
সম্পাদকীয়
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আর নিছক যোগাযোগ, বিনোদন কিংবা ব্যক্তিগত মত প্রকাশের জায়গা নয়। এটি সংবাদ পাওয়া, রাজনৈতিক মত গঠন, সামাজিক বিতর্ক এবং জনমত তৈরির অন্যতম প্রভাবশালী পরিসরে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুকের নিউজফিডে প্রতিদিন সত্য, অর্ধসত্য ও অসত্য পাশাপাশি ছুটছে। বক্তব্যের কয়েক সেকেন্ডের খণ্ডিত ভিডিও, পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার নামে প্রচার, যাচাইহীন স্ক্রিনশট, সম্পাদিত ক্লিপ, ব্যক্তিগত মন্তব্য কিংবা রাজনৈতিক দাবি—মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের কাছে। যাচাইয়ের আগেই শেয়ার, প্রেক্ষাপট বোঝার আগেই মন্তব্য, আর প্রমাণ আসার আগেই দেওয়া হচ্ছে রায়। তথ্যের সত্যতার চেয়ে তার গতি ও জনপ্রিয়তা যেন অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বাসযোগ্যতার নতুন মাপকাঠি হয়ে উঠছে।
আরও উদ্বেগের বিষয়, একই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই বা ততোধিক বিপরীত ‘সত্য’ নিয়ে হাজির হচ্ছে। একটি পক্ষ যে ভিডিওকে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ সেটিকেই সাজানো প্রচারণা বলছে। যে পোস্ট এক গোষ্ঠীর কাছে সত্যের দলিল, অন্য গোষ্ঠীর কাছে সেটি ষড়যন্ত্র। কে কী বলেছেন, তার চেয়ে কে কোন পক্ষের—অনেক সময় সেটিই বক্তব্য গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের প্রধান বিবেচনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। লাইক, শেয়ার, ভিউ ও মন্তব্যের সংখ্যা যেন সত্যতার পক্ষে এক ধরনের গণভোট। অথচ হাজারবার বলা একটি অসত্য কি সত্য হয়ে যায়? লাখো মানুষের সমর্থন কি কোনো দাবিকে প্রমাণে পরিণত করতে পারে?
উত্তর স্পষ্ট—পারে না।
জনপ্রিয়তা মানুষের পছন্দ, আবেগ, বিশ্বাস ও সমর্থনের প্রকাশ। সত্যের ভিত্তি তথ্য, যুক্তি, প্রমাণ ও বাস্তবতা। একটি বক্তব্য দশজন বিশ্বাস করতে পারেন, দশ লাখ মানুষও করতে পারেন। বিশ্বাসীর সংখ্যা বক্তব্যটির সামাজিক প্রভাব বাড়াতে পারে; তার সত্যতা নয়। সত্যের কোনো ভোটাভুটি নেই।
যুক্তিবিদ্যায় বহুল প্রচলিত একটি ভ্রান্তি হলো—অনেক মানুষ কোনো কিছু বিশ্বাস করছে, অতএব সেটিই সত্য। বাস্তবে জনসমর্থন কোনো দাবির প্রমাণ নয়। মিথ্যার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে; তাতে মিথ্যার চরিত্র বদলায় না। ইতিহাসে বহু ধারণা একসময় প্রায় প্রশ্নাতীত ছিল, পরে পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও প্রমাণের মুখে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আবার বহু সত্য প্রথমে অজনপ্রিয় বা সংখ্যালঘুর বক্তব্য ছিল, পরে প্রমাণের শক্তিতেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের সক্রেটিক চিন্তার একটি শিক্ষা আজকের ডিজিটাল যুগেও তাই অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক—কোনো বক্তব্য শুধু প্রচলিত, জনপ্রিয় কিংবা ক্ষমতাবান কারও মুখ থেকে এসেছে বলেই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। প্রশ্ন হতে হবে: কেন এটি বিশ্বাস করব? যুক্তি কী? প্রমাণ কোথায়? বিপরীত তথ্য কী বলছে?
সংখ্যাগরিষ্ঠতা সিদ্ধান্ত দেয়, সত্য নয়
গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার গুরুত্ব অপরিসীম। নির্বাচন, সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মত রাজনৈতিক বৈধতা দেয়। কিন্তু রাজনৈতিক বৈধতা আর সত্যের বৈধতা এক বিষয় নয়।
একটি নির্বাচনে ৫১ শতাংশ ভোটার কোনো পক্ষকে সমর্থন করলে সেই পক্ষ সরকার গঠনের গণতান্ত্রিক অধিকার পেতে পারে। তার অর্থ এই নয় যে ওই ৫১ শতাংশ মানুষের প্রতিটি বিশ্বাস সত্য এবং বাকি ৪৯ শতাংশের প্রতিটি বক্তব্য মিথ্যা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠন করতে পারে; সত্য তৈরি করতে পারে না।
এই পার্থক্য ভুলে গেলে গণতন্ত্র সংখ্যার দম্ভে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে কারণেই গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়; এর অপরিহার্য ভিত্তি আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুর অধিকার এবং স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম। সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষমতাকেও আইন ও জবাবদিহিতার মধ্যে রাখাই পরিণত গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য।
সত্যেরও কি দলীয় পরিচয় আছে?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আনা প্রয়োজন—সত্য খোঁজা হচ্ছে, নাকি ‘নিজের পক্ষের সত্য’ খোঁজা হচ্ছে?
কোনো বক্তব্য শোনার পর প্রথম প্রশ্ন অনেক সময় হয় না—এর প্রমাণ কী? বরং প্রশ্ন হয়—কে বলেছেন, তিনি কোন দলের, কোন পক্ষের? বক্তা ‘নিজের পক্ষের’ হলে বক্তব্য সহজে গ্রহণ করা হয়; বিপরীত পক্ষের হলে একই বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রমাণ দেখার আগেই সন্দেহ তৈরি হয়।
ফলে তথ্যেরও যেন দলীয় পরিচয় তৈরি হচ্ছে।
একই ঘটনা নিয়ে বিপরীত রাজনৈতিক পক্ষ বিপরীত বয়ান হাজির করে। সমর্থকেরা নিজ নিজ বয়ানকে সত্য হিসেবে প্রচার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই বিভাজনকে আরও তীব্র করে। ঘটনা আসলে কী—সেই অনুসন্ধানের চেয়ে কার বয়ান জিতল, সেটিই অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কিন্তু সত্য কোনো দলের সদস্য নয়। সত্যের রাজনৈতিক রং নেই, দলীয় কার্যালয় নেই, ভোটের প্রতীকও নেই।
সুতরাং নাগরিকের প্রশ্ন হওয়া উচিত—কে বলেছেন নয়, কী বলেছেন; কত মানুষ বলছে নয়, প্রমাণ কী।
নিজের পক্ষকেও প্রশ্ন করতে হবে
প্রতিপক্ষের ভুল ধরতে সমাজে আগ্রহের অভাব নেই। সংকট দেখা দেয় নিজের পক্ষের ভুলের ক্ষেত্রে। মানুষ সাধারণত নিজের পূর্ববিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য সহজে গ্রহণ করে এবং বিপরীত তথ্যকে বেশি সন্দেহ করে। রাজনৈতিক মেরুকরণ এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে।
তখন সত্য অনুসন্ধানের পরিবর্তে নিজের বিশ্বাসকে সত্য প্রমাণ করার উপাদান খোঁজা শুরু হয়।
একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের কোনো রাজনৈতিক মত থাকবে না—এমন নয়। বরং গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার পরিচয় হলো, নিজের পছন্দের নেতা বা পক্ষকেও সেই একই প্রশ্ন করা, যে প্রশ্ন প্রতিপক্ষকে করা হয়। নিজের পক্ষের ভুলকে ভুল বলার এবং প্রতিপক্ষের সত্য বক্তব্যকে সত্য হিসেবে স্বীকার করার সাহস থাকতে হবে।
সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতার আসল পরীক্ষা তখনই, যখন সত্যটি নিজের পক্ষের জন্য অস্বস্তিকর।
ভাইরাল হওয়া সত্য হওয়ার প্রমাণ নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথ্যপ্রবাহকে অভূতপূর্বভাবে উন্মুক্ত করেছে। একজন সাধারণ নাগরিকও এখন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে বিপুল মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারেন। এই শক্তির গণতান্ত্রিক মূল্য অবশ্যই রয়েছে।
কিন্তু একই শক্তি মিথ্যার হাতেও আছে।
একটি বিকৃত ছবি সত্যের চেয়ে দ্রুত ছড়াতে পারে। কয়েক সেকেন্ডের প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন ভিডিও দীর্ঘ বক্তব্যের অর্থ পাল্টে দিতে পারে। একটি চমকপ্রদ অর্ধসত্য নিরস সত্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি শেয়ার পেতে পারে। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার লড়াই শুধু তথ্যের নয়—মনোযোগ দখলেরও লড়াই।
এর সঙ্গে রয়েছে অ্যালগরিদমের প্রভাব। ব্যবহারকারী যে ধরনের বক্তব্যে আগ্রহ দেখান, সেই ধরনের কনটেন্টই তাঁর সামনে আরও বেশি আসতে পারে। একসময় তাঁর মনে হতে পারে—‘সবাই তো একই কথা বলছে।’ বাস্তবে সবাই হয়তো তা বলছে না; একই মতের প্রতিধ্বনির মধ্যেই তিনি অবস্থান করছেন।
তাই একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন—ভাইরাল মানেই সত্য নয়, ট্রেন্ডিং মানেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, আর বেশি লাইক মানেই বেশি নির্ভুল নয়।
প্রশ্ন করা মানে বিরোধিতা নয়
কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করলে প্রতিষ্ঠানবিরোধী, কোনো নেতাকে প্রশ্ন করলে নেতাবিরোধী, আর প্রচলিত মতকে প্রশ্ন করলে সমাজবিরোধী—এ ধরনের সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়।
প্রশ্ন শত্রুতা নয়। দায়িত্বশীল প্রশ্ন জবাবদিহিতার প্রথম শর্ত। যে নেতৃত্ব প্রশ্ন সহ্য করতে পারে না, সে নিজের ভুল জানার পথ বন্ধ করে দেয়। আর যে সমাজ প্রশ্ন করতে ভয় পায়, সেখানে সত্যের চেয়ে আনুগত্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
গণতন্ত্রে প্রশ্ন কোনো অপরাধ নয়; প্রশ্ন নাগরিকের অধিকার এবং ক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় অস্বস্তি।
গণমাধ্যমের দায় আরও বেশি
এই বাস্তবতায় গণমাধ্যমের দায়িত্ব অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। সংবাদমাধ্যমের কাজ জনপ্রিয় বক্তব্যের মাইক হওয়া নয়; তার কাজ বক্তব্য যাচাই করা। সরকার বলুক, বিরোধী দল বলুক, আন্দোলনকারী বলুক, জনপ্রিয় ব্যক্তি বলুন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষ বলুক—সাংবাদিকতার প্রশ্ন সবার জন্য একই হওয়া উচিত: প্রমাণ কোথায়?
ক্লিকের জন্য উত্তেজক শিরোনাম, অসম্পূর্ণ তথ্য দ্রুত প্রকাশ, সংবাদ ও মতামতের সীমারেখা অস্পষ্ট করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা—এসবের মূল্য শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই দিতে হয়।
গণমাধ্যমের কাজ জনমতের পেছনে হাঁটা নয়; তথ্যের সামনে আলো ফেলা। সেই তথ্য সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, বিরোধী পক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, এমনকি পাঠকের প্রচলিত বিশ্বাসকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে পারে। তবু সত্য যাচাইয়ের দায়িত্ব থেকে গণমাধ্যমের সরে আসার সুযোগ নেই।
শেষ প্রশ্নটি হোক—প্রমাণ কোথায়?
জনপ্রিয়তা নিজে সমস্যা নয়। একটি ভালো ধারণা জনপ্রিয় হওয়া সমাজের জন্য ইতিবাচক। বিপদ শুরু হয় তখনই, যখন জনপ্রিয়তাকে সত্যের সনদ বানানো হয়।
এই জায়গায় নাগরিকের দায়িত্বও স্পষ্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো চাঞ্চল্যকর পোস্ট দেখামাত্র শেয়ার না করে থামতে হবে। শিরোনাম নয়, পুরো সংবাদ পড়তে হবে। ভিডিওর কয়েক সেকেন্ড নয়, সম্ভব হলে তার পূর্ণ বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট দেখতে হবে। স্ক্রিনশটকে প্রমাণ ধরে নেওয়ার আগে মূল উৎস খুঁজতে হবে। একই দাবি একাধিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা প্রাথমিক উৎসে আছে কি না মিলিয়ে দেখতে হবে। পুরোনো ছবি বা ভিডিও নতুন ঘটনার নামে ছড়ানো হচ্ছে কি না—সেটিও যাচাই করতে হবে। আর নিশ্চিত হওয়া না গেলে সবচেয়ে দায়িত্বশীল কাজটি খুব সহজ—শেয়ার না করা।
শুধু তথ্য যাচাই করলেই অবশ্য দায়িত্ব শেষ হয় না। নিজের রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে মিলে যায় বলে কোনো বক্তব্যকে যাচাই ছাড়াই বিশ্বাস করা যাবে না; আবার অপছন্দের পক্ষ থেকে এসেছে বলেই সত্য তথ্য প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। যে মানদণ্ডে প্রতিপক্ষকে বিচার করা হয়, নিজের পক্ষকেও সেই একই মানদণ্ডে বিচার করতে হবে। ভুল তথ্য শেয়ার করে ফেললে তা মুছে দেওয়া, সংশোধন করা এবং প্রয়োজনে ভুল স্বীকার করাও দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ। ভুল করা লজ্জার নয়; প্রমাণ পাওয়ার পরও ভুল আঁকড়ে থাকাই বিপজ্জনক।
মন্তব্য করার ক্ষেত্রেও সংযম প্রয়োজন। যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত করা, বিদ্বেষ ছড়ানো কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণে অংশ নেওয়া শুধু সামাজিক বিভাজনই বাড়ায় না, অসত্যকে আরও শক্তিশালী করে। মতের বিরোধিতা হোক যুক্তি দিয়ে, ব্যক্তিকে অপমান করে নয়। কোনো দাবি সন্দেহজনক মনে হলে প্রশ্ন করা যেতে পারে—উৎস কী, পূর্ণ বক্তব্য কোথায়, প্রমাণ কী?
অর্থাৎ ডিজিটাল যুগে দায়িত্বশীল নাগরিকের একটি সহজ নীতি হতে পারে—থামুন, পড়ুন, উৎস দেখুন, যাচাই করুন, তারপর বিশ্বাস বা শেয়ার করুন।
বিশেষ করে রাজনৈতিক বক্তব্য, ভাইরাল ভিডিও, ফেসবুক পোস্ট কিংবা বহুল প্রচারিত কোনো দাবি সামনে এলে তিনটি প্রশ্ন অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি—
দাবিটি আসলে কী?
এর প্রমাণ কোথায়?
বিপরীত তথ্য বা ব্যাখ্যা কী বলছে?
এই তিনটি প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। সব বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে মত দিতেই হবে—এমন কোনো নাগরিক বাধ্যবাধকতা নেই। কখনো কখনো “আমি এখনো নিশ্চিত নই” বলাটিই সবচেয়ে সৎ ও দায়িত্বশীল অবস্থান।
কারণ শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা মানুষের মতের পরিমাপ; সত্য বাস্তবতার পরিমাপ। লাখো মানুষের করতালি একটি মিথ্যাকে সত্য বানাতে পারে না। আবার সত্যের পাশে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলেও তাঁর একাকিত্ব সত্যকে মিথ্যা করে না।
একটি পরিণত সমাজ গড়ে ওঠে তখনই, যখন নাগরিকেরা শুধু তথ্যের ভোক্তা নন, তথ্যের দায়িত্বশীল বিচারকও হন। যেখানে মানুষ শেয়ার করার আগে যাচাই করে, বিশ্বাস করার আগে প্রমাণ চায়, নিজের পক্ষকেও প্রশ্ন করে, ভুল বুঝলে অবস্থান সংশোধন করে এবং ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে দেখে না।
তাই দায়িত্ব শুধু সরকার, রাজনৈতিক দল কিংবা গণমাধ্যমের নয়—দায় পাঠকেরও, নাগরিকেরও, আমাদের প্রত্যেকেরও। একটি ক্লিক যেমন মিথ্যাকে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে, তেমনি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত সেই মিথ্যার যাত্রা থামিয়েও দিতে পারে।
গণতন্ত্রের জন্য জনমত প্রয়োজন, সত্যের জন্য প্রয়োজন প্রমাণ। আর দায়িত্বশীল নাগরিকের কাজ হলো— জনপ্রিয়তার স্রোতে ভেসে যাওয়া নয়; থামা, প্রশ্ন করা, যাচাই করা এবং প্রমাণের পক্ষ নেওয়া।

Reporter Name 




















