Dhaka ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

গাইবান্ধায় আদালতের রায়ের জেরে প্রতিপক্ষের হামলা, আহত ৪

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০৮ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট:

গাইবান্ধায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতের রায়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও বল্লমঝাড় মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. আরমান খুশি বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। এতে প্রতিপক্ষরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর বাড়ির পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় প্রতিবাদ করলে তারা বাদীর পিতা নছিবর রহমান, দুই ভগ্নিপতি উজ্জ্বল মিয়া ও মাসুদ মিয়া এবং চাচা নুর মোহাম্মদসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নছিবর রহমানের মাথা গুরুতর জখম হয় এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া উজ্জ্বল মিয়া ও মাসুদ মিয়াকে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং লোহার রডের আঘাতে একজনের হাত ভেঙে যায়। হামলায় চাচা নুর মোহাম্মদও গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাদী আরমান খুশি দাবি করেন, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ, দাঙ্গাবাজ ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির। আদালতের রায় নিজেদের পক্ষে আসায় ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ফের বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২

গাইবান্ধায় আদালতের রায়ের জেরে প্রতিপক্ষের হামলা, আহত ৪

Update Time : ০৩:৫৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট:

গাইবান্ধায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতের রায়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও বল্লমঝাড় মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. আরমান খুশি বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। এতে প্রতিপক্ষরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর বাড়ির পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় প্রতিবাদ করলে তারা বাদীর পিতা নছিবর রহমান, দুই ভগ্নিপতি উজ্জ্বল মিয়া ও মাসুদ মিয়া এবং চাচা নুর মোহাম্মদসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নছিবর রহমানের মাথা গুরুতর জখম হয় এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া উজ্জ্বল মিয়া ও মাসুদ মিয়াকে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং লোহার রডের আঘাতে একজনের হাত ভেঙে যায়। হামলায় চাচা নুর মোহাম্মদও গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাদী আরমান খুশি দাবি করেন, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ, দাঙ্গাবাজ ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির। আদালতের রায় নিজেদের পক্ষে আসায় ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ফের বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।