
আলমগীর হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
“রাষ্ট্রপতির পদ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-নির্বাচনে রাতের আঁধারে বঙ্গভবনকে প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়”—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এ অভিযোগ করেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের সমর্থনে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান বলেন, “বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই এলাকারই জ্যেষ্ঠ মানুষ। তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের নাম উজ্জ্বল করেছেন এবং আমরা তাকে সম্মান জানাই। তবে রাষ্ট্রপতি কোনো নির্দিষ্ট দলের হতে পারেন না; তিনি গোটা দেশের অভিভাবক। বঙ্গভবনকে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো পরিবারতন্ত্র বা বৈষম্য চলতে দেওয়া হবে না।”
এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের পর থেকে উত্তরবঙ্গ তথা ঠাকুরগাঁও চরমভাবে অবহেলিত। অনেক প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী-এমপি এসেছেন, কিন্তু ঠাকুরগাঁও কিংবা পঞ্চগড়ের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এলাকায় মানসম্মত কোনো হাসপাতাল পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি; উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর বা ঢাকায় নেওয়ার পথে অনেক রোগী মারা যান।”
চলমান সংকট ও অনিয়মের সমালোচনা করে জাগপা সহ-সভাপতি বলেন, “নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছায়নি, উল্টো বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সিন্ডিকেটের কবলে ফেলে সাধারণ মানুষকে চরম সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে।”
জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন চেয়ে তিনি আরও বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ে দীর্ঘ নির্যাতন সহ্য করা মজলুম নেতা দেলোয়ার হোসেন নির্বাচিত হলে এই অঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল ও টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হবে।” এ সময় তিনি আগামী ২৯ তারিখের উপ-নির্বাচনে সকল অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
উঠান বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনসহ জামায়াতে ইসলামী ও জাগপার স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Reporter Name 
























