Dhaka ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

শেরপুরে জমে উঠেছে মৌসুমি কৃষি শ্রমিকের হাট

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৭১ Time View

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে মৌসুমি কৃষি শ্রমিকের হাট। উপজেলার শেরপুর-ধুনট সড়কের আলিয়া মাদ্রাসা গেট সংলগ্ন করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে ভোরের আলো ফোটার আগেই শত শত শ্রমিকের সমাগম ঘটে। কাজের সন্ধানে আসা এসব শ্রমিকদের সঙ্গে দরদাম করে নিজেদের জমিতে নিয়ে যান কৃষকরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। এ কারণে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিকরা এই হাটে ছুটে আসছেন। স্থানীয়ভাবে এটি ‘কামলার হাট’ বা কৃষি শ্রমিকের হাট নামে পরিচিত।

সরেজমিনে বুধবার সকালে এই হাটে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর, নীলফামারী ও বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলাসহ শেরপুরের আমইন, বোডেরহাট, দারুগ্রাম, চণ্ডেশ্বর, পানিসারা, খানপুর, খামারকান্দি এবং ঘোড়দৌড় গ্রাম থেকে অসংখ্য মানুষ কৃষিকাজের সন্ধানে এসেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শ্রমিকরা সাধারণত বেশি দিনের চুক্তিতে কাজে যান। ভোর সাড়ে চারটা থেকে শুরু হয়ে সকাল আটটা পর্যন্ত এই হাট চলে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকের সংখ্যা কমতে থাকে।

হাটে কৃষক ও জমির মালিকদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। শেরপুরের শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের সেরুয়া গ্রামের হানিফ উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আরও বেশ কয়েকজন কৃষককে শ্রমিক নিতে দেখা যায়। হানিফ উদ্দিন জানান, তিনি এবার আড়াই বিঘা জমিতে ‘সুফল লতা’ জাতের ধান আবাদ করেছেন। ধান পেকে গেলেও বর্তমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে দৈনিক ৯০০ টাকা মজুরিতে ১৪ জন শ্রমিক নিয়েছেন তিনি। জানা যায়, বর্তমানে এই হাটে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

হাটে আসা কুসুম্বি ইউনিয়নের বোডের হাট এলাকার কৃষিশ্রমিক জলিল মিয়া, জসিম, রহমত ও আয়াজ মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, এই হাটে এলে সহজেই ধান কাটার কাজ মেলে। মূলত দিনচুক্তিতে তারা কাজ করেন। প্রতি বছরই এই মৌসুমে ধান কাটতে আসেন তারা, কারণ এ সময় মজুরি তুলনামূলক বেশি থাকে। এক মাস টানা কাজ করতে পারলে খাওয়া-দাওয়ার খরচ মিটিয়েও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা সম্ভব বলে জানান এই শ্রমিকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩

শেরপুরে জমে উঠেছে মৌসুমি কৃষি শ্রমিকের হাট

Update Time : ১০:১৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে মৌসুমি কৃষি শ্রমিকের হাট। উপজেলার শেরপুর-ধুনট সড়কের আলিয়া মাদ্রাসা গেট সংলগ্ন করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে ভোরের আলো ফোটার আগেই শত শত শ্রমিকের সমাগম ঘটে। কাজের সন্ধানে আসা এসব শ্রমিকদের সঙ্গে দরদাম করে নিজেদের জমিতে নিয়ে যান কৃষকরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। এ কারণে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিকরা এই হাটে ছুটে আসছেন। স্থানীয়ভাবে এটি ‘কামলার হাট’ বা কৃষি শ্রমিকের হাট নামে পরিচিত।

সরেজমিনে বুধবার সকালে এই হাটে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর, নীলফামারী ও বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলাসহ শেরপুরের আমইন, বোডেরহাট, দারুগ্রাম, চণ্ডেশ্বর, পানিসারা, খানপুর, খামারকান্দি এবং ঘোড়দৌড় গ্রাম থেকে অসংখ্য মানুষ কৃষিকাজের সন্ধানে এসেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শ্রমিকরা সাধারণত বেশি দিনের চুক্তিতে কাজে যান। ভোর সাড়ে চারটা থেকে শুরু হয়ে সকাল আটটা পর্যন্ত এই হাট চলে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকের সংখ্যা কমতে থাকে।

হাটে কৃষক ও জমির মালিকদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। শেরপুরের শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের সেরুয়া গ্রামের হানিফ উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আরও বেশ কয়েকজন কৃষককে শ্রমিক নিতে দেখা যায়। হানিফ উদ্দিন জানান, তিনি এবার আড়াই বিঘা জমিতে ‘সুফল লতা’ জাতের ধান আবাদ করেছেন। ধান পেকে গেলেও বর্তমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে দৈনিক ৯০০ টাকা মজুরিতে ১৪ জন শ্রমিক নিয়েছেন তিনি। জানা যায়, বর্তমানে এই হাটে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

হাটে আসা কুসুম্বি ইউনিয়নের বোডের হাট এলাকার কৃষিশ্রমিক জলিল মিয়া, জসিম, রহমত ও আয়াজ মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, এই হাটে এলে সহজেই ধান কাটার কাজ মেলে। মূলত দিনচুক্তিতে তারা কাজ করেন। প্রতি বছরই এই মৌসুমে ধান কাটতে আসেন তারা, কারণ এ সময় মজুরি তুলনামূলক বেশি থাকে। এক মাস টানা কাজ করতে পারলে খাওয়া-দাওয়ার খরচ মিটিয়েও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা সম্ভব বলে জানান এই শ্রমিকরা।