
নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁজুড়ে এখন ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুম। কিন্তু মাঠে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। বাড়তি মজুরি, শ্রমিক সংকট আর অনিশ্চিত আবহাওয়ায় সময়মতো ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে প্রতিদিন। এমন বাস্তবতায় রাজনীতির মঞ্চ ছেড়ে সরাসরি ধানের মাঠে নেমে কৃষকের পাশে দাঁড়ালেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল।
শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের গোপালতলা মোড় এলাকায় শ্রমিক দলের উদ্যোগে দিনব্যাপী ধান কাটার কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। হাতে কাস্তে তুলে কৃষকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধান কাটতে দেখা যায় এমপিকে। মাঠজুড়ে তখন উৎসুক মানুষের ভিড়। কেউ মোবাইলে ভিডিও করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছেন। একজন সংসদ সদস্য নিজেই নেমে পড়েছেন কৃষকের ঘাম ঝরানো কাজে।
চলতি মৌসুমে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক কৃষক সময়মতো ধান কাটতে না পেরে বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন। এমন পরিস্থিতিতে এমপির মাঠে নেমে ধান কাটার ঘটনাকে স্থানীয়রা কৃষকের প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতার বার্তা হিসেবে দেখছেন।
কৃষক আলম হোসেন বলেন, “আমি গত ৮-১০ দিন ধরে কয়েক জন শ্রমিকের মাঠে মাঠে ঘুরেছি শ্রমিক পাইনি। চাইলেও সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না। এমপি সাহেব নিজে মাঠে এসে ধান কেটে দিলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। মনে হচ্ছে আমাদের কষ্ট কেউ বুঝছে।”
একই এলাকার কৃষক বেলু হোসেন বলেন, “বৃষ্টি নামলে ধান শেষ হয়ে যাবে। আজ নেতাকর্মীরা এসে ধান কেটে দিচ্ছেন। এতে অনেক উপকার হলো। একজন এমপি মাঠে নেমে কাজ করছেন,এটা আগে দেখিনি।”
ধান কাটার ফাঁকে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল। খোঁজ নেন উৎপাদন খরচ, শ্রমিক সংকট, বাজারদর ও কৃষকদের নানা সমস্যার বিষয়ে।
এ সময় এমপি ফজলে হুদা বলেন, “মহাদেবপুর ও বদলগাছী দুই উপজেলায় আজ শ্রমিক দলের উদ্যোগে ধান কাটা হচ্ছে। বিশেষ করে বিধবা, এতিম ও অসচ্ছল কৃষক যারা শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছেন না, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই দেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষক যাতে তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়, সে জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য অ্যাপস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের কোন এলাকায় ধানের কী দাম চলছে, কৃষক সহজেই তা জানতে পারবেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জল বলেন, “সাধারণত নেতাদের আমরা শুধু মঞ্চে দেখি। কিন্তু আজ একজন এমপিকে মাঠে নেমে কৃষকের সঙ্গে ধান কাটতে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। এতে কৃষকরাও মানসিকভাবে সাহস পাচ্ছেন।”
চেরাগপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বিশু বলেন, “কৃষকের কষ্ট বুঝে পাশে দাঁড়ানোটা অনেক বড় বিষয়। শুধু বক্তব্য দিলে মানুষ ভুলে যায়, কিন্তু মাঠে নেমে কাজ করলে সেটা মানুষের মনে থাকে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে কাস্তে হাতে এমপি ফজলে হুদার ধান কাটার ভিডিও ও ছবি। মোবাইল থেকে মোবাইলে ঘুরছে সেই দৃশ্য। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং কৃষকের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

Reporter Name 





















