Dhaka ১০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন  যথাযোগ্য মর্যাদায় নওগাঁয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন মৃত্যুর ৭৫ দিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বিক্ষোভে অবরুদ্ধ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কাঁচ দিয়ে আঘাত, থানায় মামলা চিলমারীর এক ইউনিয়নেই প্রায় কোটি টাকা লোপাট: ইউএনও’র কাছে এলাকাবাসীর অভিযোগ কারখানার রাস্তা বন্ধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার নিন্দা সুন্দরগঞ্জে ক্লাস ফেলে সমাবেশ-মানববন্ধন, দিনভর প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ গাইবান্ধায় আরসিসি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন

স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে নারীর অনশন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • ১১২ Time View

সাদুল্লাপুর সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মোরশেদ মিয়া নামের প্রেমিকের বিয়ের প্রলোভনে স্বামীকে তালাক দিয়েছে এক নারী। এরপর সেই প্রেমিকের ডাকে বিয়ের দাবিতে অনশন করছে মেয়েটি। আর বেগতিক দেখে লাপাত্তা দিয়েছে মোরশেদ মিয়া। এ অবস্থায় গত চারদিন দিন ধরে মোরশেদের বাড়িতে অনশন অব্যাহত রাখছেন মেয়েটি। এ নিয়ে কতিপয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উভয় পক্ষের কাছে বাণিজ্য করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবদাস গ্রামের দেখা গেছে- বিয়ের দাবিতে ওই নারীর অনশনের দৃশ্য। সেখানে ভির করছে উৎসুক জনতা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে বৈষ্ণবদাস গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে মোরশেদ মিয়ার সঙ্গে লেখাপড়ার সুবাদে একই গ্রামের ওই মেয়ের গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই একপর্যায়ে প্রায় ৪ বছর আগে মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। আর সেখানে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়ে মেয়েটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই মেয়ের অপেক্ষায় অবিবাহিত আছেন মোরশেদ মিয়া। কখনও থামেনি তাদের সেই প্রেমের সম্পর্ক।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় সাত মাস আগে মোরশেদের বিয়ের প্রলোভনে স্বামীকে তালাক দেয় মেয়েটি। এরপর বিয়ে করবে মর্মে গত ১৩ এপ্রিল সকালের দিকে মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে আনে মোরশেদ। এতে ঘটে নানা বিপত্তি। পরিবার আর কতিপয় স্বার্থন্বেশী লোকের সুযোগে লাপাত্তা দিয়েছে মোরশেদ। তবে অনশন ছাড়েনি মেয়েটি। গত চারদিন ধরে বিয়ের দাবিতে মোরশেদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মেয়েটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছেন শত শত উৎসুক নারী-পুরুষ। তবে রহস্যজনক কারনে এ ঘটনার কোন সমাধা হচ্ছে না বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন- মোরশেদের সঙ্গে প্রেম আছে বলেই মেয়েটি বিয়ের দাবিতে অনশন করছে। আমরা চাই ওই মেয়ের সঙ্গে মোরশেদের বিয়ে হোক। কিন্তু রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম উভয় পক্ষের কাছে টাকা নিয়ে বিয়ে পড়ানোয় টালবাহনা করছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের প্রতি ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেছে এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী মেয়েটি বলেন, মোরশেদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেম। ওর কথামতো আমার স্বামীকে তালাক দিয়েছি। আর বিয়ের করার জন্য আমাকে ওর বাড়িতে ডেকে এনে পালিয়েছে সে। এখন আমি কই যাব! তবে বিয়ে না করা পর্যন্ত এই বাড়ি ছাড়ছি না। তা না হলে আত্নহত্যা ছাড়া আমার কোন উপায় নেই।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মেয়েটির মা বলেছেন, আমার মেয়ের বিয়ে পড়ানোর জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হলে সেই বিয়ে এখনও পড়ায়নি এই চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে প্রেমিক মোরশেদের মা বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে গ্রামবাসীর কাছে বিচার দাবি করছি।
সাদুল্লাপুরের রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ছেলের প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় বিয়ে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া আমি কারও কাছে কোন প্রকার টাকা গ্রহণ করিনি।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

গাইবান্ধায় জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন 

স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে নারীর অনশন

Update Time : ০৭:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

সাদুল্লাপুর সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মোরশেদ মিয়া নামের প্রেমিকের বিয়ের প্রলোভনে স্বামীকে তালাক দিয়েছে এক নারী। এরপর সেই প্রেমিকের ডাকে বিয়ের দাবিতে অনশন করছে মেয়েটি। আর বেগতিক দেখে লাপাত্তা দিয়েছে মোরশেদ মিয়া। এ অবস্থায় গত চারদিন দিন ধরে মোরশেদের বাড়িতে অনশন অব্যাহত রাখছেন মেয়েটি। এ নিয়ে কতিপয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উভয় পক্ষের কাছে বাণিজ্য করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবদাস গ্রামের দেখা গেছে- বিয়ের দাবিতে ওই নারীর অনশনের দৃশ্য। সেখানে ভির করছে উৎসুক জনতা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে বৈষ্ণবদাস গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে মোরশেদ মিয়ার সঙ্গে লেখাপড়ার সুবাদে একই গ্রামের ওই মেয়ের গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই একপর্যায়ে প্রায় ৪ বছর আগে মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। আর সেখানে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়ে মেয়েটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই মেয়ের অপেক্ষায় অবিবাহিত আছেন মোরশেদ মিয়া। কখনও থামেনি তাদের সেই প্রেমের সম্পর্ক।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় সাত মাস আগে মোরশেদের বিয়ের প্রলোভনে স্বামীকে তালাক দেয় মেয়েটি। এরপর বিয়ে করবে মর্মে গত ১৩ এপ্রিল সকালের দিকে মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে আনে মোরশেদ। এতে ঘটে নানা বিপত্তি। পরিবার আর কতিপয় স্বার্থন্বেশী লোকের সুযোগে লাপাত্তা দিয়েছে মোরশেদ। তবে অনশন ছাড়েনি মেয়েটি। গত চারদিন ধরে বিয়ের দাবিতে মোরশেদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মেয়েটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছেন শত শত উৎসুক নারী-পুরুষ। তবে রহস্যজনক কারনে এ ঘটনার কোন সমাধা হচ্ছে না বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন- মোরশেদের সঙ্গে প্রেম আছে বলেই মেয়েটি বিয়ের দাবিতে অনশন করছে। আমরা চাই ওই মেয়ের সঙ্গে মোরশেদের বিয়ে হোক। কিন্তু রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম উভয় পক্ষের কাছে টাকা নিয়ে বিয়ে পড়ানোয় টালবাহনা করছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের প্রতি ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেছে এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী মেয়েটি বলেন, মোরশেদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেম। ওর কথামতো আমার স্বামীকে তালাক দিয়েছি। আর বিয়ের করার জন্য আমাকে ওর বাড়িতে ডেকে এনে পালিয়েছে সে। এখন আমি কই যাব! তবে বিয়ে না করা পর্যন্ত এই বাড়ি ছাড়ছি না। তা না হলে আত্নহত্যা ছাড়া আমার কোন উপায় নেই।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মেয়েটির মা বলেছেন, আমার মেয়ের বিয়ে পড়ানোর জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হলে সেই বিয়ে এখনও পড়ায়নি এই চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে প্রেমিক মোরশেদের মা বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে গ্রামবাসীর কাছে বিচার দাবি করছি।
সাদুল্লাপুরের রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ছেলের প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় বিয়ে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া আমি কারও কাছে কোন প্রকার টাকা গ্রহণ করিনি।