Dhaka ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় দীঘিতে গোসলে নেমে তিন বন্ধুর তর্ক, এক কিশোরকে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ জিইউকের ৩ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: আনন্দলোক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ জিইউকের ৩ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: আনন্দলোক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ গাইবান্ধায় সামাজিক সংগঠন ‘হৃদয়ে চরাঞ্চল’-এর সূচনা সভা অনুষ্ঠিত পলাশবাড়িতে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, এলাকায় থমথমে অবস্থা অবশেষে সত্যি হলো গুঞ্জন, শাকিবের সেই নীতিই মেনেছিলেন বুবলী বিশ্বকাপ ফুটবল সরাসরি দেখাবে বিটিভি বিশেষ অসহায় নারীর জমিসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ, থানায় মেলেনি প্রতিকার গাইবান্ধায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের পুরস্কার বিতরণ গোবিন্দগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু, অসুস্থ ২

পলাশবাড়ীতে ‘মানবতার ঝুড়ি’: এক মুঠো দানে রমজানের উষ্ণতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪৭ Time View
পবিত্র মাহে রমজান—সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসেই মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য শিক্ষা গ্রহণ করে। সেই মানবিক চেতনারই এক বাস্তব ও হৃদয়ছোঁয়া উদাহরণ তৈরি হয়েছে পলাশবাড়ী শহরে। দুস্থ ও অসহায় রোজাদারদের সহায়তায় চালু হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ— ‘মানবতার ঝুড়ি’।
শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমাথা মোড়ে ফলের দোকানগুলোর সামনে রাখা কয়েকটি সাধারণ ঝুড়ি যেন আজ হয়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের আশার প্রতীক। সামর্থ্যবান কেউ স্বেচ্ছায় সেখানে রেখে যাচ্ছেন ফলমূল, খেজুর কিংবা শুকনো খাবার। আর যাদের প্রয়োজন, তারা কোনো সংকোচ ছাড়াই সেখান থেকে সংগ্রহ করছেন ইফতারের সামান্য আয়োজন হিসেবে। দাতা ও গ্রহীতার মাঝখানে নেই কোনো প্রশ্ন, নেই কোনো পরিচয়ের বাধা, আছে শুধু মানবতা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মানবতা কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর পলাশবাড়ী উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে স্থানীয় সুধীজনদের উপস্থিতি উদ্যোগটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে শহরের বিভিন্ন ফলের দোকানে চারটি ঝুড়ি স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দান করতে শুরু করেছেন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দরিদ্র রোজাদার কিংবা পথচারী এখান থেকে প্রয়োজনমতো খাবার সংগ্রহ করছেন। উদ্যোগটির ইতিবাচক সাড়া দেখে আয়োজকরা ভবিষ্যতে ঝুড়ির সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, “রমজান আমাদের ত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। আমরা চাই, সমাজের কেউ যেন অন্তত ইফতারের সময় অনাহারে না থাকেন। ‘মানবতার ঝুড়ি’ সেই লক্ষ্যেই আমাদের ছোট্ট প্রয়াস।”
স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিত্তবানদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামান্য একটি ঝুড়ি হয়তো দারিদ্র্যের চিত্র বদলে দিতে পারবে না, কিন্তু একটি ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে—আর সেটিই সবচেয়ে বড় অর্জন।
রমজানের এই পবিত্র মাসে ‘মানবতার ঝুড়ি’ কেবল খাদ্য বিতরণের আয়োজন নয়; এটি মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় দীঘিতে গোসলে নেমে তিন বন্ধুর তর্ক, এক কিশোরকে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ

পলাশবাড়ীতে ‘মানবতার ঝুড়ি’: এক মুঠো দানে রমজানের উষ্ণতা

Update Time : ০৬:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
পবিত্র মাহে রমজান—সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসেই মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য শিক্ষা গ্রহণ করে। সেই মানবিক চেতনারই এক বাস্তব ও হৃদয়ছোঁয়া উদাহরণ তৈরি হয়েছে পলাশবাড়ী শহরে। দুস্থ ও অসহায় রোজাদারদের সহায়তায় চালু হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ— ‘মানবতার ঝুড়ি’।
শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমাথা মোড়ে ফলের দোকানগুলোর সামনে রাখা কয়েকটি সাধারণ ঝুড়ি যেন আজ হয়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের আশার প্রতীক। সামর্থ্যবান কেউ স্বেচ্ছায় সেখানে রেখে যাচ্ছেন ফলমূল, খেজুর কিংবা শুকনো খাবার। আর যাদের প্রয়োজন, তারা কোনো সংকোচ ছাড়াই সেখান থেকে সংগ্রহ করছেন ইফতারের সামান্য আয়োজন হিসেবে। দাতা ও গ্রহীতার মাঝখানে নেই কোনো প্রশ্ন, নেই কোনো পরিচয়ের বাধা, আছে শুধু মানবতা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মানবতা কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর পলাশবাড়ী উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে স্থানীয় সুধীজনদের উপস্থিতি উদ্যোগটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে শহরের বিভিন্ন ফলের দোকানে চারটি ঝুড়ি স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দান করতে শুরু করেছেন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দরিদ্র রোজাদার কিংবা পথচারী এখান থেকে প্রয়োজনমতো খাবার সংগ্রহ করছেন। উদ্যোগটির ইতিবাচক সাড়া দেখে আয়োজকরা ভবিষ্যতে ঝুড়ির সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, “রমজান আমাদের ত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। আমরা চাই, সমাজের কেউ যেন অন্তত ইফতারের সময় অনাহারে না থাকেন। ‘মানবতার ঝুড়ি’ সেই লক্ষ্যেই আমাদের ছোট্ট প্রয়াস।”
স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিত্তবানদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামান্য একটি ঝুড়ি হয়তো দারিদ্র্যের চিত্র বদলে দিতে পারবে না, কিন্তু একটি ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে—আর সেটিই সবচেয়ে বড় অর্জন।
রমজানের এই পবিত্র মাসে ‘মানবতার ঝুড়ি’ কেবল খাদ্য বিতরণের আয়োজন নয়; এটি মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।