Dhaka ০৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবার কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ নওগাঁ কারা হেফাজতে বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার সাঘাটায় ‘চর’ পাইলট প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত বীরমুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও ‎দাফনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন সুন্দরগঞ্জে ট্রাক-অটোভ্যান সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ১ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাসাদের কাছে বিমান বিব্ধস্ত, পাইলটসহ সকল আরোহীর মৃত্যু

সাঘাটায় জমি ক্রয় করতে গিয়ে প্রতারণায় নি:স্ব এক পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
  • ১৮২ Time View

সাঘাটা সংবাদদাতাঃ বাড়ি করার জন্য জমি ক্রয় করতে গিয়ে প্রতারণার শিকারে পড়ে নি:স্ব হয়েছে এক চা বিক্রেতা অসহায় দরিদ্র পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের সাঁকোয়া গ্রামে । গ্রাহককে অন্যের জমি নিজের হিসেবে দেখিয়ে বিক্রির বায়না পত্র সম্পাদন করে রেজাউল আলম মিঠু নামে একজন চা কিক্রেতার কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন এক প্রতারক। অন্যের জমি বিক্রির বায়নাপত্র করে টাকা নিয়ে একটি পরিবারকে নি:স্ব করে দেয়া এ কেমন প্রতারণা! এ নিয়ে এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও উঠেছে! এলাকায় মহত মাতাব্বর ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও টাকা উদ্ধার হয়নি। অবশেষে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন প্রতারণার শিকার চা বিক্রেতা রেজাউল আলম মিঠু ।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামের মৃত মেহেনত উল্যা ব্যাপারীর ছেলে রাজা মিয়া উল্লেখিত রেজাউল আলম মিঠু মিয়ার উল্যাবাজারস্থ্য চায়ের দোকানে দীর্ঘদিন নিয়মিত চা খাওয়ার জন্য ও ওঠাবসার সুবাদে তার (মিঠু) সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক সময় রাজা মিয়া রেজাউল আলম মিঠুকে তার কিছু জমি বিক্রির প্রস্তাব দেন। এ সময় মিঠুকে জমি বিক্রির বিষযটি আশেপাশের লোকজনের কাছে গোপন রাখার জন্য সর্ত দেন রাজা মিয়া। সর্তে হলে মিঠুকে গোপনে নিয়ে গিয়ে উপজেলার উল্যা মৌজাস্থা ২৫২ নং খতিয়ানে ৩০৫৯ নং দাগে ৩৭ শতক জমির মধ্যে সাড়ে ৪ শতক যা অন্য একজনের নামীয় জমি রাজা মিয়া নিজের হিসেবে দেখান। পরবর্তীতে তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে এক শত টাকা মূল্যের তিনটি (তিন শত টাকার) নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে বিগত ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর ওই জমি বিক্রির (চুক্তি) বায়নাপত্র হয়। এ সময় রাজা মিয়া নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহন করেন। অবিশিষ্ট টাকা দলিল সম্পাদনের সময় পরিশোধ করার কথা। টাকা গ্রহনের পর থেকেই রাজা মিয়া মিঠুর চায়ের দোকানে ওঠাবসা কমিয়ে গাইবান্ধা জেলা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে থাকেন। মিঠু তার সাথে জমি দলিলের বিষয়ে যোগাযোগ করলে তিনি নানা তাটলবাহনা করতে থাকেন। এমতাবস্থায় চায়ের দোকানদার অশিক্ষিত মিঠু লোকজনের মাধ্যমে ওই জমির কাগজ পত্র সংগ্রহ করে জানতে পারেন উল্লেখিত জমির কোনো রেকড পত্র রাজা মিয়ার নামে নেই। সকল রেকডপত্র অনুযায়ী ওই জমির মালিক অন্য ব্যক্তি।
প্রতারণার শিকার ওই চা বিক্রেতা রেজাউল আলম মিঠু জানান, বাড়ি করার জন্য জমি কেনার আশায় সংসারের জিনিসপত্র বিক্রি এবং ধারদেনা করে তাকে টাকা দিয়েছি। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে রাজা মিয়া আমার সাথে এত বড় প্রতারণা করতে পারে এটা কখনো ভাবিনি । আমি আমার পরিবার এখন অসাহায় নি:স্ব। টাকা উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন লোকের কাছে বিচার চেয়েছি, উকিল নোটিশ করেছি টাকা উদ্ধার হয়নি। অবশেষে আদালতে আশ্রায় নিয়েছি।
স্থানীয় ইউনয়ন রিষদের সাবেক ইউপি সদস্য কিশোর মাহমুদ রুবেল , বলেন, মিঠুর কাছ থেকে জমি বিক্রির নামে রাজা মিয়ার টাকা নেয়ার বিষয়টি আমরা জানি, পবরর্তীতে দেখা গেছে জমির মালিম অন্য লোক। যেহেতু ওই জমির মালিক রাজা মিয়া নয় তাহলে মিঠু তাকে জমির টাকা দিবে কেন ? একারণেই মিঠু টাকা ফেরৎ চেয়েছে। অভিযুক্ত মিঠু বলেন, দলিল মূলে জমির মালিক আমি, কোনো কারণে অন্য লোকের নামে রেকড হয়েছে। ওই দাগে এর আগে ১৩ শতক জমি বিক্রি করেছি। বাকী সাড়ে পাঁচ শতক জমি বিক্রির জন্য ওই সময় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছি। এখন তো ওই জমির মূল্য বেশি তাহলে তাকে কি ভাবে জমি দিবো। তা ছাড়া মিঠু আমার কাছ থেকে টাকা ফেরৎ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আমিও জমি ফেরৎ দেয়ার সর্তে আদালতের মাধ্যমে তাকে টাকা ফিরৎ দিতে চেয়েছি। এখানে আমাদের দোষটা কোথায় ? এছাড়াও মিষয়টি কেউ মিমাংসা করে দিতে পারলে তাতেও রাজি আছেন বলে তিনি জানান

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা

সাঘাটায় জমি ক্রয় করতে গিয়ে প্রতারণায় নি:স্ব এক পরিবার

Update Time : ০৭:৩৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

সাঘাটা সংবাদদাতাঃ বাড়ি করার জন্য জমি ক্রয় করতে গিয়ে প্রতারণার শিকারে পড়ে নি:স্ব হয়েছে এক চা বিক্রেতা অসহায় দরিদ্র পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের সাঁকোয়া গ্রামে । গ্রাহককে অন্যের জমি নিজের হিসেবে দেখিয়ে বিক্রির বায়না পত্র সম্পাদন করে রেজাউল আলম মিঠু নামে একজন চা কিক্রেতার কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন এক প্রতারক। অন্যের জমি বিক্রির বায়নাপত্র করে টাকা নিয়ে একটি পরিবারকে নি:স্ব করে দেয়া এ কেমন প্রতারণা! এ নিয়ে এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও উঠেছে! এলাকায় মহত মাতাব্বর ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও টাকা উদ্ধার হয়নি। অবশেষে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন প্রতারণার শিকার চা বিক্রেতা রেজাউল আলম মিঠু ।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামের মৃত মেহেনত উল্যা ব্যাপারীর ছেলে রাজা মিয়া উল্লেখিত রেজাউল আলম মিঠু মিয়ার উল্যাবাজারস্থ্য চায়ের দোকানে দীর্ঘদিন নিয়মিত চা খাওয়ার জন্য ও ওঠাবসার সুবাদে তার (মিঠু) সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক সময় রাজা মিয়া রেজাউল আলম মিঠুকে তার কিছু জমি বিক্রির প্রস্তাব দেন। এ সময় মিঠুকে জমি বিক্রির বিষযটি আশেপাশের লোকজনের কাছে গোপন রাখার জন্য সর্ত দেন রাজা মিয়া। সর্তে হলে মিঠুকে গোপনে নিয়ে গিয়ে উপজেলার উল্যা মৌজাস্থা ২৫২ নং খতিয়ানে ৩০৫৯ নং দাগে ৩৭ শতক জমির মধ্যে সাড়ে ৪ শতক যা অন্য একজনের নামীয় জমি রাজা মিয়া নিজের হিসেবে দেখান। পরবর্তীতে তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে এক শত টাকা মূল্যের তিনটি (তিন শত টাকার) নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে বিগত ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর ওই জমি বিক্রির (চুক্তি) বায়নাপত্র হয়। এ সময় রাজা মিয়া নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহন করেন। অবিশিষ্ট টাকা দলিল সম্পাদনের সময় পরিশোধ করার কথা। টাকা গ্রহনের পর থেকেই রাজা মিয়া মিঠুর চায়ের দোকানে ওঠাবসা কমিয়ে গাইবান্ধা জেলা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে থাকেন। মিঠু তার সাথে জমি দলিলের বিষয়ে যোগাযোগ করলে তিনি নানা তাটলবাহনা করতে থাকেন। এমতাবস্থায় চায়ের দোকানদার অশিক্ষিত মিঠু লোকজনের মাধ্যমে ওই জমির কাগজ পত্র সংগ্রহ করে জানতে পারেন উল্লেখিত জমির কোনো রেকড পত্র রাজা মিয়ার নামে নেই। সকল রেকডপত্র অনুযায়ী ওই জমির মালিক অন্য ব্যক্তি।
প্রতারণার শিকার ওই চা বিক্রেতা রেজাউল আলম মিঠু জানান, বাড়ি করার জন্য জমি কেনার আশায় সংসারের জিনিসপত্র বিক্রি এবং ধারদেনা করে তাকে টাকা দিয়েছি। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে রাজা মিয়া আমার সাথে এত বড় প্রতারণা করতে পারে এটা কখনো ভাবিনি । আমি আমার পরিবার এখন অসাহায় নি:স্ব। টাকা উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন লোকের কাছে বিচার চেয়েছি, উকিল নোটিশ করেছি টাকা উদ্ধার হয়নি। অবশেষে আদালতে আশ্রায় নিয়েছি।
স্থানীয় ইউনয়ন রিষদের সাবেক ইউপি সদস্য কিশোর মাহমুদ রুবেল , বলেন, মিঠুর কাছ থেকে জমি বিক্রির নামে রাজা মিয়ার টাকা নেয়ার বিষয়টি আমরা জানি, পবরর্তীতে দেখা গেছে জমির মালিম অন্য লোক। যেহেতু ওই জমির মালিক রাজা মিয়া নয় তাহলে মিঠু তাকে জমির টাকা দিবে কেন ? একারণেই মিঠু টাকা ফেরৎ চেয়েছে। অভিযুক্ত মিঠু বলেন, দলিল মূলে জমির মালিক আমি, কোনো কারণে অন্য লোকের নামে রেকড হয়েছে। ওই দাগে এর আগে ১৩ শতক জমি বিক্রি করেছি। বাকী সাড়ে পাঁচ শতক জমি বিক্রির জন্য ওই সময় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছি। এখন তো ওই জমির মূল্য বেশি তাহলে তাকে কি ভাবে জমি দিবো। তা ছাড়া মিঠু আমার কাছ থেকে টাকা ফেরৎ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আমিও জমি ফেরৎ দেয়ার সর্তে আদালতের মাধ্যমে তাকে টাকা ফিরৎ দিতে চেয়েছি। এখানে আমাদের দোষটা কোথায় ? এছাড়াও মিষয়টি কেউ মিমাংসা করে দিতে পারলে তাতেও রাজি আছেন বলে তিনি জানান