
আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা
মাঘের হাড়কাঁপানো শীতের জরাজীর্ণতা শেষে প্রকৃতিতে নতুনের কেতন উড়িয়ে আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে গাইবান্ধা জেলাজুড়ে প্রকৃতি সেজেছে এক অপরূপ সাজে। বিশেষ করে জেলার গ্রাম-বাংলার পথ-ঘাট ও লোকালয়ে গাছে গাছে ফুটে থাকা রক্তরাঙা শিমুল ফুল জানান দিচ্ছে-শীত বিদায় নিয়েছে, এসেছে ঋতুরাজ।
আজকের এই বিশেষ দিনে গাইবান্ধার আকাশ-বাতাস যেন শিমুলের রঙে রঙিন। নীল আকাশের ক্যানভাসে টকটকে লাল শিমুল ফুল দেখে মনে হচ্ছে, প্রকৃতি যেন ঋতুরাজকে বরণ করতে ডালে ডালে লাল গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে কচি কিশলয়, আর কোকিলকণ্ঠী বসন্তের মাতাল সমীরণ দোলা দিচ্ছে মানুষের মনেও।
বসন্তের এই আগমনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কবি আবু তাহের বলেন, “বাংলার ঋতুচক্রের পালাবদলে বসন্ত এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রায় এবং মননেও লাগে নতুনের ছোঁয়া।”
শিমুল তলায় দাঁড়িয়ে বসন্তের বন্দনা করতে গিয়ে সাহিত্যিক অমিতাভ দাস হিমুন বলেন, “শীতের রুক্ষতা মুছে ফালগুনের প্রথম দিনেই প্রকৃতি তার আপন লাবণ্য ফিরে পায়। গাছে গাছে এই যে রঙের মেলা, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সেই অমোঘ পংক্তি-‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত’।”
প্রকৃতির এই পালাবদল নিয়ে লেখক ও অধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম মন্তব্য করেন, “বাংলার প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যই আমাদের নিজস্ব সৌন্দর্য। বসন্তের আগমনে কেবল প্রকৃতি নয়, মানুষের হৃদয়েও লাগে আনন্দের দোলা। এই মেলবন্ধন গাইবান্ধার পরিবেশকে করে তুলেছে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।”

Reporter Name 






















