Dhaka ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পত্তি ভাগাভাগির জেরে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পর কুড়িগ্রামে এক বাবার লাশ দাফন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • Update Time : ০১:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৫৯ Time View

সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পর এক বাবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার পায়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায়। মৃত সেই বাবার নাম আজিজার রহমান (৭৫)।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সন্তানদের মধ্যে সমঝোতা শেষে স্ট্যাম্পে লিখিত স্বাক্ষর নিশ্চিতের পর লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকার আজিজার রহমান (৭৫) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে আব্দুল হা‌কিম সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে দাফনে আপত্তি তোলেন। ফলে বেলা ১১টার নির্ধারিত জানাজা স্থগিত হয়ে যায়। মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির উঠা‌নে রাখা ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করে।

উভয় পক্ষের সন্তানদের নিয়ে স্থানীয়রা দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, রাত ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়- বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই আট শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসেবে থাকবে। পাশাপাশি আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করার পর রাত ১১টায় তাকে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, মৃত্যুর পর এমন দিন যেন কারও জীবনে কখনো না আসে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সম্পত্তি ভাগাভাগির জেরে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পর কুড়িগ্রামে এক বাবার লাশ দাফন

Update Time : ০১:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পর এক বাবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার পায়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায়। মৃত সেই বাবার নাম আজিজার রহমান (৭৫)।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সন্তানদের মধ্যে সমঝোতা শেষে স্ট্যাম্পে লিখিত স্বাক্ষর নিশ্চিতের পর লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকার আজিজার রহমান (৭৫) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে আব্দুল হা‌কিম সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে দাফনে আপত্তি তোলেন। ফলে বেলা ১১টার নির্ধারিত জানাজা স্থগিত হয়ে যায়। মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির উঠা‌নে রাখা ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করে।

উভয় পক্ষের সন্তানদের নিয়ে স্থানীয়রা দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, রাত ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়- বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই আট শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসেবে থাকবে। পাশাপাশি আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করার পর রাত ১১টায় তাকে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, মৃত্যুর পর এমন দিন যেন কারও জীবনে কখনো না আসে।