Dhaka ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

গাইবান্ধায় সেনা ও র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা: যুবক গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৩ Time View

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় সেনা ও র‍্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আল-আমিন (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৩। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আল-আমিন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নারিকেলবাড়ি এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

র‍্যাব জানায়, সম্প্রতি সিএনজিতে যাতায়াতের সময় এক চালককে আল-আমিন নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য এবং গাইবান্ধা র‍্যাব ক্যাম্পে কর্মরত বলে পরিচয় দেন। ভুক্তভোগী চালক সরল বিশ্বাসে তার বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য ওই ভুয়া র‍্যাব সদস্যের সহযোগিতা চান। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে আল-আমিন ওই চালককে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে ডেকে নেন এবং জমি উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে ১৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর থেকেই আল-আমিনের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিএনজিচালক গাইবান্ধা র‍্যাব ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আল-আমিন নামে কোনো সদস্য সেখানে কর্মরত নেই। পরে তিনি বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় প্রতারণা মামলা করলে র‍্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা সদরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে সেনাবাহিনীর জুতা, ব্যাগ, হ্যান্ডকাফ, আইডি কার্ড, অফিশিয়াল সিল, মোবাইল পাস, নেমপ্লেট, সেনাবাহিনী লেখা স্টিকার, চাকরি সংক্রান্ত ভুয়া নথিপত্র ও একাধিক সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল-আমিন স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। তিনি তার ফোনে ব্যবহৃত নম্বরগুলো ‘কর্নেল’, ‘লে. কর্নেল’, ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল’সহ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নামে সেভ করে রাখতেন এবং বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দেখিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের পুরস্কার বিতরণ

গাইবান্ধায় সেনা ও র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা: যুবক গ্রেফতার

Update Time : ১০:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় সেনা ও র‍্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আল-আমিন (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৩। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আল-আমিন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নারিকেলবাড়ি এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

র‍্যাব জানায়, সম্প্রতি সিএনজিতে যাতায়াতের সময় এক চালককে আল-আমিন নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য এবং গাইবান্ধা র‍্যাব ক্যাম্পে কর্মরত বলে পরিচয় দেন। ভুক্তভোগী চালক সরল বিশ্বাসে তার বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য ওই ভুয়া র‍্যাব সদস্যের সহযোগিতা চান। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে আল-আমিন ওই চালককে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে ডেকে নেন এবং জমি উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে ১৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর থেকেই আল-আমিনের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিএনজিচালক গাইবান্ধা র‍্যাব ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আল-আমিন নামে কোনো সদস্য সেখানে কর্মরত নেই। পরে তিনি বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় প্রতারণা মামলা করলে র‍্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা সদরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে সেনাবাহিনীর জুতা, ব্যাগ, হ্যান্ডকাফ, আইডি কার্ড, অফিশিয়াল সিল, মোবাইল পাস, নেমপ্লেট, সেনাবাহিনী লেখা স্টিকার, চাকরি সংক্রান্ত ভুয়া নথিপত্র ও একাধিক সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল-আমিন স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। তিনি তার ফোনে ব্যবহৃত নম্বরগুলো ‘কর্নেল’, ‘লে. কর্নেল’, ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল’সহ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নামে সেভ করে রাখতেন এবং বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দেখিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন।