Dhaka ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত নিরাপদ নওগাঁ গঠনে শিক্ষার্থীদের সাথে র‍্যাবের মতবিনিময় সভা অভিভাবকের উদাসীনতাই তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়ের জন্য দায়ী? এবার সয়াবিন তেলে মিলল বিপুল পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ১২, আহত ১০

​কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঈদুল ফিতরের দিন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী একটি মালবাহী ট্রেন (ওয়ান আপ) পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের প্রভাবে ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের সিগন্যালম্যানের চরম অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার কল করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, “প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, রেলক্রসিংয়ে সঠিক সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে এবং এই দুর্ঘটনা ঘটে।”

​কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, “হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি ১০ জনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।”
​আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ১২, আহত ১০

Update Time : ০৯:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

​কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঈদুল ফিতরের দিন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী একটি মালবাহী ট্রেন (ওয়ান আপ) পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের প্রভাবে ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের সিগন্যালম্যানের চরম অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার কল করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, “প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, রেলক্রসিংয়ে সঠিক সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে এবং এই দুর্ঘটনা ঘটে।”

​কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, “হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি ১০ জনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।”
​আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।