
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রেকর্ড পরিমাণ অতিবৃষ্টিতে মাওলানা ভাসানী সেতু সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কটি ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাতে সুন্দরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টির তীব্রতায় সুন্দরগঞ্জ-বেলকা হয়ে হরিপুরের মাওলানা ভাসানী সেতু পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দু’পাশের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় ধসের সৃষ্টি হয়। বেশ কিছু জায়গায় পিচঢালা সড়ক ভেঙে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সড়কটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে সড়কটি দিয়ে ভারী ও মাঝারি সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও অটোরিকশার মতো কিছু হালকা যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মাওলানা ভাসানী সেতু দিয়ে যাতায়াতকারী দূরপাল্লার যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
বেলকা এলাকার বাসিন্দারা আবু তালেব জানান, সড়কের দু’পাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মাটির বাঁধ মজবুত না থাকায় সামান্য অতিবৃষ্টিতেই এটি ধসে গেছে। দ্রুত টেকসই সংস্কার করা না হলে পুরো সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের এই কঙ্কালসার রূপ দেখে কর্তৃপক্ষ ও ইউপি চেয়ারম্যানকে খবর দেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে দিনমজুর পাঠিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাটিভর্তি বস্তা ফেলে সড়কটি আরও ধসে যাওয়া থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়কটি মূলত তিস্তা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধ হিসেবে এতদিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনস্থ ছিল। তবে হরিপুরে তিস্তা নদীর ওপর ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ মাওলানা ভাসানী সেতু নির্মাণকালে কুড়িগ্রামের সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরসহ রংপুর ও গাইবান্ধার যোগাযোগ সুগম করতে সড়কটি সেতু প্রকল্পের আওতায় আসে। ফলে বর্তমানে সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আইডিভুক্ত হয়েছে (আইডি নং- ১৩২৯১২০১২)।
বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ জানান, “পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ উদ্যোগে মাটির বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর সামান্য চেষ্টা করেছি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিষয়টি দ্রুত অবগত করেছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটির সার্বিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সড়কটি মেরামত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

Reporter Name 




















