
জানা যায়, গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া (কন্নাবাড়ি চরঘাট) এলাকায় জব্দকৃত এসব বালু নিলামে বিক্রি করতে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একটি প্রতিনিধিদল। নিলামের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, জব্দ করা বালুর অধিকাংশই লুট হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগর কাটগড়া এলাকার ঘাঘট নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল একটি চক্র। খবর পেয়ে গত বছরের ১৪ মার্চ তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিমউদদীন সেখানে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৪ লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু জব্দ করেন। পরে এসব বালু বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, জিম্মায় রাখা এই বিপুল পরিমাণ বালু দীর্ঘকাল পড়ে থাকলেও দায়িত্বের চরম গাফিলতির সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে ট্রাক্টরে করে তা সরিয়ে নেয় প্রভাবশালী চক্রটি।
এদিকে, জব্দকৃত বালু নিলামে বিক্রি করতে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। সে অনুযায়ী রবিবার উন্মুক্ত নিলামে অংশ নিতে ক্রেতারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিয়ার রহমানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল দেখতে পান, বালুর স্তূপ প্রায় নিশ্চিহ্ন। অবশিষ্ট যে অল্প পরিমাণ বালু রয়েছে, তা নিলামে বিক্রির উপযোগী না হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত করে তাঁরা ফিরে আসেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় বালু লুট হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা চক্রটি প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বালু লুট করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। গত ২৮ মার্চ সকালে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের সময় স্থানীয়রা একটি ট্রাক্টর আটকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সোপর্দ করে। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় পরে ট্রাক্টরটি ছেড়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ ধরনের লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নিলামের দায়িত্বে থাকা পিআইও মশিয়ার রহমান বলেন, “ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি আগেই গোপনে এসব বালু সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি জানান, “জব্দ করা বালু লুটপাটের অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Reporter Name 





















