Dhaka ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ আব্বাসউদ্দীনের জন্মবার্ষিকীতে ভাওয়াইয়া আসর: ও মোর কালারে কালা পঞ্চগড়ের আকাশে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘ সরতেই ধরা দিল হিমালয়ের রূপালি মুকুট ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে ১১ ও হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু দিনাজপুরকে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা জিডি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, অপপ্রচারের অভিযোগ খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, অভিযুক্ত প্রশিক্ষক পলাতক তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা

মালয়েশিয়ায় খুলছে শ্রমবাজার: ছয় মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪৪ Time View

আজকের জনগণ ডেস্ক: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও বড় পরিসরে খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে দেশটি। পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ‘জিরো-কস্ট’ বা সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া হবে এবং সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে কর্মী পাঠানো শুরু হবে।

এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এসব কর্মীর বিমানভাড়াও দিতে হবে না। প্রথম ব্যাচের কর্মীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মালয়েশিয়া সরাসরি বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করেছে এবং আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব এজেন্সি নির্বাচন করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ নিবন্ধিত বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। এর বাইরে অনিবন্ধিত বাংলাদেশিও রয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার অনিবন্ধিত কর্মীদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে।

দালালদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা

শ্রমবাজার খোলার খবরকে কেন্দ্র করে প্রতারণা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের আশঙ্কায় সরকার আগ্রহী কর্মীদের সতর্ক করেছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কাউকে টাকা দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা করানো কিংবা কোনো ব্যক্তি বা দালালের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করা প্রতারক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান গন্তব্য। অতীতে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও প্রতারণা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ছিল। এবার সরকার বলছে, শ্রমবাজারটি স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে পাঠানোর উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের নিরাপদ, নিয়মিত ও কম-খরচের শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

মালয়েশিয়ায় খুলছে শ্রমবাজার: ছয় মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা

Update Time : ০৬:০৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

আজকের জনগণ ডেস্ক: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও বড় পরিসরে খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে দেশটি। পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ‘জিরো-কস্ট’ বা সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া হবে এবং সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে কর্মী পাঠানো শুরু হবে।

এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এসব কর্মীর বিমানভাড়াও দিতে হবে না। প্রথম ব্যাচের কর্মীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মালয়েশিয়া সরাসরি বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করেছে এবং আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব এজেন্সি নির্বাচন করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ নিবন্ধিত বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। এর বাইরে অনিবন্ধিত বাংলাদেশিও রয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার অনিবন্ধিত কর্মীদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে।

দালালদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা

শ্রমবাজার খোলার খবরকে কেন্দ্র করে প্রতারণা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের আশঙ্কায় সরকার আগ্রহী কর্মীদের সতর্ক করেছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কাউকে টাকা দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা করানো কিংবা কোনো ব্যক্তি বা দালালের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করা প্রতারক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান গন্তব্য। অতীতে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও প্রতারণা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ছিল। এবার সরকার বলছে, শ্রমবাজারটি স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে পাঠানোর উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের নিরাপদ, নিয়মিত ও কম-খরচের শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।