Dhaka ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবার কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ নওগাঁ কারা হেফাজতে বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার সাঘাটায় ‘চর’ পাইলট প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত বীরমুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও ‎দাফনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন সুন্দরগঞ্জে ট্রাক-অটোভ্যান সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ১ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাসাদের কাছে বিমান বিব্ধস্ত, পাইলটসহ সকল আরোহীর মৃত্যু

গাইবান্ধায় বাড়ছে অপরাধ, জনমনে উদ্বেগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • ১৪০ Time View

স্টাফ রিপোর্টঃ গাইবান্ধা জেলায় উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে চুরি, ছিনতাই এবং হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ। শুধু রাতের আঁধারেই নয়, দিনের আলোতেও ঘটছে এসব ঘটনা। নিয়মিত অপরাধ সংঘটিত হলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের ব্যর্থতায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাব এবং মাদকের সহজলভ্যতাই এসব অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলায় ২টি ছিনতাইজনিত হত্যাসহ মোট ২৭টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া, এই সময়ের মধ্যে ৮টি ছিনতাই, ২টি ডাকাতি, ৩৮টি চুরি এবং ৪১টি ধর্ষণসহ মোট ৯৫টি নারী নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে সংঘটিত এসব অপরাধের ঘটনার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন থানায় ৯শ ৯৩টি মামলা হয়েছে।
স্থানীয় বিশিষ্টজন ও ভুক্তভোগীরা জানান, অপরাধীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অধরা থাকায় তাদের মধ্যে এক ধরনের নির্বিঘ্নতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পুলিশের টহল ও নজরদারি কম বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। একই সাথে, সহজলভ্য মাদকদ্রব্য তরুণ সমাজকে অপরাধ জগতে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। মাদকের নেশার খরচ যোগাতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
নাগরিক সংগঠন গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপ বলেন, প্রশাসনের যথাযথ ভূমিকার অভাবেই অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে জানমালের নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরাও বিঘ্নিত হচ্ছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। জেলা জুড়ে মাদকের ব্যাপক বিস্তারই এসব অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়া চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়া এবং চোর, ছিনতাইকারীসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণে অনেকেই থানায় অভিযোগ জানাতেও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) শরিফুল আলম বলেন, কয়েকটি ঘটনার পর পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, সচেতনতা বাড়াতে ও অপরাধ কর্মকাণ্ড বন্ধে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় জেলা জুড়ে নতুন করে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

সুন্দরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জরিমানা

গাইবান্ধায় বাড়ছে অপরাধ, জনমনে উদ্বেগ

Update Time : ০৭:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টঃ গাইবান্ধা জেলায় উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে চুরি, ছিনতাই এবং হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ। শুধু রাতের আঁধারেই নয়, দিনের আলোতেও ঘটছে এসব ঘটনা। নিয়মিত অপরাধ সংঘটিত হলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের ব্যর্থতায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাব এবং মাদকের সহজলভ্যতাই এসব অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলায় ২টি ছিনতাইজনিত হত্যাসহ মোট ২৭টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া, এই সময়ের মধ্যে ৮টি ছিনতাই, ২টি ডাকাতি, ৩৮টি চুরি এবং ৪১টি ধর্ষণসহ মোট ৯৫টি নারী নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে সংঘটিত এসব অপরাধের ঘটনার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন থানায় ৯শ ৯৩টি মামলা হয়েছে।
স্থানীয় বিশিষ্টজন ও ভুক্তভোগীরা জানান, অপরাধীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অধরা থাকায় তাদের মধ্যে এক ধরনের নির্বিঘ্নতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পুলিশের টহল ও নজরদারি কম বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। একই সাথে, সহজলভ্য মাদকদ্রব্য তরুণ সমাজকে অপরাধ জগতে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। মাদকের নেশার খরচ যোগাতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
নাগরিক সংগঠন গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপ বলেন, প্রশাসনের যথাযথ ভূমিকার অভাবেই অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে জানমালের নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরাও বিঘ্নিত হচ্ছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। জেলা জুড়ে মাদকের ব্যাপক বিস্তারই এসব অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়া চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়া এবং চোর, ছিনতাইকারীসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণে অনেকেই থানায় অভিযোগ জানাতেও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) শরিফুল আলম বলেন, কয়েকটি ঘটনার পর পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, সচেতনতা বাড়াতে ও অপরাধ কর্মকাণ্ড বন্ধে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় জেলা জুড়ে নতুন করে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।