Dhaka ০৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কোরআন অবমাননার দায়ে সাদুল্লাপুরে আবু হানিফ নামে এক যুবক গ্রেপ্তার মেঘদূতের বর্ষার আয়োজন: আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে  জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধায় জামায়াতের বিক্ষোভ  পর্নোগ্রাফির অভিযোগে গেবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’ বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

বুড়াইল নদীর বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষের চলাচল: স্থায়ী সেতুর দাবি ভুক্তভোগীদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ১১১ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের বুড়াইল নদীর ওপর একটি পাকা সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই গ্রামের হাজারো মানুষ। বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার হচ্ছেন তারা। শুকনো মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই এই দুর্ভোগ বাড়ে কয়েক গুণ। এখানে একটি স্থায়ী সেতুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আকুতি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, কিন্তু আজ পর্যন্ত মেলেনি কোনো টেকসই সমাধান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় চর খোদ্দা ও লাটশালা গ্রামের মানুষের পথচলা। প্রতিদিন এই দুই গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকুরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে হাট-বাজার কিংবা উপজেলা শহরে যাওয়ার জন্য বুড়াইল নদীর ওপরের এই দীর্ঘ ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি ব্যবহার করতে হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলে পার হতে গিয়ে একটু অসাবধান হলেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের নিয়ে পারাপারের সময় চরম বিপাকে পড়তে হয়।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা ও বন্যার মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপদ আরও বাড়ে। উজানের ঢলে ভেসে আসা কচুরিপানার তীব্র চাপে প্রায়ই ভেঙে যায় বাঁশের সাঁকোটি। তখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে নদীর দুই পারের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

চর খোদ্দা গ্রামের বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষা আইলে আমাগো কষ্টের শেষ থাকে না। কচুরিপানা আইসা সাঁকোডা ভাইঙা দেয়। তখন পোলাপান স্কুলে যাইতে পারে না। হাট-বাজারে যাওয়া বন্ধ হয়া যায়। পরে আমরা নিজেরা চ্যন্দা (চাঁদা) তুইলা কোনোমতে এইডা ঠিক করি। আমরা সরকারের কাছে এখানে একটা পাকা ব্রিজের জোর দাবি জানাই।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কখনো গ্রামবাসীদের নিজেদের তোলা চাঁদায়, আবার কখনো ইউনিয়ন পরিষদের সামান্য সহযোগিতায় জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সংস্কার করা হয় এই সাঁকো। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে বদলে যাবে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অনেক সহজ হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বুড়াইল নদীর উপরে এই দুর্ভোগের কথা আমরা জানি। এ বছরও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে দুর্যোগকালীন ও জরুরি যাতায়াতের জন্য বুড়াইল নদীর ওপর প্রায় সাতটি বাঁশের সাঁকো মেরামতের কাজ আমাদের চলমান রয়েছে। তবে এই জনপদের দুর্ভোগ লাঘবে এখানে একটি স্থায়ী বরাদ্দ ও পাকা সেতু হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

সাময়িক মেরামত কিংবা আশ্বাসের জোড়াতালিতে আর বাঁচতে চান না সুন্দরগঞ্জের তারাপুর ইউনিয়নের এই অবহেলিত জনপদের মানুষ। হাজারো মানুষের আজীবনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এবং দুই পারের টেকসই যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কোরআন অবমাননার দায়ে সাদুল্লাপুরে আবু হানিফ নামে এক যুবক গ্রেপ্তার

বুড়াইল নদীর বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষের চলাচল: স্থায়ী সেতুর দাবি ভুক্তভোগীদের

Update Time : ১০:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের বুড়াইল নদীর ওপর একটি পাকা সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই গ্রামের হাজারো মানুষ। বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার হচ্ছেন তারা। শুকনো মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই এই দুর্ভোগ বাড়ে কয়েক গুণ। এখানে একটি স্থায়ী সেতুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আকুতি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, কিন্তু আজ পর্যন্ত মেলেনি কোনো টেকসই সমাধান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় চর খোদ্দা ও লাটশালা গ্রামের মানুষের পথচলা। প্রতিদিন এই দুই গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকুরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে হাট-বাজার কিংবা উপজেলা শহরে যাওয়ার জন্য বুড়াইল নদীর ওপরের এই দীর্ঘ ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি ব্যবহার করতে হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলে পার হতে গিয়ে একটু অসাবধান হলেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের নিয়ে পারাপারের সময় চরম বিপাকে পড়তে হয়।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা ও বন্যার মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপদ আরও বাড়ে। উজানের ঢলে ভেসে আসা কচুরিপানার তীব্র চাপে প্রায়ই ভেঙে যায় বাঁশের সাঁকোটি। তখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে নদীর দুই পারের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

চর খোদ্দা গ্রামের বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষা আইলে আমাগো কষ্টের শেষ থাকে না। কচুরিপানা আইসা সাঁকোডা ভাইঙা দেয়। তখন পোলাপান স্কুলে যাইতে পারে না। হাট-বাজারে যাওয়া বন্ধ হয়া যায়। পরে আমরা নিজেরা চ্যন্দা (চাঁদা) তুইলা কোনোমতে এইডা ঠিক করি। আমরা সরকারের কাছে এখানে একটা পাকা ব্রিজের জোর দাবি জানাই।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কখনো গ্রামবাসীদের নিজেদের তোলা চাঁদায়, আবার কখনো ইউনিয়ন পরিষদের সামান্য সহযোগিতায় জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সংস্কার করা হয় এই সাঁকো। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে বদলে যাবে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অনেক সহজ হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বুড়াইল নদীর উপরে এই দুর্ভোগের কথা আমরা জানি। এ বছরও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে দুর্যোগকালীন ও জরুরি যাতায়াতের জন্য বুড়াইল নদীর ওপর প্রায় সাতটি বাঁশের সাঁকো মেরামতের কাজ আমাদের চলমান রয়েছে। তবে এই জনপদের দুর্ভোগ লাঘবে এখানে একটি স্থায়ী বরাদ্দ ও পাকা সেতু হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

সাময়িক মেরামত কিংবা আশ্বাসের জোড়াতালিতে আর বাঁচতে চান না সুন্দরগঞ্জের তারাপুর ইউনিয়নের এই অবহেলিত জনপদের মানুষ। হাজারো মানুষের আজীবনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এবং দুই পারের টেকসই যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।