Dhaka ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোবিন্দগঞ্জে বোরো ধান কাটা নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • ১০৩ Time View

স্টাফ রিপোর্টঃ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। তবে শেষ সময়ে এসে গত সপ্তাহ খানেক থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে উঠতি ধান ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বর্তমানে কৃষকদের বড় সমস্যা শ্রমিক সংকট। এ কারণে সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন থেকেই মাঠ থেকে ধান ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বিগ্ন উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার ধানে গোলা হিসেবে পরিচিত মহিমাগঞ্জ, কোচাশহর ও শিবপুর ইউনিয়নের মধ্যে বিস্তৃত নল্লির বিলে বিস্তীর্ণ এলাকার ধান ক্ষেতের প্রায় সমুদয় ধানই এক সপ্তাহ পর থেকে কেটে ঘরে তোলার উপযুক্ত হয়ে গেছে। আগাম জাতের অল্প কিছু জমির ধান কাটা হলেও ইতোমধ্যেই অনেক ধানক্ষেতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে গেছে। আর একবার সামান্য পরিমাণ বৃষ্টি হলেই এ সব ক্ষেতের ধান তলিয়ে যাবে পানিতে।
গোবিন্দগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমি। সেখানে ৩১ হাজার ১২০ হেক্টর জমি চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আগাম উৎপন্ন ১৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষও হয়ে গেছে।
এ দিকে কৃষকরা বর্তমান আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কৃষি বিভাগও নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের প্রতিকূল পরিবেশে স্বল্প সময়ে ধান কাটার পরামর্শ প্রদান করছে। বর্তমানে জমিতে শতকরা ৮০ ভাগ পেকে যাওয়া ধানগুলো কেটে নিতে কৃষকদের পরামশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিক সঙ্কটের বিকল্প হিসাবে উপজেলায় যে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন রয়েছে, সেগুলো সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন চালু রয়েছে। কোন জায়গায় যদি শ্রমিক সংকট হয়, সেখানে এই মেশিন দিয়ে দ্রুততার সাথে অল্প সময়ে ধান কাটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিকল হারভেস্টার মেশিনগুলোও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, চলতি মৌসুমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬৪ হেক্টও বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারবেন এবং দামও ভালো পাবেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় জাতের ধানের পাশাপাশি উফশী জাতের কিছু ধান কাটা শুরু হয়েছে। যেহেতু স্থানীয় জাতের ধানের কর্তন বেশি হয়েছে তাই ফলন কিছুটা কম। তবে যখন উফশী ও হাইব্রিড জাতের ধান কাটা শুরু হলে ফলন আরও বৃদ্ধি পাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে বোরো ধান কাটা নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

Update Time : ০৯:১৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টঃ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। তবে শেষ সময়ে এসে গত সপ্তাহ খানেক থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে উঠতি ধান ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বর্তমানে কৃষকদের বড় সমস্যা শ্রমিক সংকট। এ কারণে সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন থেকেই মাঠ থেকে ধান ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বিগ্ন উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার ধানে গোলা হিসেবে পরিচিত মহিমাগঞ্জ, কোচাশহর ও শিবপুর ইউনিয়নের মধ্যে বিস্তৃত নল্লির বিলে বিস্তীর্ণ এলাকার ধান ক্ষেতের প্রায় সমুদয় ধানই এক সপ্তাহ পর থেকে কেটে ঘরে তোলার উপযুক্ত হয়ে গেছে। আগাম জাতের অল্প কিছু জমির ধান কাটা হলেও ইতোমধ্যেই অনেক ধানক্ষেতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে গেছে। আর একবার সামান্য পরিমাণ বৃষ্টি হলেই এ সব ক্ষেতের ধান তলিয়ে যাবে পানিতে।
গোবিন্দগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমি। সেখানে ৩১ হাজার ১২০ হেক্টর জমি চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আগাম উৎপন্ন ১৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষও হয়ে গেছে।
এ দিকে কৃষকরা বর্তমান আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কৃষি বিভাগও নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের প্রতিকূল পরিবেশে স্বল্প সময়ে ধান কাটার পরামর্শ প্রদান করছে। বর্তমানে জমিতে শতকরা ৮০ ভাগ পেকে যাওয়া ধানগুলো কেটে নিতে কৃষকদের পরামশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিক সঙ্কটের বিকল্প হিসাবে উপজেলায় যে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন রয়েছে, সেগুলো সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন চালু রয়েছে। কোন জায়গায় যদি শ্রমিক সংকট হয়, সেখানে এই মেশিন দিয়ে দ্রুততার সাথে অল্প সময়ে ধান কাটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিকল হারভেস্টার মেশিনগুলোও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, চলতি মৌসুমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬৪ হেক্টও বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারবেন এবং দামও ভালো পাবেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় জাতের ধানের পাশাপাশি উফশী জাতের কিছু ধান কাটা শুরু হয়েছে। যেহেতু স্থানীয় জাতের ধানের কর্তন বেশি হয়েছে তাই ফলন কিছুটা কম। তবে যখন উফশী ও হাইব্রিড জাতের ধান কাটা শুরু হলে ফলন আরও বৃদ্ধি পাবে।