
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা ঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল আর টানা বৃষ্টির প্রভাবে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি এবং হ্রাসের খেলায় উপজেলার চিলমারী এবং নয়ারহাট দুটি ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।ভাঙন অব্যাহত থাকায় ১মাসের ব্যবধানে ইউনিয়ন দুটিতে থাকা দুটি আশ্রয়ন প্রকল্প ও ৪শতাধিক পরিবারের বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার তাদের বসত বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।এছাড়াও হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার সরকারি স্থাপনাসহ আবাদি-জমি বসতবাড়ি ও কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক সাবমেরিন কেবল। স্থানীয়রা বলছেন,ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে চিলমারীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে গুরুত্বপূর্ন ওই ইউনিয়ন দুটি।
জানা গেছে,জুন মাসের প্রথম দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল আর টানা বৃষ্টির ফলে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতী ও কড়াইবরিশাল এবং নয়ারহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন দেখা দেয়।এরপর পানি বৃদ্ধি এবং হ্রাস পাওয়ার মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন দুটিতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।ইতিমধ্যে গত ১মাসের ব্যবধানে চিলমারী ইউনিয়নের দুটি আশ্রয়ন প্রকল্প ও দুটি গ্রামে ৩শতাধিক এবং নয়ারহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মিলে দুটি ইউনিয়নে মোট ৪শতাধিক পরিবারের বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে অনেক পরিবার তাদের বসত বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার সরকারি স্থাপনাসহ আবাদি-জমি বসতবাড়ি ও কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক সাবমেরিন কেবল।স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে চিলমারীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে গুরুত্বপূর্ন ওই ইউনিয়ন দুটি।
সরেজমিনে দেখা যায়,১মাস ধরে চলমান ব্রহ্মপুত্রের তান্ডবে চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি ও কড়াইবরিশাল দুটি গ্রামের ৩শতাধিক পরিবার ও দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং নয়ারহাট ইউনিয়নের বজড়াদিয়ারখাতাসহ কয়েকটি গ্রামের শতাধিক পরিবারের বসত ভিটা ভেঙে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।এছাড়াও ভেঙে গেছে ওই এলাকা সমুহের শত শত একর আবাদি জমি,বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ নানা স্থাপনা। হুমকিতে পড়েছে শাখাহাতী কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ওই এলাকার সরকারি স্থাপনা, আবাদি-জমি বসতবাড়ি ও কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক সাবমেরিন কেবল।
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে শাখাহাতী ও কড়াইবরিশাল এলাকার মমিনুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, জাবের হোসেন, ছয়নুদ্দীন, রান্জু মিয়া, নূর আলম, রান্জু, সুজা মিয়া,ছফিয়ালসহ ৩শতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন।ভেঙে গেছে, মসজিদ, মাদ্রাসা,কবরস্থান, ব্র্যাক অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এসময় দেখা গেছে,ভাঙনের মুখে থাকা স্থানীয়রা তাদের বসত বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছন। সকাল থেকে মাথায় করে তাদের ঘরের বিচ্ছিন্ন অংশ গুলো নিরাপদ স্থানে নিচ্ছেন তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান,গত ৩৫বছর ধরে আমরা এই চরে বসবাস করে আসছি।নদী ভাঙনের কারণে মানুষজন অসহায় হয়ে পড়েছে। আমি কয়েকজন কে বসবাসের জন্য জমি দিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বসতভিটা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন,কোথায় ঠাঁই নিবেন এটাই তাদের চিন্তা!
চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন,চরে কোটি টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছিল, বিভিন্ন স্থাপনাও দেয়া হচ্ছে।কিন্তু চরগুলো রক্ষার জন্য কোন পদক্ষেপ নেই। তিনি আরও জানান, ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে চিলমারীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে গুরুত্বপূর্ন ওই ইউনিয়ন দুটি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন,এলাকাসমুহের ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি,সেখান থেকে জরুরী ভিত্তিতে কিছু জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়েছে।আপাতত ভাঙন ঠেকানোর জন্য যা করনীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য জরুরী শুকনা খাবার দেয়া হয়েছিল। তাদের জন্য ত্রাণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

Reporter Name 






















