Dhaka ০৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল নিয়ে সংঘর্ষ: ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, আহত ৪

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪৫ Time View

আলমগীর হোসেন, ঠাকুরগাঁও:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানা এলাকার ‘মন ফিলিং স্টেশনে’ জ্বালানি তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটা এ সংঘর্ষে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া, সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে বাঁশ ফেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

আহতদের মধ্যে রুহিয়া থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলমের নাম জানা গেছে। আহত বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিতরণে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মানা হচ্ছিল না। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুর জব্বারকে ৩০ লিটার তেল দেওয়া হলেও সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হয়। কাউকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার তেল দেওয়া হলেও অনেককে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হচ্ছিল।

এছাড়া, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই না করেই প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে একই গাড়িতে বারবার তেল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান কবির। অনিয়মের অভিযোগে তিনি কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ঢোলারহাট ইউনিয়ন ও রুহিয়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের পর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তেল বিতরণ স্থগিত রেখে ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে চাইলে উত্তেজিত জনতা সড়কে বাঁশ ফেলে তাঁর পথরোধ করে। এ সময় জনতা ফিলিং স্টেশনের তেলের মজুত ও বিতরণের সঠিক হিসাব দাবি করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান কবির সাংবাদিকদের জানান, ফিলিং স্টেশনে ৩৮৪ লিটার পেট্রোল অবশিষ্ট ছিল। তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অবশিষ্ট তেলটুকু বিতরণ করা হয়।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান বলেন, “বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল নিয়ে সংঘর্ষ: ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, আহত ৪

Update Time : ০২:৪২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

আলমগীর হোসেন, ঠাকুরগাঁও:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানা এলাকার ‘মন ফিলিং স্টেশনে’ জ্বালানি তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটা এ সংঘর্ষে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া, সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে বাঁশ ফেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

আহতদের মধ্যে রুহিয়া থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলমের নাম জানা গেছে। আহত বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিতরণে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মানা হচ্ছিল না। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুর জব্বারকে ৩০ লিটার তেল দেওয়া হলেও সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হয়। কাউকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার তেল দেওয়া হলেও অনেককে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হচ্ছিল।

এছাড়া, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই না করেই প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে একই গাড়িতে বারবার তেল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান কবির। অনিয়মের অভিযোগে তিনি কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ঢোলারহাট ইউনিয়ন ও রুহিয়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের পর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তেল বিতরণ স্থগিত রেখে ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে চাইলে উত্তেজিত জনতা সড়কে বাঁশ ফেলে তাঁর পথরোধ করে। এ সময় জনতা ফিলিং স্টেশনের তেলের মজুত ও বিতরণের সঠিক হিসাব দাবি করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান কবির সাংবাদিকদের জানান, ফিলিং স্টেশনে ৩৮৪ লিটার পেট্রোল অবশিষ্ট ছিল। তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অবশিষ্ট তেলটুকু বিতরণ করা হয়।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান বলেন, “বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”