Dhaka ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০ গাইবান্ধায় সংঘাত সংবেদনশীলতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনে চার দিনের কর্মশালা শুরু ঢাকা-রংপুর লংমার্চ: পলাশবাড়ীর পথসভা সফল করতে গাইবান্ধায় প্রস্তুতি সভা বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে এনসিপির প্রস্তাবকে আমলে নিচ্ছে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সাথে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মত বিনিময় উত্তরসংযোগ: নদীর দুই পাড় আর একটি অপেক্ষার গল্প গাইবান্ধায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কমিটির সমন্বয় সভা গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও মেয়ে আহত ১০ মাস বিচারকহীন সাদুল্লাপুর সহকারী জজ আদালত, ঝুলে আছে প্রায় ৪ হাজার মামলা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমার বড় অর্জন

এক নলকূপের আওতায় শতাধিক একর জমি, বিকল্প নলকূপের দাবিতে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৯ Time View
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভাধীন নুরজাহানপুর মৌজায় ১শ ২৫ একর জমির আওতায় একটি গভীর নলকূপ হওয়ায় কৃষি জমিতে সেচের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিকল্প নলকূপ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরজাহানপুর গ্রামের কৃষকরা এ মানববন্ধন করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ১শ ২৫ একর জমির বিপরীতে মাত্র একটি গভীর নলকূপ থাকায় সবাই প্রয়োজনের সময়ে সেচের পানি পাচ্ছেন না। এই সময়ে আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কুশি গজানোর জন্য জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রয়োজন। কিন্তু সেচের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে কোথাও কোথাও জমির মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। সময়মতো পানি না পেলে কম ফলনের পাশাপাশি চাষাবাদে পুরো বিনিয়োগও লোকসানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের ভাষ্য, এটি কোনো এক মৌসুমের সমস্যা নয়; প্রতিবছরই সেচের পানির সংকটে পড়তে হয় তাদের। তাই সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ নয়, বরং জমির পরিমাণ অনুযায়ী স্থায়ী ও পর্যাপ্ত সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষক সামছুল বলেন, ‘১শ ২৫ একর জমির জন্য এখানে মাত্র একটি নলকূপ বসানো হয়েছে। এই একটি নলকূপ দিয়ে সবাইকে সময় মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ পানি পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন না। পানির অভাবে জমিতে ফাটল ধরেছে। বিঘা প্রতি বীজ, সার ও কীটনাশক বাবদ এখন পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সময় মতো পানি দিতে না পারলে সেই বিনিয়োগই লোকসানে পরিণত হবে।’
অন্য আরেক কৃষক বলেন, ‘এই জমির ফসল দিয়েই আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। এখন যদি দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ বসানো না হয়, তাহলে ধানের ফলন নিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে। জমির দূরত্ব ও প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুত এখানে আরেকটি নলকূপ স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।’
মানববন্ধন থেকে কৃষকরা দ্রুত গভীর নলকূপ স্থাপন, বিদ্যমান সেচ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষকদের সময় মতো সেচের পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে কথা হলে বিএডিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান সুজন বলেন, নুরজাহানপুরের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। আমরা আবার বিষয়টি সুবিবেচনাপূর্বক পূনরায় তদন্ত করে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হবো।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবানা তানজিন বলেন, “মানববন্ধনের বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না, কারণ আজ আমি অফিসে উপস্থিত ছিলাম না। সেচ সংক্রান্ত একটি নির্ধারিত নীতিমালা রয়েছে। আমরা নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করতে পারি না এবং নীতিমালার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়াও সম্ভব নয়।’’
নীতিমালার মধ্যে থাকলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স দিয়ে থাকি। তাই এ বিষয়ে মানববন্ধন করার প্রয়োজন কেন হচ্ছে, সেটি আমার বোধগম্য নয়। নীতিমালার আওতায় কেউ আবেদন করলে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী তাকে লাইসেন্স দেওয়া হবে।”
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০

এক নলকূপের আওতায় শতাধিক একর জমি, বিকল্প নলকূপের দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : ০৪:১৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভাধীন নুরজাহানপুর মৌজায় ১শ ২৫ একর জমির আওতায় একটি গভীর নলকূপ হওয়ায় কৃষি জমিতে সেচের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিকল্প নলকূপ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরজাহানপুর গ্রামের কৃষকরা এ মানববন্ধন করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ১শ ২৫ একর জমির বিপরীতে মাত্র একটি গভীর নলকূপ থাকায় সবাই প্রয়োজনের সময়ে সেচের পানি পাচ্ছেন না। এই সময়ে আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কুশি গজানোর জন্য জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রয়োজন। কিন্তু সেচের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে কোথাও কোথাও জমির মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। সময়মতো পানি না পেলে কম ফলনের পাশাপাশি চাষাবাদে পুরো বিনিয়োগও লোকসানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের ভাষ্য, এটি কোনো এক মৌসুমের সমস্যা নয়; প্রতিবছরই সেচের পানির সংকটে পড়তে হয় তাদের। তাই সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ নয়, বরং জমির পরিমাণ অনুযায়ী স্থায়ী ও পর্যাপ্ত সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষক সামছুল বলেন, ‘১শ ২৫ একর জমির জন্য এখানে মাত্র একটি নলকূপ বসানো হয়েছে। এই একটি নলকূপ দিয়ে সবাইকে সময় মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ পানি পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন না। পানির অভাবে জমিতে ফাটল ধরেছে। বিঘা প্রতি বীজ, সার ও কীটনাশক বাবদ এখন পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সময় মতো পানি দিতে না পারলে সেই বিনিয়োগই লোকসানে পরিণত হবে।’
অন্য আরেক কৃষক বলেন, ‘এই জমির ফসল দিয়েই আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। এখন যদি দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ বসানো না হয়, তাহলে ধানের ফলন নিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে। জমির দূরত্ব ও প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুত এখানে আরেকটি নলকূপ স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।’
মানববন্ধন থেকে কৃষকরা দ্রুত গভীর নলকূপ স্থাপন, বিদ্যমান সেচ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষকদের সময় মতো সেচের পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে কথা হলে বিএডিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান সুজন বলেন, নুরজাহানপুরের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। আমরা আবার বিষয়টি সুবিবেচনাপূর্বক পূনরায় তদন্ত করে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হবো।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবানা তানজিন বলেন, “মানববন্ধনের বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না, কারণ আজ আমি অফিসে উপস্থিত ছিলাম না। সেচ সংক্রান্ত একটি নির্ধারিত নীতিমালা রয়েছে। আমরা নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করতে পারি না এবং নীতিমালার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়াও সম্ভব নয়।’’
নীতিমালার মধ্যে থাকলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স দিয়ে থাকি। তাই এ বিষয়ে মানববন্ধন করার প্রয়োজন কেন হচ্ছে, সেটি আমার বোধগম্য নয়। নীতিমালার আওতায় কেউ আবেদন করলে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী তাকে লাইসেন্স দেওয়া হবে।”