Dhaka ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০ গাইবান্ধায় সংঘাত সংবেদনশীলতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনে চার দিনের কর্মশালা শুরু ঢাকা-রংপুর লংমার্চ: পলাশবাড়ীর পথসভা সফল করতে গাইবান্ধায় প্রস্তুতি সভা বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে এনসিপির প্রস্তাবকে আমলে নিচ্ছে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সাথে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মত বিনিময় উত্তরসংযোগ: নদীর দুই পাড় আর একটি অপেক্ষার গল্প গাইবান্ধায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কমিটির সমন্বয় সভা গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও মেয়ে আহত

তিস্তার ভাঙনে রক্ষা পেল না সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫৪ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, সুন্দরগঞ্জ:

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে গেলেও শেষ রক্ষা হলো না গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির। তীব্র নদীভাঙনের মুখে অবশেষে বিদ্যালয় ভবনটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভাঙনরোধে সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, চর এলাকার শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা এই প্রতিষ্ঠানটি। তিস্তার ভাঙন তীব্র হওয়ায় বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও, জেলা প্রশাসক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলে এলাকাবাসী আশার আলো দেখেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিতে হচ্ছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “টিও, এটিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্কুলটি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “গতকালও স্কুলে পাঠদান চলেছে। ভোরের দিকে ভাঙন তীব্র হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এটিও স্যারকে জানাই। তাঁর পরামর্শে ১৪ জন শ্রমিক নিয়ে বিদ্যালয়ের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করি। এরই মধ্যে একটি বেড়া ও ৩টি জানালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সবাই শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন, একটি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। ফেললে হয়তো বিদ্যালয়টির এই পরিণতি দেখতে হতো না।”

ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মন বলেন, “নদীভাঙন শুরুর পর থেকেই প্রতিটি বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “নতুন করে ভাঙন শুরুর খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। নদীভাঙন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।”

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।” স্কুল এলাকায় আগে কেন কাজ হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিদ্যালয় রক্ষায় এবার আলাদা কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ ছিল না, তবে গত বছর স্কুলের উজানে ও ভাটিতে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল।

এদিকে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম

তিস্তার ভাঙনে রক্ষা পেল না সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

Update Time : ০৩:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, সুন্দরগঞ্জ:

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে গেলেও শেষ রক্ষা হলো না গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির। তীব্র নদীভাঙনের মুখে অবশেষে বিদ্যালয় ভবনটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভাঙনরোধে সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, চর এলাকার শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা এই প্রতিষ্ঠানটি। তিস্তার ভাঙন তীব্র হওয়ায় বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও, জেলা প্রশাসক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলে এলাকাবাসী আশার আলো দেখেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিতে হচ্ছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “টিও, এটিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্কুলটি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “গতকালও স্কুলে পাঠদান চলেছে। ভোরের দিকে ভাঙন তীব্র হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এটিও স্যারকে জানাই। তাঁর পরামর্শে ১৪ জন শ্রমিক নিয়ে বিদ্যালয়ের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করি। এরই মধ্যে একটি বেড়া ও ৩টি জানালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সবাই শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন, একটি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। ফেললে হয়তো বিদ্যালয়টির এই পরিণতি দেখতে হতো না।”

ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মন বলেন, “নদীভাঙন শুরুর পর থেকেই প্রতিটি বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “নতুন করে ভাঙন শুরুর খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। নদীভাঙন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।”

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।” স্কুল এলাকায় আগে কেন কাজ হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিদ্যালয় রক্ষায় এবার আলাদা কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ ছিল না, তবে গত বছর স্কুলের উজানে ও ভাটিতে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল।

এদিকে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।