার পাঁচদিন পর, ২৫ জুলাই সকালে জমিতে পানি দিতে যাওয়া অবস্থায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎপেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন আপেল, আঙ্গুর, রাজু, ভুলু মিয়া, মিঠু, ইদু, নুর মোহাম্মদসহ ২০-২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কোপে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন বুলু মিয়া, নুর আলম ও ফুলবাবু। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান তারা। এছাড়াও আরও ৮ জনের বেশি গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এসময় নিহতদের স্বজনরা জানায়, ওসি যদি অভিযোগটি সময়মতো গ্রহণ করতেন, তাহলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতো না।

মৃতদের পরিবারের সদস্য শাপলা, শরিফা, ফুলুরানী, শাহজামালসহ এলাকাবাসী জানান, অবিলম্বে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাজু মিয়া (৩৪), আপেল মিয়া (৪৫), নুর মোহাম্মদ (২৫), সাহেবানি খাতুন (৬০) ও কিনেজা খাতুন (৫০) সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপেল মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নটর ডেম ও সেন্ট যোসেফে পলাশবাড়ী গ্রীন ফিল্ড স্কুলের ৭ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ

রৌমারীতে ট্রিপল মার্ডার: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

Update Time : ০৫:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ভাই ও একজন ভাতিজাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাঁসি ও থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং থানা ঘেরাও করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার ভুন্দুরচর ও ফুলবাড়ি এলাকা ঘুরে স্থানীয়রা রৌমারী বাজারের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করেন এবং পরে রৌমারী থানা ঘেরাও করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

বক্তারা জানান, গত ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে রৌমারী সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভুন্দরচর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে শাহজামাল, সোলেমান ও বিবাদী পক্ষ ফজলে করিম, ফজলে রহিম এবং রব্বানিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই দিন শাহজামালের জমিতে গরু ঢুকে ধানের চারা খাওয়ায় গরুটিকে আটকে রাখে তারা। এরপর প্রতিপক্ষের লোকজন রাতেই হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে অন্তত ৫-৬ জন নারী-পুরুষ আহত হন।

পরদিন (২০ জুলাই) আহত নুরজাহান বেগম থানায় অভিযোগ দিতে গেলে রৌমারী থানার ওসি অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনার পাঁচদিন পর, ২৫ জুলাই সকালে জমিতে পানি দিতে যাওয়া অবস্থায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎপেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন আপেল, আঙ্গুর, রাজু, ভুলু মিয়া, মিঠু, ইদু, নুর মোহাম্মদসহ ২০-২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কোপে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন বুলু মিয়া, নুর আলম ও ফুলবাবু। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান তারা। এছাড়াও আরও ৮ জনের বেশি গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এসময় নিহতদের স্বজনরা জানায়, ওসি যদি অভিযোগটি সময়মতো গ্রহণ করতেন, তাহলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতো না।

মৃতদের পরিবারের সদস্য শাপলা, শরিফা, ফুলুরানী, শাহজামালসহ এলাকাবাসী জানান, অবিলম্বে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাজু মিয়া (৩৪), আপেল মিয়া (৪৫), নুর মোহাম্মদ (২৫), সাহেবানি খাতুন (৬০) ও কিনেজা খাতুন (৫০) সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপেল মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।”