
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার থেকে:
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস—বাতাসে প্রেমের ঘ্রাণ, হাতে লাল গোলাপ, আর রেস্তোরাঁয় ক্যান্ডেল লাইট ডিনার। এই যখন দুনিয়ার চিত্র, তখন মৌলভীবাজারের এক ‘বিরহী রোমিও’র কপালে জুটল এক অন্যরকম ভালোবাসার উপহার। ফুলের কোমল স্পর্শের বদলে তিনি পেলেন হিল জুতার শক্ত ‘চুম্বন’ আর জনতার ‘উষ্ণ ম্যাসাজ’! ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে শহরের নান্দনিক ওয়াক ওয়েতে, যেখানে প্রেমের বাতাস হঠাৎ করেই অ্যাকশন মুভির তুফানে রূপ নেয়।
সূত্র বলছে, বসন্তের এই দিনে নিজের ‘সিঙ্গেল’ স্ট্যাটাসটি ওই যুবকের বুকে শেলের মতো বিঁধছিল। সেই বেদনা ভোলাতে তিনি নেমেছিলেন ‘মিশন ভ্যালেন্টাইন’-এ। ওয়াক ওয়েতে দুই তরুণীকে ফুরফুরে মেজাজে হাঁটতে দেখে তার ভেতরের সুপ্ত ‘শাহরুখ খান’ জেগে ওঠে। তিনি ভেবেছিলেন, সিনেমার কায়দায় একটু ‘টিজ’ করলেই বুঝি মন গলে যাবে।
কিন্তু হায়! তরুণীদের মন তো গললই না, উল্টো তাদের পায়ের হিল জুতাগুলো যেন ভালোবাসার মিশাইল হয়ে ছুটে এলো। যুবকের ‘রোমান্টিক ডায়লগ’ শেষ হওয়ার আগেই শুরু হলো ‘জুতা-বর্ষণ’। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তরুণীদের এই ‘রুদ্রমূর্তি’ দেখে মনে হচ্ছিল, রোমান্টিক দৃশ্যটি মুহূর্তেই ‘কুংফু হ্যাসেল’-এর ক্লাইম্যাক্সে পরিণত হয়েছে।
বাঙালি যেখানেই জটলা দেখে, সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়ে—তা সে ফুচকা খাওয়া হোক বা পিটুনি দেওয়া। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দুই তরুণীর এই ‘জুতা-চিকিৎসা’ দেখে স্থানীয় ‘হিরো’ ও উৎসুক জনতা আর বসে থাকতে পারেননি। তারাও এই মহৎ কর্মে শামিল হতে ছুটে আসেন।
শুরু হয় ‘গণ-কিল’। কেউ বাৎসল্য স্নেহে চড় মারলেন, কেউবা ভালোবাসার নিশানাস্বরূপ পিঠে কিল বসিয়ে দিলেন। ভিড়ের মধ্যে কেউ কেউ আবার নিজের হাত সাফাই করার জন্য শুধুই ‘ফ্রি-কিক’ প্র্যাকটিস করে নিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রসিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বেচারা এসেছিলেন ‘গার্লফ্রেন্ড’ খুঁজতে, কিন্তু এখন তাকে খুঁজতে হবে হাড় জোড়া লাগানোর ডাক্তার। পাবলিকের মাইর আর জুতার বাড়ির যে কম্বিনেশন তিনি পেলেন, তাতে ভালোবাসা দিবসের ‘আসল ফিলিংস’ তার হাড়ে হাড়ে গেঁথে গেছে।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ভালোবাসার এই ‘তীব্র আঘাত’ সইতে না পেরে ওই রোমিও ভিড়ের ফাঁক গলে কোনোমতে নিজের অবশিষ্ট মান-সম্মানটুকু বগলে চেপে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন। প্রেমিকার হাত ধরার বদলে, নিজের ভাঙা গাল ধরে তাকে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

Reporter Name 

























