Dhaka ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১ আধুনিকায়নের ফাঁদে ৬ বছর তালাবদ্ধ মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল: ধুঁকছেন শ্রমিক, দিশেহারা আখচাষি অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ, দ্রুত চালুর দাবি দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে গাইবান্ধায় অভিযোগ গ্রহণ শুরু, ১১ মে দুদকের গণশুনানি গাইবান্ধায় ছাত্র ইউনিয়নের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত রংপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা ১০ বছরেও মেলেনি সুফল: স্লুইস গেট যেন কৃষকের গলার কাঁটা নৈশভোজে হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প গোবিন্দগঞ্জে ট্রাক চাপায় এবং সাঘাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু হাম পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় হামে ১১ শিশুর মৃত্যু স্ত্রীর তালাকের পর অভিমানে পেট্রোল ঢেলে স্বামীর আত্মহত্যা

শখের বাগান থেকে সফল উদ্যোক্তা: আজহারুলের ফুলের রাজ্যে স্বপ্ন বুনন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৩ Time View

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

আহসান হাবিব রুবেল:
 শখ যখন পেশায় রূপ নেয়, তখন সাফল্য যে নিজ থেকেই ধরা দেয়-তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া মাটিগাড়া এলাকার অদম্য উদ্যোক্তা আজহারুল ইসলাম। তার প্রতিষ্ঠিত ‘আর্নিকা নার্সারি’ এখন এলাকায় একটি সফল মিশ্র বাগান ও অনুকরণীয় মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাহারি রঙের দেশি-বিদেশি ফুলের সুবাস নিতে ও বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও কৃষিপ্রেমীরা।
ফুলের সমারোহে বর্ণিল বাগান সরেজমিনে ‘আর্নিকা নার্সারি’তে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ শতক জমি জুড়ে সবুজের বুকে লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপি আর বেগুনি রঙের মিতালি। বাগানে দোল খাচ্ছে হাইব্রিড গাঁদা, ক্যালেন্ডুলা, চন্দ্রমল্লিকা, স্টার ও গোলাপের পাঁচটি ভিন্ন জাত। এছাড়াও নজর কাড়ছে রজনীগন্ধা, ডান্স, নয়নতারা, সূর্যমুখী, সেলফিলা, জারবেরা, পত্তলিকা, থাই মল্লিকা ও অর্কিডের মতো দামী সব ফুলের সমারোহ।


বৈচিত্র্যময় চারা ও কর্মসংস্থান কেবল ফুলের মধ্যেই আজহারুলের এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ নেই। বাগানের অন্য অংশে রয়েছে বারোমাসি আম, সিডলেস লেবু, কাঁঠাল, মিষ্টি জলপাইসহ বিভিন্ন ঔষধি ও ফলজ গাছ। বর্তমানে এই বাগানে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির চারা রয়েছে। আজহারুল ইসলাম বলেন:“শৈশব থেকেই গাছের প্রতি আমার আলাদা টান ছিল। শুরুতে শখের বশে মাত্র কয়েক শতাংশ জমিতে বাগান শুরু করেছিলাম, যা আজ দুই একরে বিস্তৃত। বাগান থেকে ফুল ও চারা বিক্রি করে এখন মাসে বেশ ভালো আয় হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থান করতে পেরেছি, এটাই বড় তৃপ্তি।”
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাফল্যের পথটি সবসময় সহজ ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়া আর উন্নত বীজের অভাবের মতো সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ ও নিজের কঠোর পরিশ্রমের কারণেই আজ তিনি এই অবস্থানে। ভবিষ্যতে এই বাগানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ নার্সারি ও ‘কৃষি পর্যটন কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

কৃষি দপ্তরের মূল্যায়ন রুহিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন রায় বলেন, “আজহারুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তা। তার বাগানটি এখন এই এলাকার মডেল।” অন্য এক কর্মকর্তা জুয়েল হক জানান, ফুল চাষ বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক। আজহারুলকে দেখে অনেক বেকার যুবক উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে আজহারুলের কৃষি পর্যটন কেন্দ্র গড়ার স্বপ্ন দ্রুতই বাস্তবে রূপ নেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু; আহত ১

শখের বাগান থেকে সফল উদ্যোক্তা: আজহারুলের ফুলের রাজ্যে স্বপ্ন বুনন

Update Time : ০৯:৪২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আহসান হাবিব রুবেল:
 শখ যখন পেশায় রূপ নেয়, তখন সাফল্য যে নিজ থেকেই ধরা দেয়-তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া মাটিগাড়া এলাকার অদম্য উদ্যোক্তা আজহারুল ইসলাম। তার প্রতিষ্ঠিত ‘আর্নিকা নার্সারি’ এখন এলাকায় একটি সফল মিশ্র বাগান ও অনুকরণীয় মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাহারি রঙের দেশি-বিদেশি ফুলের সুবাস নিতে ও বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও কৃষিপ্রেমীরা।
ফুলের সমারোহে বর্ণিল বাগান সরেজমিনে ‘আর্নিকা নার্সারি’তে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ শতক জমি জুড়ে সবুজের বুকে লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপি আর বেগুনি রঙের মিতালি। বাগানে দোল খাচ্ছে হাইব্রিড গাঁদা, ক্যালেন্ডুলা, চন্দ্রমল্লিকা, স্টার ও গোলাপের পাঁচটি ভিন্ন জাত। এছাড়াও নজর কাড়ছে রজনীগন্ধা, ডান্স, নয়নতারা, সূর্যমুখী, সেলফিলা, জারবেরা, পত্তলিকা, থাই মল্লিকা ও অর্কিডের মতো দামী সব ফুলের সমারোহ।


বৈচিত্র্যময় চারা ও কর্মসংস্থান কেবল ফুলের মধ্যেই আজহারুলের এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ নেই। বাগানের অন্য অংশে রয়েছে বারোমাসি আম, সিডলেস লেবু, কাঁঠাল, মিষ্টি জলপাইসহ বিভিন্ন ঔষধি ও ফলজ গাছ। বর্তমানে এই বাগানে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির চারা রয়েছে। আজহারুল ইসলাম বলেন:“শৈশব থেকেই গাছের প্রতি আমার আলাদা টান ছিল। শুরুতে শখের বশে মাত্র কয়েক শতাংশ জমিতে বাগান শুরু করেছিলাম, যা আজ দুই একরে বিস্তৃত। বাগান থেকে ফুল ও চারা বিক্রি করে এখন মাসে বেশ ভালো আয় হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থান করতে পেরেছি, এটাই বড় তৃপ্তি।”
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাফল্যের পথটি সবসময় সহজ ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়া আর উন্নত বীজের অভাবের মতো সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ ও নিজের কঠোর পরিশ্রমের কারণেই আজ তিনি এই অবস্থানে। ভবিষ্যতে এই বাগানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ নার্সারি ও ‘কৃষি পর্যটন কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

কৃষি দপ্তরের মূল্যায়ন রুহিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন রায় বলেন, “আজহারুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তা। তার বাগানটি এখন এই এলাকার মডেল।” অন্য এক কর্মকর্তা জুয়েল হক জানান, ফুল চাষ বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক। আজহারুলকে দেখে অনেক বেকার যুবক উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে আজহারুলের কৃষি পর্যটন কেন্দ্র গড়ার স্বপ্ন দ্রুতই বাস্তবে রূপ নেবে।