
সাধারণত কোন ফসল উৎপাদনের জন্য আগে জমিতে হালচাষ দিতে হয়। কিন্তু এখন বিনা হালচাষে সরিষা আবাদে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আমন ধান ক্ষেতে বীজ ছিটিয়ে সরিষার বাম্পার ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ব্লোকে দেখা গেছে- হালচাষ ছাড়াই উৎপাদিত সরিষা ফসল ঘরে তোলার দৃশ্য।
স্বল্প খরচে নতুন পদ্ধতিতে সরিষার অধিক ফলন পেয়ে অনেকটা খুশি এখানকার কৃষকরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমন ধান কাটার পর বোরো ধান রোপণের আগ পর্যন্ত উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমি অলস পড়ে থাকে। এই সময়টা কাজে লাগিয়ে বাড়তি ফসল হিসেবে বিনা চাষে সরিষা আবাদে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করেন কৃষি কর্মকর্তারা। বিনা চাষে ইতোমধ্যে ভালো ফলন পেয়ে এখন এই পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আগ্রহ বাড়ছে আশপাশের কৃষকদেরও।
কৃষি বিভাগ জানায়, রোপা আমন ধান কাটার ৭ থেকে ১০ দিন আগে আদ্রতা থাকা অবস্থায় এ ক্ষেতে সরিষা বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। আর ধান কাটার পর জমিতে হালকা সেচ-সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা করলে ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে সরিষা ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।
কৃষক আজাদুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বিনা চাষে এ বছর ২ বিঘা জমিতে বারী-১৪ জাতের সরিষা আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে এ ক্ষেত থেকে সাড়ে ৯ মণ সরিষা উৎপাদন করেছি। যার বাজার দাম প্রায় ২৮ হাজার টাকা। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। অল্প সময় ও খরচে এ চাষাবাদ অনেকটা লাভজনক।
নুরুন্নবী মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, বিনা চাষে সরিষা আবাদ হয় তা জানা ছিল না। এ বছর আজাদুল ভাইসহ আরও অনেকের আবাদে ভালো ফলন দেখে অনেকটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী বছর আমিও বিনা চাষ সরিষা আবাদ করব।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের খোর্দ্দকোমরপুর ব্লোকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন মন্ডল জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বীজ সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের বিনা চাষে সরিষা আবাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ থেকে অনায়াসে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। সেই সঙ্গে এ পদ্ধতিতে সরিষা চাষে মনোযোগী হচ্ছেন আরও অনেকে।

তোফায়েল হোসেন জাকির 



















