
স্টাফ রিপোর্টারঃ কমিটি ঘোষণার একদিন পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র নবগঠিত গাইবান্ধা জেলা সমন্বয় কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন মোঃ নুর আলম মিয়া নুর।
সোমবার (১৫ জুন) ভোর ৩টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ‘ঔহ ঘঁৎ’ থেকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং বিষয়টি স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরেন।
মোঃ নুর আলম মিয়া নুর সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের সুন্দরগঞ্জ গ্রামের মোঃ আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে।
এর আগে, শনিবার (১৪ জুন) রাতে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের যৌথ স্বাক্ষরে ২১ সদস্যের গাইবান্ধা জেলা সমন্বয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।
তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবী কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। রাজনীতির বাইরে থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যার মূল উদ্দেশ্য—সে বিষয়টিই আবারো ব্যক্ত করেছেন তিনি।
নুর বলেন, আমি মূলত একজন স্বেচ্ছাসেবী এবং ভবিষ্যতেও নিজেকে স্বেচ্ছাসেবী কাজের সাথেই জড়িত রাখতে চাই। অতীতেও যেভাবে সবার নুর হয়ে পাশে ছিলাম, আগামীতেও তেমনিভাবে থাকতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হওয়ার আগ্রহ আমার নেই। এমনকি আমার পরিবার থেকেও কখনো সে ধরনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে না। যদি কোনোদিন মনে হয়, রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন, তখন নিজ পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।
নুর আলম দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবগঠিত গাইবান্ধা জেলা কমিটিতে তাকে তার সম্মতি ছাড়াই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, আমি জেলা নেতৃবৃন্দকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলাম, পরিবার বা নিজের পক্ষ থেকে যদি কখনও সংগঠনে যুক্ত হতে চাই, তাহলে জানাবো। কিন্তু সেই মতামত নেয়া হয়নি। বরং অনুমতি ছাড়াই নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
নুর আলম তার স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এনসিপি নেতারা বারবার বলার পরও জেলা পর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল নেতা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের মাধ্যমে বিতর্কিত কিছু নাম যুক্ত করে কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে সাধারণ কর্মীদের মনে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কমিটি গঠনের পরপরই আমি এনসিপির গ্রুপে জানিয়েছি যে আমি এই কমিটি থেকে স্বজ্ঞানে এবং স্ব-ইচ্ছায় পদত্যাগ করছি। আমি কখনো মন থেকে সংগঠন করতেও চাইনি বা পদে থাকতে চাইনি।
নুর আলম তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সুন্দরগঞ্জের ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তখন থেকেই মানুষ তাকে একজন মানবিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে চিনে আসছে।
তিনি বলেন, রাজনীতি ছাড়াও মানুষের পাশে থাকা যায়। আমি সবসময় ভাল কাজে সবার পাশে থাকবো, সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ। আমি চাই, আমার অবস্থানকে সবাই পজিটিভভাবে দেখুক। আমি কারো ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করতে চাই না, বরং ভালো কাজের মাধ্যমে সমাজের জন্য কিছু করতে চাই।
সবশেষে তিনি এনসিপির প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, আশা করি নেতৃত্ব সংশ্লিষ্ট বিতর্ক নিরসন করে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করবে। আমি ভবিষ্যতেও জনগণের পক্ষে, ভালো কাজের সঙ্গে থাকবো ইনশাআল্লাহ।’

Reporter Name 
























