
আসাদুজ্জামান রুবেল, গাইবান্ধা:
পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখেছিলেন বেকার যুবক আল মাহদী হাসান। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও নিজের অদম্য চেষ্টায় তিনি এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী পৌরশহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে আন্দুয়া গ্রামের মৃত ছামছুল আলমের ছেলে মাহদী। বাড়ির পাশের ৯০ শতক পরিত্যক্ত জমিতে জীবনের প্রথমবার উন্নত জাতের পেয়ারা চাষ করে তিনি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। বছরে পেয়ারা চাষ থেকে তার আয় হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ টাকা।
করোনাকালীন সময়ে (২০২০ সালে) তিনি প্রথম ৯০০টি পেয়ারার চারা রোপণ করেন। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের পরামর্শে উন্নত থাই জাতের চারা দিয়ে বাগান শুরু করেন তিনি। আল মাহদী হাসান জানান, “বাড়ির সামনের আনুমানিক ৯০ শতক জায়গা সারা বছর পতিত পড়ে থাকত। সেখানে চারা রোপণের ৩ মাস নিবিড় পরিচর্যার পরই বাগানে অসংখ্য পেয়ারা আসতে শুরু করে। আমি মূলত পচা কচুরিপানা ও জৈব সারের সাথে সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছি।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আল মাহদী হাসানের বাগানজুড়ে ঝুলছে অসংখ্য গোল আকারের সবুজ পেয়ারা। বাগানের এই মনোরম দৃশ্য যে কারো চোখ জুড়িয়ে দেয়। বর্তমানে তিনি প্রতিটি গাছ থেকে ২ থেকে ৩ মণ পেয়ারা সংগ্রহ করছেন এবং বাজারে প্রতি মণ পেয়ারা ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। কীটনাশক ও বালাইনাশকের ব্যবহার খুব একটা প্রয়োজন না হওয়ায় এগুলো সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি। খরচ বাদে ভালো লাভের মুখ দেখছেন মাহদী; এ বছর প্রায় ৮ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
আল মাহদীর কম খরচ ও অল্প সময়ে এমন লাভের হিসাব দেখে পেয়ারা চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় অন্য চাষীদেরও। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, থাই পেয়ারা একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। এ জাতের চারা রোপণের অল্প দিনের মধ্যেই ফুল ও ফল ধরে এবং ৬ মাসের মধ্যেই তা বাজারজাত করা যায়। পেয়ারাগুলো দেখতে তরতাজা এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, থাই জাতের উচ্চ ফলনশীল পেয়ারা চাষের বিষয়ে মাহদীকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাজ্জাদ হোসেন সোহেল ইসলাম জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে রবি শস্যের চাষ হয়েছে। কৃষকরা রাসায়নিকের বদলে বায়ো-পেস্টিসাইড ব্যবহার করে বিষমুক্ত পেয়ারা চাষ করছেন। বাজারে পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

Reporter Name 




















