Dhaka ১০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল: সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৬০ হাজার মানুষকে, পুড়ে গেছে ৬শ’ স্থাপনা বালাসীঘাটে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে সমাবেশ: ২ দফা কর্মসূচি ঘোষণা বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ রৌমারীতে বিজিবির অভিযানে প্রায় ২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ, আটক ১ বাড়ির আঙিনায় ১২ ফুট উচ্চতার গাঁজা গাছ, গ্রেপ্তার ১ হাসতে চায় রিহান, বাঁচতে চায় আরেকটু ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত অন্তত ২০ রৌমারীতে বিজিবির অভিযানে ১,৯৭৫ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ মা আমি বেঁচে আছি: ইউক্রেনের বন্দী শিবির থেকে ভেসে এলে গাইবান্ধার রিমেলের কণ্ঠ পীরগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু

কবি সরোজ দেবের ৭৮ তম জন্মিদন আজ

কবি, সম্পাদক ও সংগঠক সরোজ দেবের ৭৮ তম জন্মদিন আজ (২৭ মার্চ)।

১৯৪৮ সালের ২৬ মার্চ গাইবান্ধা শহরের পূর্বপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা প্রখ্যাত ধ্রুপদী সঙ্গীত শিল্পী ওস্তাদ উপেন্দ্র নাথ দেব ও মাতা সান্তু দেব।

স্কুল জীবন থেকেই তিনি ছড়া কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রমাণ করেন যেন কবিতার জন্যই তাঁর জন্ম। তারুণ্যের উন্মুখ সময়ে দ্রোহের পাশাপাশি প্রেমজ আবেগ অনিবার্য অনুসঙ্গ হয়ে ওঠে তাঁর। কবিতায় তিনি ব্যক্তিগত নান্দনিকতার সূক্ষ্মতায় প্রেম, কাম, মাটি, মানুষ ও দুঃখ নিঃসঙ্গতার হাহাকারকে চিত্রায়িত করেছেন। তাঁর কবিতা আপন বাঁকে হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে পাঠকের মনে। তাঁর কবিতা পাঠকের মনে এক ধরনের দার্শনিক চিন্তাও ঢুকিয়ে দেয়, যখন তিনি বলেন, ‘ মৃত্যুর কাছে হাঁটু গেঁড়ে যে মানুষ মৃত্যু ভিক্ষা চায়/ তার মতো দুঃখী কে/ তার মতো হাহাকার কে আছে কোথায়?’

তিনি বিভিন্ন নামে শতাধিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটির মধ্যে রয়েছে প্রাণেশ্বরীর মাচান, স্বজন শব্দাবলী, শতাব্দী, সংসপ্তক, মোহনা, নান্দনিক, বজ্রে বাজে বেণু, লাল গোলাপের জন্য ইত্যাদি। এরমধ্যে ‘শব্দ’ প্রায় পঞ্চাশ বছর সম্পাদনা করেছেন। প্রতিষ্ঠিতদের পাশাপাশি নতুনদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘শব্দ’র একেকটি সংখ্যা। তিনি শুধু নতুন লেখকই সৃষ্টি করেননি, তাদের লালনও করেছেন।

গাইবান্ধার একসময়ের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সূর্যকণা’ তাঁর হাতেই গড়ে ওঠে। এই সংগঠনটি সারাদেশে সঙ্গীত জগতে আলোড়ন তুলেছিল। এই সংগঠনের শতশত সঙ্গীত শিল্পী আজ সারাদেশে ছড়িয়ে রয়েছেন।

সরোজ দেব ১৯৬৯ সালে প্রত্যক্ষ ভোটে গাইবান্ধা কলেজ ছাত্র সংসদের ম্যাগাজিন সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার সরোজ দেব দেশমাতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। বিজয়ী হয়ে ফিরে এসে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যয়নের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

সরোজ দেবের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ধবল মেঘের দিনগুলো (২০০৬), অনন্ত রোদ্দুরে এসো (২০০৯), স্বরচিত সুখের সৎকার (২০১০), স্বপ্ন শুয়েছিল কুয়াশায় (২০১১) ও সময় আমাকে হত্যার কথা বলে গ্যাছে (২০১৩)।

সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ভালোবাসার গল্প (২০০৬), শরৎচন্দ্রের ভালোবাসার গল্প (২০০৬), কবিতার যৌথ খামার (২০০৯), নির্বাচিত কবিতা (২০১২) ও ছোটদের শরৎচন্দ্র (২০১২)।

প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কবি সরোজ দেব ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় গাইবান্ধা শহরের পূর্বপাড়ায় নিজ বাড়িতে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে কবিতা ও লিটলম্যাগ আন্দোলনে তাঁর অবদান চির স্মরণীয় থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল: সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৬০ হাজার মানুষকে, পুড়ে গেছে ৬শ’ স্থাপনা

কবি সরোজ দেবের ৭৮ তম জন্মিদন আজ

Update Time : ১১:১৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

কবি, সম্পাদক ও সংগঠক সরোজ দেবের ৭৮ তম জন্মদিন আজ (২৭ মার্চ)।

১৯৪৮ সালের ২৬ মার্চ গাইবান্ধা শহরের পূর্বপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা প্রখ্যাত ধ্রুপদী সঙ্গীত শিল্পী ওস্তাদ উপেন্দ্র নাথ দেব ও মাতা সান্তু দেব।

স্কুল জীবন থেকেই তিনি ছড়া কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রমাণ করেন যেন কবিতার জন্যই তাঁর জন্ম। তারুণ্যের উন্মুখ সময়ে দ্রোহের পাশাপাশি প্রেমজ আবেগ অনিবার্য অনুসঙ্গ হয়ে ওঠে তাঁর। কবিতায় তিনি ব্যক্তিগত নান্দনিকতার সূক্ষ্মতায় প্রেম, কাম, মাটি, মানুষ ও দুঃখ নিঃসঙ্গতার হাহাকারকে চিত্রায়িত করেছেন। তাঁর কবিতা আপন বাঁকে হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে পাঠকের মনে। তাঁর কবিতা পাঠকের মনে এক ধরনের দার্শনিক চিন্তাও ঢুকিয়ে দেয়, যখন তিনি বলেন, ‘ মৃত্যুর কাছে হাঁটু গেঁড়ে যে মানুষ মৃত্যু ভিক্ষা চায়/ তার মতো দুঃখী কে/ তার মতো হাহাকার কে আছে কোথায়?’

তিনি বিভিন্ন নামে শতাধিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটির মধ্যে রয়েছে প্রাণেশ্বরীর মাচান, স্বজন শব্দাবলী, শতাব্দী, সংসপ্তক, মোহনা, নান্দনিক, বজ্রে বাজে বেণু, লাল গোলাপের জন্য ইত্যাদি। এরমধ্যে ‘শব্দ’ প্রায় পঞ্চাশ বছর সম্পাদনা করেছেন। প্রতিষ্ঠিতদের পাশাপাশি নতুনদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘শব্দ’র একেকটি সংখ্যা। তিনি শুধু নতুন লেখকই সৃষ্টি করেননি, তাদের লালনও করেছেন।

গাইবান্ধার একসময়ের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সূর্যকণা’ তাঁর হাতেই গড়ে ওঠে। এই সংগঠনটি সারাদেশে সঙ্গীত জগতে আলোড়ন তুলেছিল। এই সংগঠনের শতশত সঙ্গীত শিল্পী আজ সারাদেশে ছড়িয়ে রয়েছেন।

সরোজ দেব ১৯৬৯ সালে প্রত্যক্ষ ভোটে গাইবান্ধা কলেজ ছাত্র সংসদের ম্যাগাজিন সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার সরোজ দেব দেশমাতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। বিজয়ী হয়ে ফিরে এসে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যয়নের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

সরোজ দেবের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ধবল মেঘের দিনগুলো (২০০৬), অনন্ত রোদ্দুরে এসো (২০০৯), স্বরচিত সুখের সৎকার (২০১০), স্বপ্ন শুয়েছিল কুয়াশায় (২০১১) ও সময় আমাকে হত্যার কথা বলে গ্যাছে (২০১৩)।

সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ভালোবাসার গল্প (২০০৬), শরৎচন্দ্রের ভালোবাসার গল্প (২০০৬), কবিতার যৌথ খামার (২০০৯), নির্বাচিত কবিতা (২০১২) ও ছোটদের শরৎচন্দ্র (২০১২)।

প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কবি সরোজ দেব ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় গাইবান্ধা শহরের পূর্বপাড়ায় নিজ বাড়িতে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে কবিতা ও লিটলম্যাগ আন্দোলনে তাঁর অবদান চির স্মরণীয় থাকবে।