
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ভাই ও একজন ভাতিজাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাঁসি ও থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং থানা ঘেরাও করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার ভুন্দুরচর ও ফুলবাড়ি এলাকা ঘুরে স্থানীয়রা রৌমারী বাজারের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করেন এবং পরে রৌমারী থানা ঘেরাও করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
বক্তারা জানান, গত ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে রৌমারী সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভুন্দরচর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে শাহজামাল, সোলেমান ও বিবাদী পক্ষ ফজলে করিম, ফজলে রহিম এবং রব্বানিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই দিন শাহজামালের জমিতে গরু ঢুকে ধানের চারা খাওয়ায় গরুটিকে আটকে রাখে তারা। এরপর প্রতিপক্ষের লোকজন রাতেই হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে অন্তত ৫-৬ জন নারী-পুরুষ আহত হন।
পরদিন (২০ জুলাই) আহত নুরজাহান বেগম থানায় অভিযোগ দিতে গেলে রৌমারী থানার ওসি অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনার পাঁচদিন পর, ২৫ জুলাই সকালে জমিতে পানি দিতে যাওয়া অবস্থায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎপেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন আপেল, আঙ্গুর, রাজু, ভুলু মিয়া, মিঠু, ইদু, নুর মোহাম্মদসহ ২০-২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কোপে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন বুলু মিয়া, নুর আলম ও ফুলবাবু। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান তারা। এছাড়াও আরও ৮ জনের বেশি গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এসময় নিহতদের স্বজনরা জানায়, ওসি যদি অভিযোগটি সময়মতো গ্রহণ করতেন, তাহলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতো না।
মৃতদের পরিবারের সদস্য শাপলা, শরিফা, ফুলুরানী, শাহজামালসহ এলাকাবাসী জানান, অবিলম্বে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
এ বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাজু মিয়া (৩৪), আপেল মিয়া (৪৫), নুর মোহাম্মদ (২৫), সাহেবানি খাতুন (৬০) ও কিনেজা খাতুন (৫০) সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপেল মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।”

Reporter Name 











